kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অফিসের অসহ্যকর যত সহকর্মীদের কথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৩৭



অফিসের অসহ্যকর যত সহকর্মীদের কথা

অফিসে অন্তত একজন সহকর্মী পাবেন যাকে কোন অবস্থাতেই সহ্য করা যায় না। নানা কারণে তিনি আপনার কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

এখানে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন এমনই কিছু সহকর্মীর কথা। এদেরকে কোনভাবেই সহ্য করা যায় না।

১. এরা ক্রমাগত শব্দ দূষণ করতে থাকেন। তাদের মোবাইলে ব্যক্তিগত ফোন আসতে থাকে। তারা উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। মোবাইলে গান বাজাতে থাকেন ইত্যাদি। এদের সামলাতে 'চুপ থাকুন'  জাতীয় সাইন টাঙিয়ে দেওয়ার দরকার হয়।

২. গসিপে দক্ষ তারা। অসিফ গসিপের হোতা এরাই হয়ে থাকেন। এসব গুজব নিয়ে আলোচনা থেকে দূরে থাকুন। নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন।

৩. এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অফিসে জোরে জোরে গলা পরিষ্কার করেন, নাক ঝারেন বা টানেন এমনকি থুতুও ফেলেন। নোংরা স্বভাবে হয়ে থাকেন তারা। খুবই বিরক্তিকর শব্দ উদ্রেককারী এসব সহকর্মী থেকে দূরে থাকুন।

৪. এদের মোবাইল থেকে উচ্চ শব্দে একেক ধরনের শব্দ বেরোয়। অনেকে স্পিকারফোনে কথা বলেন। আশপাশের কর্মীদের বিরক্তির কথা বেমালুম ভুলে যান।

৫. টেবিলে কলম ঠুকিয়ে বা পা নাচিয়ে বা হাতের ব্যবহারে টেবিল চাপড়ানো ইত্যাদি কাজে দক্ষ তারা।

৬. এরা নিজেদের ভালো সঙ্গীতশিল্পী বলে মনে করেন।   তাই নিজের অজান্তেই পরিবেশ ভুলে গিয়ে গান গাইতে থাকেন।

৭. এরা কথায় কথায় ঈশ্বের দোহাই দেন। সব সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। যেকোনো বিষয়কে অস্বস্তিকর অবস্থায় নিতে ওস্তাদ।

৮. তাদের আনা খাবারের গন্ধে আপনার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে। অভ্যাস বা সাংস্কৃতিক কারণে তাদের বিশেষ খাদ্যাভ্যাস এমন হয়ে থাকে। অনেকের পোশাকও আবার অদ্ভুত হয়ে থাকে।

৯. এদের গোয়েন্দা বলে মনে হয়। হঠাৎ করেই দেখবেন, ওই সহকর্মী আপনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাদরে সব সময় এ অবস্থাতেই দেখবেন। এদের নিয়ে দারুণ অস্বস্তিতে থাকতে হবে সব সময়।

১০. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এদের সমস্যা রয়েছে। এদের গায়ের গন্ধে গ্যাস মাস্ক পরে থাকতে মন চাইবে। এরা কথা বললেও নাক বন্ধ করে রাখতে হয়।

১১. অফিসের তাপমাত্রা নিয়ে এসব সহকর্মীর ব্যাপক সমস্যা। এরা হয় কক্ষটা বেশি ঠাণ্ডার করে রাখবেন অথবা বেশি গরম করে রাখেন।

১২. কিছু সহকর্মী রয়েছেন যারা বসগিরি ফলাতে পছন্দ করেন। তারা নির্দেশসূচক কথা বলেন। এমনকি ধমকের সুরেও কথা বলেন।

১৩. এদের আচরণ দেখলে মনে হবে তারা শিশু বাচ্চা। সব সময় এক ধরনের শঙ্কা নিয়ে অফিসে বিচরণ করেন। তাদের দেখলে মন হয় না যে তারা অফিসের কোনো অংশ।

১৪. এরা একের পর এক পার্টি করতে থাকেন। সেখানে কিভাবে সময়টা উপভোগ করলেন তার গল্প প্রতিদিনই শুনতে হবে। আপনার ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো সপ্তাহে একবার এমন গল্প শুনতেই হবে।

১৫. এদের কথা-বার্ত ও চালচলন নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ। বিরক্তির উদ্রেক করে। এদের গল্প থেকে বাঁচতে সব সময় অজুহাত প্রস্তুত করে রাখতে হবে।

১৬. পণ্ডিতদেরও খুঁজে পাবেন সহকর্মীদের মাঝেই। ভুল হোক বা ঠিক, এরা সবজান্তা বলে নিজেদের মনে করেন। সব বিষয়ে নাক গলিয়ে থাকেন।

১৭. কোনো কাজের বিষয়ে এদের মাথাব্যথা নেই। সময় বেঁধে দেওয়া কাজের সময় নিয়ে এদের কোনো টেনশন করতে দেখবেন না। এরা কাজ এড়িয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করতে থাকে। দলবদ্ধ কাজে এদের সব সময় কষ্ট থেকে দূরে দূরে দেখবেন।

১৮. এদের দেখলে যেকোনো মানুষের দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পারে। সাধারণত দুই-একজন আবেদনময়ী নারী কর্মীদের এ দলে ফেলানো যায়।

১৯. এরা সব সময় না-সূচক কথায় বিশ্বাসী। যেকোনো পরিকল্পনা ও কাজকে অনায়াসেই নেতিবাচক বলে প্রমাণ করে দিতে সিদ্ধহস্ত। এদের সঙ্গে থাকলে উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলবেন।

২০. আশাবাদ ভালো। তবে খুব বেশি আশাবাদ অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়। এরা কোনো সমস্যা নিয়েই মাথা ঘামাতে চান না। যেন এমনিতেই সব সমাধান হয়ে যাবে। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য