kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে আগে ঘুমাতে যাওয়া?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১৫



হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে আগে ঘুমাতে যাওয়া?

যে পুরুষরা রাতে একটু আগে ঘুমাতে যান তারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকেন। এক গবেষণায় ২৪০০ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর গবেষণা পরিচালিত হয়।

দেখা যায়, যারা অপেক্ষাকৃত আগে ঘুমাতে যান তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বেশি।

জাপানের ওই গবেষণায় বলা হয়, যে পুরুষরা অন্যদের অপেক্ষা ১৮ মিনিট আগে ঘুমাতে যান তাদের মধ্যে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেশি থাকে। এর বিপরীতটাও সত্যি। অর্থাৎ যারা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তারা অন্যদের চেয়ে আগে ঘুমাতে যান। আর একবার ঘুমাতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগা মানুষগুলো এপাশ ওপাশ করেন।

কাজেই দ্রুত বিছানায় যাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে বেশি ঘুমের মাধ্যমে সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় না। উচ্চ রক্তচাপের কারণে তারা বেশি ঘুমাতে পারেন না।

প্রধান গবেষক হিরোশিমা ইউনিভার্সিটির ড. নবু সাসাকি জানান, যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তারা দ্রুত ঘুমাতে যেতে চান। এ সমস্যার কারণে তারা অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তবে স্বাস্থ্যকর ঘুমের কারণে অনেক পরিত্রাণ মিলতে পারে। এমন ঘুমের জন্য যা করতে হবে-

১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে।

২. রাতে যে কোনো ধরনের প্রযুক্তি পণ্য ত্যাগ করুন। স্মার্টফোন বা টিভির আলো ঘুম নষ্ট করে।

৩. দেহে পানির অভাব ঘটলে ঘুম আসে না। এর জন্যে বিছানার পাশে খাওয়ার পানি রাখতে হবে।

৪. ক্ষুধার্ত অবস্থায় কখনো ঘুমাতে যাবেন না। আবার ঘুমানোর আগে সঠিক খাবার খেতে হবে।

এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে ৪০-৬০ বছর বয়সী মানুষের মাঝে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা সাধারণত গড়ে রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বিছানায় যান। আর যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক তারা ১১টা ২৮ মিনিটে ঘুমাতে যান।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক প্রফেসর জেরেমি পিয়ারসন বলেন, অনেক সময় মানুষ নিজের অজান্তেই রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। যাদের দ্রুত বিছানায় যেতে মন চায় তারা রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন।

ঘুমের অভাব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যেভাবে ক্ষতি করে-

১. স্বাস্থ্যগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ আয়ু কমে যায় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

২. মোটামুটি ৮ ঘণ্টার ঘুমকে স্বাস্থ্যকর বলা হয়। এই ঘুমে দেহের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

৩. আপনি ঘুম থেকে ক্লান্ত অবস্থায় উঠলে গোটা দিন ঘুম ঘুম ভাব যাবে। রাতে ঘুমের অভাবে এমনটা হতে পারে।

৪. ঘুমের অভাবে ওজন বাড়ে।

৫. ক্রনিক ঘুমের অভাব দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অবস্থার ক্ষতি করে।

৬. যারা ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে।

৭. ঘুমের অভাবে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়। রক্তচাপ বাড়ে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে এমন রাসায়নিক উপাদানের ক্ষরণ ঘটায়। সূত্র: টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য