kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বামীর প্রতি হিলারি ক্লিনটনের চিঠি: অ্যা লেটার টু মাই ব্রেড উইনার হাজবেন্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৭



স্বামীর প্রতি হিলারি ক্লিনটনের চিঠি: অ্যা লেটার টু মাই ব্রেড উইনার হাজবেন্ড

এখনো যেসব পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হন স্বামী এবং নারীরা বেশিরভাগ সময়ই ঘরে থাকেন তেমন পরিবারগুলোর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন হিলারি ক্লিনটন। স্বামী বিল ক্লিনটনের প্রতি লেখা একটি চিঠিতে এমটাই দেখা গেছে।

হিলারির ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত ইমেইলগুলো থেকে চিঠিটি পাওয়া যায়।
প্রিয় বিল,
একদিন বেলা ৩টার দিকে, কোনো এক বুধবারে আমি মুদি দোকানে যাচ্ছিলাম রাতের খাবার তৈরি করতে কিছু কিনে আনার জন্য। তুমি তো জানো আমি খাদ্য তৈরির ব্যাপারে একটু ঢিলেমি করে আসছিলাম। এবং আগের মতো আর গুছিয়ে কাজ করতে পারছিলাম না। আমি যখন প্রতি রবিবার আমাদের রান্নার বইটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতাম এবং পুরো সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করে আনতাম তোমার কি সে সময়ের কথা মনে আছে? আমি জানি, আমি জানি, সবসসময়ই আমি একটি দ্বিতীয় ট্রিপ তৈরি করতাম। অথচ ফ্রিজে প্রচুর পরিমাণ খাবার মজুদ থাকত।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি ওরকম করি। কিন্তু কাজটি এতোটাই একঘেঁয়ে ছিল যে আমি নিজেকে এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছিলাম না। সুতরাং আমি এখন ‘যখন যা করা যায়’ পদ্ধতি অবলম্বন করছি। যা নিয়ে তুমি বলেছ, আমি এখন একজন ফরাসি নারীর মতো বাজার করি যিনি প্রতিদিনই রাতের খাবারের জন্য দোকানে যান। এটিও কম জ্বালাতনমূলক নয়। তবে অন্তত টেবিলে খাবার আসে।
যাইহোক, বুধবারে বাজারে যাওয়ার সময় আমি ভাবছিলাম আমি তোমার প্রতি কতইনা কৃতজ্ঞ ছিলাম। কারণ যে দিনগুলোতে আমাদের সন্তান ছিল সে দিনগুলোতে সন্ধ্যাবেলায় বা সপ্তাহ শেষে আমাকে একবারের জন্যও মুদি দোকানে যেতে হতো না। সে সময় আমাকে সপ্তাহের যে কোনো একদিন বাজারে গেলেই চলতো। আর এতে আমার জীবন-যাপনের গুনগত মানও বেড়ে গিয়েছিল। কারণ আমাকে দীর্ঘ লাইন ধরার ঝামেলা এবং শেষ মুহূর্তের আগেই দোকানে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়োর ফলে যে মানসিক চাপ তৈরি হয় তার মোকাবেলা করতে হত না। তখন সবসময়ই পরের দিনের একটি সুযোগ ছিল।
তোমার কারণেই আমি এমন একটি জীবন পেয়েছিলাম।
গণমাধ্যমে আমরা সবসময় শুধু একজন কর্মজীবি মায়ের জীবন-যাপনের ধরন কেমন হয় সে ব্যাপারেই শুনে এসেছি। প্রকৃতিগতভাবে ঐহিত্যবাহী বিয়ে যেখানে স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী থাকেন তা এখন পুরোনো দিনের জিনিস বা সেকেলে হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটা সত্য যে, বেশিরভাগ পরিবারের মা এখন ঘরের বাইরে কাজ করেন। কিন্তু গণমাধ্যম সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলে না। অথচ সুনির্দিষ্টতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হলো ঘরে সন্তান আছে এবং বিবাহিত এমন মায়েদের বেশিরভাগই ঘরের বাইরে পূর্ণকালীন কাজ করেন না। যেমনটা তাদের স্বামীরা করেন। আর এক চতুর্থাংশ বিবাহিত মা আদৌ ঘরের বাইরে কাজই করেন না। বাকীরা সন্তানদের লালন-পালন ও পরিবারের চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য একবার ঘরের বাইরে কর্মে যোগ দেন তো আবার ছেড়ে দেন।
