kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকার সাধারণ উপকরণগুলো

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২২



বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকার সাধারণ উপকরণগুলো

'দ্য ফাইভ ফ্যাক্টর ওয়ার্ল্ড ডায়েট' বইটি লেখার জন্য গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্যকর দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছেন সেলিব্রিটি প্রশিক্ষক ও পুষ্টিবিদ হার্লে পাস্টারনাম। তিনি দেখতে চেয়েছেন, এসব খাবারে কিভাবে বাড়তি পুষ্টি মেলে? বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যকর খাবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

যেমন জাপানিরা সামুদ্রিক খাবারের অসামান্য আয়োজন করে। আবার চীনের মানুষরা প্রত্যেক খাবারে অন্তত পাঁচ ধরনের রং দেখতে চান।

বিশ্বজুড়ে মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের বৈচিত্র্য তাদের খাদ্য তালিকাকেও করেছে সমৃদ্ধ। বিভিন্ন অংশে দারুণ কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারে বৈচিত্র্য দেখা যায়। কিন্তু এদের মধ্যে বেশ মিলও রয়েছে। এমন খাবার নিয়ে বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

১. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাবার : এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোকেই বোঝায়। এসব খাবার গ্রিস, ইতালি এবং স্পেনের মানুষরা খেয়ে থাকেন। মৌসুমী খাবারগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। গতানুগতিক পদ্ধতিতে রান্না করা হয়। মাংস মাঝে মাঝে পারিবারিক অনুষ্ঠানে খাওয়া হয়।

বিশেষ খাবার : ফল, সবজি, শস্যদানা, শীম জাতীয় খাবার, বাদাম এবং অলিভ ওয়েল। মাছ, মাস আর মদ ঘন ঘন খাওয়া হয় না। রেড মিট, লবণ এবং চিনি খুবই কম খাওয়া হয়।

গবেষণা যা বলে : সেই সত্তরের দশক থেকে এ অঞ্চলের খাবার নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। দেখা গেছে, অলিভ ওয়েলকে মূল উপকরণ করায় ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাদের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিসের ঝুঁকি কমে আসে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে। ইউএস নিউজ এবং ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাবারকে গুণগত মানের দিক থেকে তৃতীয়তে রাখা হয়েছে।

২. নিউ নরডিক খাবার : বিজ্ঞানীরা এ খাবারকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে জানান, ডেনিশ খাবারের তুলনায় এতে ৩৫ শতাংশ কম মাংস থাকে। আবার বেশি শস্যদানা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত উপকরণ থাকে। এসব খাবারের ৭৫ শতাংশই অর্গানিক। নিউ নরডিক খাবারের ফল, সবজি শস্যদানা অনেকটা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাবারের মতোই। অলিভ ওয়েলের পরিবর্তে রাইসরিষার তেল ব্যবহৃত হয়। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনে খাওয়া হয়।

বিশেষ খাবার : রাই, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল এবং বেরি, লিঙ্গোবেরি এবং বিলবেরি, মাটির নিচে উৎপাদিত সবজি, ব্রোকোলি, শালগম, বীট, রাইসরিষার তেল, নিম্নমাত্রার ফ্যাটসমৃদ্ধ দুধ ইত্যাদি বিশেষ খাবার। মাংসের মধ্যে গরু, ভেড়া ও রিনডিয়ার প্রিয়।

গবেষণা যা বলছে :  আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নরডিক খাবার মানুষের জিনি প্রভাব ফেলে যা পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতেও এসব খাবার উপকারী। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রোধ করে।

৩. প্রচলিত ওকিনাওয়া খাবার : নিম্নমাত্রার ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবার পুষ্টিতে পরিপূর্ণ। ফল ও সবজির প্রচুর খাওয়া হয়। মাংস, প্রক্রিয়াজাত শস্যদানা, চিনি, লবণ এবং ফ্যাট খাওয়া হয় না বললেই চলে। মূলত জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের খাবার।

বিশেষ খাবার : মিষ্টি আলু, চাল, সবুজ পাতাবহুল শাক, সবুজ ও হলুদ সবজি। টফু বা সয়া সসের মতো সয়াবিন-ভিত্তিক খাবার, সামুদ্রিক খাবার, ফল ও চা।

গবেষণা যা বলে : আধুনিক ওকিনাওয়া খাবার জাপানের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে স্থূলতা, বিপাকক্রিয়া সংক্রান্ত সিনড্রোম এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিস বাড়ছে। এই খাবার খেয়েই বিশ্বের দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত মানুষরা বেঁচে রয়েছেন। শতবর্ষী মানুষরা এই বয়সেও যথেষ্ট কর্মঠ এবং প্রাণবন্ত। অনেকের মতে, ক্যালোরি থেকে দূরে থাকার কারণে তার আয়ু অনেক বেড়ে যায়।

৪. গতানুগতিক এশিয়ান খাবার : আসলে এশিয়ার এমন কোনো বিশেষ খাবার নেই। তবে নব্বুইয়ের দশকে একদল আন্তর্জাতিক মানের পুষ্টিবিজ্ঞানী এশিয়ান ফুড পিরামিড তৈরি করেন। সেখানে দেখা যায়, এশিয়ায় চাল, নুডলস, শস্যদানার পাশাপাশি ফল, সবজি, শীম জাতীয় খাবার, বীজ এবং বাদাম জনপ্রিয় খাবার। প্রতিদিনের খাবারে মাছ থাকতে পারে। মাংস বা ডিম সাপ্তাহিক খাবারের তালিকায় চলে যায়।

বিশেষ খাবার : দেশ ও সংস্কৃতিভেদে বিশেষ খাবারের ভিন্নতা রয়েছে।

গবেষণা যা বলে : এশিয়ান দেশগুলোতে স্থুলতা, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিস এবং বিপাকক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে কম দেখা যায়। হার্ভার্ডের এক গবেষক জানান, উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট এবং উচ্চমাত্রা গ্লিসেমিক খাবার এশিয়ান খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৫. ফ্রেঞ্চ প্যারাডক্স খাবার : এই খাবার নিয়ে বেশ চিন্তায় ভোগেন বিজ্ঞানীরা। অনেক কিছুই মেলে না। উন্নত দেশের মধ্যে ফ্রেঞ্চদের স্থূলতার হার সবচেয়ে কম। আবার দীর্ঘায়ু মানুষের তালিকায় বেশ দেখা যায় ফ্রেঞ্চদের। অথচ প্রায় সবজিবিহীন খাবারে এমনটা হওয়ার কথা নয়।

বিশেষ খাবার : পূর্ণ ফ্যাটযুক্তি চিজ ও দই, মাখন, ব্রেড এবং চকোলেট।

গবেষণা যা বলে : বিজ্ঞানীদের মতে, তথাকথিত ফ্রেঞ্চ প্যারাডক্স আসলে ফ্রেঞ্চদের নিয়মিত খাবারের চেয়ে ফ্যাশনেবল জীবনযাপনের খাবার বলে বিবেচিত হয়। তারা খুব অল্প পরিমাণ খান, ধীরে ধীরে খান। আরেক দল বিজ্ঞানীর মতে, রেড ওয়াইন এবং চিজের ইতিবাচক পুষ্টি তাদের স্বাস্থ্যের মূল রহস্য। তাদের অনুসরণ করতে চাইলে তারা কি খান তা দেখলে হবে না। তারা কিভাবে খান তাই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য