kalerkantho


সব বন্ধুরা বিয়ে করে ফেলছেন, হতাশায় তরুণীর আত্মহত্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ১৩:১৮



সব বন্ধুরা বিয়ে করে ফেলছেন, হতাশায় তরুণীর আত্মহত্যা

কাছের বন্ধুরা সব একের পর এক বিয়ে করে ফেলছেন। কিন্তু ৩১ বছর বয়সী ডেনিয়েলে সাউলের সম্পর্ক নিয়ে চলছে টানাপড়েন। মাঝে মধ্যে বান্ধবীদের বিয়েতে কনের সহচরী রূপেও দেখা যায় তাকে। জীবনে একটু স্থিত হতে এবং একটা সংসার গড়তে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে হয়তো আর কোনো আশা-ভরসা দেখলেন না এই বিজনেস ডেভেপলার ম্যানেজার। আত্মহত্যা করলেন। বন্ধুরা তার নিজ বাড়িতে ঝুলন্ত লাশ খুঁজে পেলেন।

গত বছরের জুনে বন্ধুদের সঙ্গে ম্যানচেস্টারে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে দারুণ মজা করে রাত কাটিয়েছেন। সেই সময়টা বিয়ে করে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করতে দারুণ সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন। পাঁচ বছর আগে একটা সম্পর্ক ভেঙে যায় তার। ওটা নিয়ে মানসিক যাতনা তো ছিলই।

হঠাৎ করেই সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হয় তার। নিজের ফ্ল্যাটে তাকে নিমন্ত্রণ করেন। বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তার সঙ্গেই নতুন করে সম্পর্ক জুড়ে নেওয়ার চিন্তা করছিলেন সাউল। সারারাত তারা এ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু প্রেমিকক রাজি করাতে পারেননি। ঠিক পরদিন সকালেই তিনি তার নিজের জীবনটাই নিয়ে নেন।

ঝুলন্ত দেহ তিন দিন পর তার ফ্ল্যাটে খুঁজে পান বন্ধুরা। তবে অনেকের মতে, সাউলের আত্মহত্যা আসলে এক ধরনের 'ভুল রোমাঞ্চ'। ময়নাতদন্তকারী জিন হার্কিন জানান, আত্মহত্যা তার ধারাবাহিক পাগলাটে আচরণের পরিণতি বলেই মনে হচ্ছে। মিস সাউল দারুণভাবে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।

তবে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মনে করছেন, সাউল কোনভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না।

তবে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে চলে এসেছিল বলে জানান হার্কিন। তা ছাড়া সারারাত তিনি প্রচুর মদ্য পান করেছিলেন। ফলে দেহে বিষাক্ত ক্রিয়া ছিল। ফলে কাজটি করতে আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।

লিভারপুলের এজ হিল ইউনিভার্সিটি থেকে এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন সাউল। বন্ধুরা জানান, তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী। দাম্পত্যজীবন শুরু করতে চাচ্ছিলেন। বেশ মেধাবী এবং মজার মানুষ ছিলেন। আত্মহত্যার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই বন্ধুদের মাঝে মাঝেই নিজের ফ্ল্যাটে দাওয়ার করতেন তিনি।

সাউলের মা কারেন সাউল জানান, দুজনের সঙ্গে সাউলের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিল। শেষের জনের সঙ্গে সম্পর্কে ৫ বছর আগে ভেঙে যায়। সম্ভবত সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আরো মানসিক চাপে ভুগছিলেন। তা ছাড়া সম্পর্ক নতুনভাবে জুড়ে নিতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু বনিবনা হয়নি। সেই কারণে হতাশা থেকে এমন চরম সিদ্ধান্তে আসেন তিনি।

আবার যে চাকরিটি করতেন সেখানকার বসের সঙ্গেও বেশ সমস্যা চলছিল। আবার কাছের সব বন্ধুদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। তাই নিজেই করতে দারুণ উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

মা আরো জানালেন, মেয়েটা তার সাময়িক সমস্যা দূর করতে স্থায়ী সমাধান বেছে নিলো। সূত্র : ডেইলি মেইল

 


মন্তব্য