বিবাহিত মায়েদের প্রায় ৫০ শতাংশই এখনো এভাবেই ঘরের বাইরে কাজ করেন। এরা এখনো তাদের স্বামীদের আয়ের ওপরই নির্ভরশীল।
স্বামীকে ছাড়া এই মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ঘরে থাকতে পারত না যখন তারা খুবই ছোট। বাচ্চারা স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর স্বামীর সহায়তা ছাড়া এই মায়েরা শুধু খণ্ডকালীন কাজ করতে পারতেন না। স্বামীর সহায়তা ছাড়া তারা কোনোদিন এমনটা ভাবতে পারতো না যে, আমি আজ কাজে যাব না। এমনকি স্বামীর সহায়তা ছাড়া এ ধরনের মায়েরা মধ্য বয়সে এসে ভালো না লাগার কারণে বর্তমান চাকরি ছেড়ে দিয়ে নতুন কোনো চাকরি খুঁজতে পারত না।
তোমার মতো দৃঢ় ও টানা উপার্জনকারী স্বামী এবং তোমার মতো পুরষরাই কোনো নারীকে এমন আরামদায়ক জীবন যাপনের অনুমোদন দিতে পারে।
পূর্ণকালীন এবং বছরব্যাপী কাজ করার ব্যাপারে তোমার সদিচ্ছার কারণেই আমার জন্য এমন জীবন-যাপন সম্ভব হয়েছে। তুমি যেহেতু তোমার বসকে ‘আমি চাকরি ছেড়ে দেব’ বলার মতো স্বাধীনাত চাওনি, নিজের জীবন নিয়ে অন্য আর কী করা যায় তা ভাবতে চাওনি এবং কর্মব্যস্ত কোনো সপ্তাহের মাঝখানে ভেঙ্গে পড়তে চাওনি সে কারণেই আমার এবং আমার সন্তানদের জীবন এতোটা সুন্দর ও আরামদায়ক হয়েছে।
এমনকি যখন বাচ্চারা বড় হয় এবং আমি কাজে ফিরে যাই বাচ্চারা অসুস্থ থাকলে কে কাজে বিরতি দিয়ে ঘরে থাকবে তা নিয়েও আমাদের মাঝে কখনোই ঝগড়া বিবাদ হয়নি। আমিই সবসময় ঘরে থাকতাম। আর তুমিই সবসময় ঘরের বাইরে কাজ করতে।
এতে আমাদের কোনো সমস্যা হত না। আর বাচ্চাদের এবং আমার জন্যও এতে ভালোই হত। বাচ্চারা সবসময়ই ঘরে একজন মাকে পেত। আর আমার জন্য বিশ্বের সব ধরনের স্বাধীনতাই ছিল। তোমারও চাকরি নিয়ে তেমন কোনো কাঠিন্য পোহাতে হত না।
তোমার ওপর নির্ভর করেই আমি একজন লেখিকা হয়ে উঠতে পেরেছিলাম। যা তুমিও জীবনের একটা সময়ে হতে চেয়েছিলে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো লেখকরা পরিবার চালানোর জন্য যথেষ্ট টাকা উপার্জন করতে পারেন না। আর এ কারণেই তুমি লেখক হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেছিলে।
কিন্তু আমি লেখক হতে পেরেছি, শুধু তোমার কারণেই।
বর্তমান সংস্কৃতি আমাদেরকে এই বিশ্বাস করতে বাধ্য করে, যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হন স্বামী সে পরিবার সেকেলে হয়ে গেছে। কিন্তু তুমি এবং আমি জানি তা সত্য নয়। এমন অনেক বিবাহিত মা আছেন যারা পুরোপুরিই তাদের স্বামীর উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমার মতো লাখ লাখ সুখি মা আছেন যারা ঘরের বাইরে কিছুটা কাজ করেন। কিন্তু এরপরও স্বামীর আয়ের ওপরই নির্ভরশীল।
সুতরাং আমি তোমাকে এই মুহূর্তে তুমি যা কিছু করেছ তার সবকিছুর জন্যই আমার নিজের ও আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তুমি এমনটা ভেবোনা যে, তুমি যে আত্মত্যাগ করেছ এবং এখনো করে যাচ্ছ তা আমি লক্ষ্য করছি না। আমাদের সংস্কৃতি হয়তো এখন আর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীর ব্যাপারটিকে গ্রাহ্য করে না, কিন্তু আমি করি।
আমি তোমাকে ভালোবাসি
সূত্র: ফক্স নিউজ


মন্তব্য