kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


১৮ শতকের মমিতে পাওয়া গেল কোলন ক্যান্সার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ১২:২১



১৮ শতকের মমিতে পাওয়া গেল কোলন ক্যান্সার

আধুনিক প্লেগ ও স্থূলতার মহামারির আগেই কোলন ক্যান্সার বিশ্বে ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে বেশ কিছু মমি থেকে। সম্প্রতি হাঙ্গেরির ১৮ শতকের মমিতে পাওয়া গেছে কোলন ক্যান্সার। এতে জানা গেছে, রোগটি শুধু আধুনিক সময়েই নয় বেশ কিছুদিন আগেই ছিল। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

১৮ শতকের মমির টিস্যুর নমুনা পরীক্ষা করে সম্প্রতি গবেষকরা এ কোলন ক্যান্সারের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন। এ গবেষণায় ব্যবহৃত অন্যতম একটি মমিতে পাওয়া গেছে অ্যাডেনোম্যাটোস পলিপসিস কলি (এপিসি) জিন। গবেষকদের প্রধান মাইকেল ফেল্ডম্যান জানান, এ জিনটিকেই কোলন ক্যান্সারের জন্য দায়ী করা হয়।

শুধু একটি মমি থেকেই নয়, আরও মমির স্যাম্পল পরীক্ষাতেও কোলন ক্যান্সারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, জিনও কোলন ক্যান্সারের জন্য অন্যতম দায়ী হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসকরা যদিও কোলন ক্যান্সারের জন্য প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিবেশগত প্রভাব, শারীরিক পরিশ্রম না করা ও স্থূলতাকে দায়ী করেন।

ফেল্ডম্যান আরও বলেন, 'বর্তমানে আমরা কলোরেক্টাল ক্যান্সারকে তৃতীয় প্রচলিত ধরনের ক্যান্সার হিসেবে জানি। এ ক্যান্সারের অতি পরিষ্কার জেনেটিক ইতিহাস রয়েছে, যা নিয়ে আধুনিক গবেষকরা প্রচুর অনুসন্ধান করছেন। '

তিনি আরও বলেন, 'গত কয়েক শতাব্দীতে মানুষের সমাজে বহু জীবনযাত্রা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান সময়ের এ ক্যান্সারের বিস্তারিতর সঙ্গে সে সময়কার ক্যান্সারের বিস্তারিত তুলনা করে নানা তথ্য জেনে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। '

যেসব মৃতদেহ গত কয়েক শ বছর আগে মমি করা হয়েছে তা থেকে বর্তমানে গবেষণায় বেশ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বহু মমিতেই টিসু স্যাম্পল সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এতে প্রত্নতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যথেষ্ট উপকৃত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই এসব গবেষণায় যক্ষ্মা, ধমনীর প্রতিবন্ধকতাসহ বিভিন্ন রোগের নমুনা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বায়ুদূষণের প্রভাবও পাওয়া গেছে সে সময়কার বিভিন্ন মমিতে।

নতুন গবেষণায় ফেল্ডম্যানের টিম ২০টি মমি থেকে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করেন। এগুলো হাঙ্গেরির ডমিনিকান চার্চে রক্ষিত ছিল। এ চার্চে বিভিন্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যক্তিদের ১৭৩১ থেকে ১৮৩৮ সাল পর্যন্ত মমি করা হয়। সেখানে ২৬৫টিরও বেশি মমি পাওয়া গেছে ১৯৯৫ সালে। বর্তমানে সে মমিগুলো বুদাপেস্টের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে স্থানান্তরিত হয়েছে।

ক্রিপটাসের যে স্থানে মমিগুলো সংরক্ষিত ছিল, সেখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা খুবই কম। এ ছাড়া মমি সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য বিষয়ও বেশ অনুকূল। এ কারণে সেখানকার ৭০ শতাংশ মমি বেশ ভালো অবস্থায় আছে, যা থেকে গবেষকরা ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করেন। এরপর তারা মমিগুলোর নমুনা থেকে তাদের মৃত্যুর কারণ ও বিভিন্ন মেডিক্যাল তথ্য সংগ্রহ করেন। এ বিষয়ে গবেষণার বিস্তারিত সম্প্রতি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।


মন্তব্য