kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'অন্য নারীতে আসক্ত পুরুষকে বিয়ে, তারপর...'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:২৪



'অন্য নারীতে আসক্ত পুরুষকে বিয়ে, তারপর...'

অ্যাডির সঙ্গে দেখামাত্র সোফি জাফের প্রেম হয়ে যায়। বিয়ে হয়ে যায় দুজনের।

কয়েক বছর বাদেই স্ত্রী সোফি আবিষ্কার করলেন যে, তার স্বামী যৌনতায় মারাত্মক আসক্ত এক ব্যক্তি। এখানে সোফি তুলে ধরেছেন কিভাবে এ বিষয়টি তাদের সম্পর্কে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনা তিনিই তুলে ধরেছেন।

আমাদের প্রেমকাহিনীর শুরু : ২০০৫ সালে আমাদের দেখা হয়। তখন স্বামী ছিলেন পিএইচডি শিক্ষার্থী। আমি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কুলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমরা একই বিষয় নিয়ে পড়ছিলাম। দুজন দুজনের প্রেমে পড়ি। দুজনের দেখা হলে আলাদা হতে চাইতাম না। এক সময় মাদকাসক্ত ছিল সে। সংগ্রাম করে সুস্থ হয় উঠেছে। বিষয়টি আমার কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়েছে।

সম্পর্কের দুই বছরের মধ্যে সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে। জিমনেশিয়ামে গিয়ে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার সঙ্গে ঘোরাঘুরি শুরু করে। তার সঙ্গে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করি। নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এর এক বছর পর আমাকে সে একটা চিঠি লেখে। তখন আমি থাইল্যান্ডে। সে জানায় যে, আমাকে ভালোবাসে। একটু সুযোগ চায়।

আমি তখন একা ঘুরে বেড়াচ্ছি এবং জীবনটাক উপভোগ করছি। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত চিঠিটায় আবার আমি অ্যাডিকে মিস করতে শুরু করি। আমরা আবার এক হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে থাকি। তখন আমরা কথা বলি যে, এক হওয়ার পর দুজনই থেরাপি নেবো। আমি চাইনি যে এক বছর পর আবারো এক হয়ে আবারো সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করুক। আমরা দেখা করি এবং এক থেরাপিস্টের সন্ধান করি।

অ্যাডির যৌনতায় আসক্তি : এক হওয়ার পরও আমি পুরোপুরি অ্যাডিকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। একদিন আমরা একটা  মন্দিরে যাচ্ছিলাম। সেখানে কোনভাবে আমি তার মোবাইলে আরেক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর মেসেজ দেখলাম। আমি সেখানেই এ বিষয় নিয়ে তাকে ধরে বসি। সে তখন জানায় যে, সে আসলে যৌনতায় আসক্ত। এর আগেও এসব নিয়ে তার সঙ্গে আমার যখন তর্ক হতো তখন আমি কাঁদতাম। আর তখনই সে অন্য কোনো নারীর সঙ্গে মেসেজ চালাচালি করতো।

অ্যাডি সেক্স অ্যাডিক্টস অ্যানোনাইমাস সভায় সপ্তাহে ৫ দিন যেতো। আমরা বাড়তি একজন থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া শুরু করলাম। বিয়ের পর পরই বুঝতে পারি আমি গর্ভবতী। ঠিক তখনই অ্যাডির গোপন দুনিয়ার খবর জানতে পেরেছিলাম। সে একটি গোপন ইমেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্য নারীদের সঙ্গে যৌনতাপূর্ণ চিঠি চালাচালি করতো।

সম্পর্কের মেরামত : বিয়ের প্রথম বছরে দুজনের মধ্যে বেশ পরিবর্তন ঘটে। এ সম্পর্কের মাঝেই তার সেক্সটিং ধরা পড়ে আমার কাছে। আমার দৃষ্টিতে এটা ছিল অ্যাডির সমস্যা যার সমাধান দরকার। আসলে বিয়ের পর অপরের সমস্যা নিজের হয়ে যায়। অন্য নারীতে আসক্তি আরো বেশি সমস্যা। তাকে ঠিক পথে আনতে কি না করেছি। নানা ধরনের থেরাপি নেওয়া হয়েছে। ইয়োগা চর্চা করেছি। এসব কাজ করে পরিষ্কার হয়েছে আসলে আমরা কি অবস্থায় রয়েছি। একটাই উদ্দেশ্য ছিল, অন্তরঙ্গ হওয়া থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা লাভ করা।

এখন অ্যাডি থেরাপি নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তরঙ্গ। ভবিষ্যত নিয়ে এখন আর আমার মধ্যে কোনো ভয় কাজ করে না। আমরা এ বিষয়ে পরিবার বা বন্ধুদের কাছে কিছু লুকায় না। আমি এখন তাকে বিশ্বাস করি। স্বজনরা সবাই এ বিষয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ান। এ অভিজ্ঞতা আমাকে নিজের পাশেই অবস্থান নিতে সাহস যুগিয়েছে। সূত্র : ফক্স নিউজ

 


মন্তব্য