kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নতুন চিকিৎসায় ডায়াবেটিস রোগীরা আরো আট বছর বেশি বাঁচবেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:২৫



নতুন চিকিৎসায় ডায়াবেটিস রোগীরা আরো আট বছর বেশি বাঁচবেন

শুধু খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা না করিয়ে বরং ওষুধের মাধ্যমে টাইপ টু ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করালে রোগীরা আরো আট বছর বেশি বাঁচতে পারবেন।

নিবিড় ও বহুমুখী চিকিৎসায় ডায়াবেটিস রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি কমে আসে ৪৫%। এতে হৃৎপিণ্ড ও রক্তের শিরা-উপশিরার সমস্যাগুলোও কমে। এ ছাড়া চোখ ও কিডনির জটিলতাও ৩০-৫০ শতাংশ কমে।

টাইপ টু ডায়াবেটিস 'মহামারি' বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৫-১০ শতাংশকে আক্রান্ত করে। এর লক্ষণগুলো হলো রক্তে উচ্চমাত্রায় সুগার ও উচ্চহারে ফ্যাটি এসিডের উপস্থিতি, রক্ত জমাটবদ্ধতার বাড়তি ঝুঁকি এবং উচ্চরক্তচাপ। এর সবগুলোই হৃৎপিণ্ড এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষয়সাধনের ঝুঁকি বাড়ায় যা আবার আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়।

এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর শীর্ষে কিছু টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাবে অ্যালবুমিন প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকে। রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো ক্ষয়ে যায়। যার চিকিৎসা না করালে হৃদরোগ এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

ডেনমার্কের গবেষকরা ২১ বছর ধরে স্টেনো ২ গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যেসব রোগী দীর্ঘ দিন ধরে নিবিড় এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা গ্রহণ করেন, কী করে তাদের আয়ুষ্কাল বাড়ে।

স্লাগেলসে হাসপাতাল এবং দক্ষিণ ডেনমার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পিটার গায়েডে বলেন, "আমাদের গবেষণায় খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের দ্রুত এবং নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে এসেছে। "

গবেষণাটির সহকারী ড. জেনস অলিগার্ড বলেন, "নতুন উদ্ভাবিত কাঠামোবদ্ধ এবং বহুমুখী উপাদানসমৃদ্ধ এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগে চোখ, কিডনি, পা, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের সমস্যাগুলো প্রচলিত বহুমুখী উপাদানসমৃদ্ধ চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় অর্ধেক কমে এসেছে। "

নতুন এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণকারী ডায়াবেটিস রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের চেয়ে ৪৫% কমে এসেছে। এবং নতুন পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণকারীরা আরো আট বছর বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকেন। এবং চিকিৎসা গ্রহণের পর তারা নতুন করে হৃৎপিণ্ডের, চোখ ও কিডনির কোনো সমস্যায় আক্রান্ত হন না।
সূত্র : দ্য মিরর


মন্তব্য