kalerkantho


ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে শিশুদের নামকরণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে 'মোহাম্মদ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৮



ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে শিশুদের নামকরণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে 'মোহাম্মদ'

ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের সদ্যজাত পুত্র শিশুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামটি হলো 'মোহাম্মদ'। এক অফিসিয়াল তালিকায় এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

ইংরেজি বানানে কিছুটা হেরফের রয়েছে। কিন্তু মোহাম্মদ নামটি ব্যাপক হারে রাখা হয়। এ নিয়ে কিছুটা বিতর্কও শুরু হয়েছে।

২০১৫ সালে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) এক হিসাবে বলা হয়, ছেলে শিশুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামগুলো হলো অলিভার, জ্যাক এবং হ্যারি। আর মেয়ে শিশুদের নাম এমেলিয়া, অলিভিয়া এবং এমিলি।

মোহাম্মদ নামটি ছিলো জনপ্রিয় তালিকার ১২ নম্বরে। আর মোহাম্মেদ ছিল ২৯ নম্বরে।   এ ছাড়া  মোহাম্মাদ ৬৮ নম্বরে এবং মুহাম্মেদ ছিল ১২১ নম্বরে।

বিভিন্ন বানানে হলেও নাম একই।

এই হিসাবে ব্রিটেনের অলিভার নাম রাখা হয় ৬৯৪১ জন ছেলে শিশুর। আর মোহাম্মদ নামটি বিভিন্ন বানানে রাখা হয় ৭৫৭০ জন শিশুর।

ওএনএস একই নামের ভিন্ন ভিন্ন বানানে প্রত্যেক নামকে আলাদা হিসাবেই বিবেচনা করে। ভিন্ন বানানের ক্ষেত্রে নামগুলোকে আলাদাভাবেই দেখতে হয়। আবার একই ধরনের বানানে লেখা নামগুলোকে একই তালিকাভুক্ত করা উচিত বলে মন করে ওএনএস।

সমস্যা হলো, একই নামের ভিন্ন ভিন্ন বানানে অনেকে তাদের ভিন্নভাবেই উচ্চারণ করেন। আবার অনেকে করেন না।

ওএনএস আরো জানায়, মোহামেদ নামটি জনপ্রিয়  প্রথম ১০০ নামের তালিকায় আসে ১৯২৪ সালে। এর পর থেকে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

এর কারণ হতে পারে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের মুসলমান কমিউনিটির আকার বাড়ছে। এ ছাড়া মুহাম্মাদ আলী এবং অলিম্পিয়ান মোহামেদ ফারাহর মতো জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদদের কারণেও নামটি জনপ্রিয় হয়েছে।

আরব ব্রিটিশ সেন্টারের আরবির শিক্ষক ইব্রাহিম ওথম্যান জানান, নামের বানানের এই পার্থক্য ব্রিটিশ নামের কিছু নামের বানানের পার্থক্যের সঙ্গে তুলনা করা যায়। মোহাম্মদ একই নাম। মানুষে একে যেভাবে উচ্চারণ করতে চান সেভাবেই বানান ঠিক করেন। নামের কোনো পার্থক্য নেই। অনেকের মতে ইংরেজি 'ও' এবং 'ইউ' অক্ষর দুটি আরবি উচ্চারণ সঠিকভাবে প্রকাশ করে।

এই নামটি মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ নবীর নাম এটি যার মাধ্যমে খোদার প্রশংসা প্রকাশ করা হয়। সম্ভবত গোটা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামের একটি  এটি।

ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের নাম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচার্ড কোয়েটস জানান, বানান আলাদ হলেও একই নাম বোঝানো হয়। বরং বানানের পার্থক্য মানুষের ভিন্ন ভিন্ন জাতিস্বত্ত্বা তুলে ধরে। এমন ভিন্ন বানানে সোমালিয়ান এবং মিশরিয়ানদের পার্থক্য বোঝা যায়।

তবে একই উচ্চারণ হলেও বানানের ভিন্নতা রয়েছে যার অর্থও আলাদা হয়। যেমন ইংরেজিতে আমিন এবং ফ্রেঞ্চদের আমিন-এর মধ্যে অর্থগত পার্থক্য রয়েছে। একই শব্দ দুই জাতির পার্থক্য বোঝায়।  

প্রফেসর কোয়েটস জানান, ঐতিহাসিকভাবে এসব নামের বানানের পার্থক্যে জাতিস্বত্ত্বার প্রকাশ আসলে এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কার নাম তুলে ধরা হচ্ছে তাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রত্যেকের নাম তার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য