kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'সঙ্গীর অভিযোগ আমি কুমারী নই, কিভাবে বোঝাবো?'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৭



'সঙ্গীর অভিযোগ আমি কুমারী নই, কিভাবে বোঝাবো?'

অস্বস্তিকর এক সমস্যায় পড়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণী। এ নিয়ে তিনি চিঠি লিখেছেন বিশেষজ্ঞের কাছে।

তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল হেলথ কেয়ারের সোশাল সাইকোলজিস্ট ও যৌন বিশেষজ্ঞ পেত্রা বয়ন্টন।

প্রশ্ন : আমার বয়স ২২ এবং আমি কুমারী। এর কারণ আমি অপেক্ষা করতে চাই। আবার মনের মতো সঙ্গী না পাওয়াটাও একটা কারণ। তবে একজনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছে। তাকে আমার মনের মানুষটি বলেই মনে হয়। তার সঙ্গে সেক্স করতে চাই। আমার মতো সঙ্গীও কখনও সেক্স করেনি। একদিন খেয়ালবশে সে আমার যোনিপথ দেখে এবং বলে যে আমি কুমারী নই। সে আমার কাছ থেকে সত্য জানতে চায় এবং না বলা পর্যন্ত সম্পর্কে জড়াবে না। আমি জানি না তাকে কিভাবে বোঝাবো যে আমি কুমারী। মনে হয়, হয়ত নিজের বিষয়েই ভুল জানি আমি। তাকে এখন কিভাবে বোঝাতে পারি?

বিশেষজ্ঞের উত্তর : এ বিষয়ে তাকে বোঝানোর উপায় রয়েছে। যদিও এর জন্য বেশ সময় ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এটা বোঝানোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

তোমার ভুল হয়নি। কারণ তুমি নিজের দেহ সম্পর্কে জানো। তোমার যৌন ইতিহাস তুমিই জানো। কিন্তু প্রেমিক তোমাকে বিশ্বাস করছে না। তাকে কি বললে আসলে বিশ্বাস করবে সে বিষয়ে আমিও নিশ্চিত নই। তা ছাড়া পরীক্ষার জন্য তোমার যৌনাঙ্গ দেখার বিষয়টিও অদ্ভুত আচরণ।

তবে এই দেখাদেখির বিষয়টি যৌন উত্তেজনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এটা উভয়ের কাছে উপভোগ্য হতে পারে। তোমার কুমারিত্ব বুঝতে তাকে যোনি দেখানোর বিষয়টিও অদ্ভুত।

তুমি কখনও সেক্স করোনি। কিন্তু জীবনের প্রথমবার যখন কারো সঙ্গে করতে চাইছো তখন সে তোমার কুমারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তোমার সততা নিয়ে কথা বলছে। প্রথম কথা হলো, এমন মানসিকতা যে রাখে তার এমন আচরণের প্রতিবাদ করা উচিত। এই সম্পর্কে প্রেমিকের আচরণ সম্পূর্ণ নেতিবাচক দেখাচ্ছে।

এ বিষয়ে অন্য উপায়ে তুমি এগিয়ে যেতে পারো। তাকে বোঝানোর জন্য তোমার কুমারিত্ব প্রমাণের পরীক্ষা দিতে হবে না। বরং তাকে বলো যে তার আচরণ স্রেফ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

সে যখন দাবি করছে যে তুমি কুমারী নও, তখনই তার ভুল ধারণা সম্পর্কে বোঝাতে হবে তোমাকে। সে কিভাবে এ দাবি করে। তোমার দেহ সম্পর্কে তোমার চেয়ে বেশি সে কিভাবে বোঝে? এ-সংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা করতে তুমি রাজি বলে দিতে পারো। সে যদি যৌনাঙ্গ দেখে এগুলো বুঝতে চায়, তবে তাকে এ বিষয়ে আরো বেশি শিক্ষিত হয়ে আসতে বলো। তোমাকে সে যা বলছে তা আরো বলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারো।

তোমার এসব কথায় সে বুঝে যাবে যদি তার মাথায় বুদ্ধি থাকে। নিজেকে জিজ্ঞাসা করো। এটা কি তোমার আত্মবিশ্বাসের অভাবের ফল? নাকি অভিজ্ঞতার অভাব? নাকি তাকে খুশি করতে চাও? সে এসব বলার সময় তোমার চুপ করে থাকা বড় সমস্যা।

কুমারিত্ব কোনো ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন নয়। এটা একটা ধারণা। এর অর্থ ওই নারীর যোনিপথে কোনো পুরুষের যৌনাঙ্গ প্রবেশ করেনি। এই কুমারিত্ব প্রমাণের কোনো মানসিক ও দৃশ্যমান পরীক্ষা নেই। তাই বলে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জাতিতে এটি পরীক্ষার উপায় নেই তা নয়। তারা কুমারিত্ব বুঝতে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ওপর মনোযোগ দেয়।

প্রেমিককে বোঝাতে কয়েকটি উপায় গ্রহণ করতে পারো।

প্রথমত, তুমি আগে নিজে জানো কুমারিত্ব কি এবং কি না। ইন্টারনেট থেকেই এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য মিলবে। দেহ ও যৌনতা বিষয়ে বিজ্ঞানের কথা জানো।

দ্বিতীয়ত, এ সমস্যায় পড়ে তুমি তাতে জুড়ে থেকো না। বন্ধু, আত্মীয় ও স্বজনদের সঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটাও। এতে নিজেকে আরো বেশি শক্তিশালী মনে হবে।

তৃতীয়ত, প্রেমিককে যৌন বিষয়ে আরো বেশি জানতে আগ্রহী করে তুলতে পারো। তার এসব ধারণা যে ভুল তা বোঝাতে নানা তথ্য উপস্থাপন করতে পারো।

আবার সে যে অভিযোগ তুলেছে তাতে গুরুত্ব না দিয়ে সে তোমাকে শ্রদ্ধা করে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করো। তোমার প্রতি তার বিশ্বাস থাকতে হবে। যদি তার মানসিকতা বদলায় তবে তুমি তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারো।
সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য