kalerkantho


প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে ৫ পার্থক্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২০:০৮



প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে ৫ পার্থক্য

বহু বছর ধরে করপোরেট জগতে এই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যে, ফোরকাস্টিং, বাজেট তৈরি, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের কাজ। ম্যানেজারদের কাজ ব্যবস্থাপনা করা, নেতৃত্ব দেওয়া নয়।

আধুনকি যুগের সুপারভাইজার এবং ম্যানেজমেন্টের কর্তাদের নানা শিক্ষা দেওয়া হয়। তাদের শেখানো হয় কিভাবে অধীনস্তদের মাঝে কাজ ভাগ করে দিতে হয়, কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করতে হয়, পারফরমেন্সে সমস্যা থাকলে কিভাবে  বোঝাতে হয় ইত্যাদি।

আধুনিক যুগে ম্যানেজার এবং নেতাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যগুলো চিনে নিন।

১. মিশন : গতানুগতিক ধারণায় ম্যানেজারের চাকরি হলো কোনো একটা বিভাগ পরিচালনা করা। হতে পারে তা করপোরেট ক্রেডিট বিভাগ বা প্রোগ্রামারদের একটি দল পরিচালনা করা। প্রত্যেক ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে তার দায়িত্ব অনুযায়ী একটি বিশেষ পারফরমেন্স আশা করা হয়। যন্ত্রটি যেন মসৃণভাবে চলে তা দেখার দায়িত্ব ম্যানেজারের। তার অধীনের প্রত্যেক কর্মী মেশিনের এক একটি যন্ত্রাংশ।

কিন্তু নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গিটা ভিন্ন। যে যন্ত্রটি ম্যানেজার চালান তা প্রয়োজনে বদলে যেতে পারে। হয়তো যন্ত্রটি বদলাতে হবে। এ বিষয়টি বুঝে থাকেন নেতা। হয়তো নতুন কোনো মেশিন লাগবে। কর্মীদের সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে কাজের সুযোগ করে দেন নেতা। একজন নেতা এবং তার দলের একটি মিশন রয়েছে যা সাধনের কাজ করে যান তারা।

২. আত্মসচেতনতা : নির্দেশ এবং তা যথাযথভাবে পালনের কাজটি করে যান ব্যবস্থাপক। কিন্তু নেতার প্রতিদিনই তার নিজের কাজের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। একজন নেতা তিনিই যিনি নিজের আবেগের নিয়ন্ত্রণে না থেকে কাজ করে যান। ভয় এমন এক আবেগ যা ম্যানেজারদের মনে ছেয়ে থাকে। লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার ভয়। কিন্তু নেতারা ভয়কে জয় করেন। ঝুঁকি নেন এবং সফল হতে যাবতীয় পথের সন্ধান করেন। কারণ নেতারা সব সময় সাহসী থাকেন। বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে যান। তারা নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কিছু অংশ ম্যানেজারের দায়িত্বে দিয়ে দেন তা পূরণের জন্যে।

৩. ঝুঁকি এবং আস্থা : যাকে চেনেন না বা জানেন না তার ও ওপর বিশ্বাস স্থাপনে ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। নেতৃত্বের আধুনিক ধারায় গুণবাচক কারণে ব্যবস্থাপকদের ওপর দায়িত্বের যথেষ্টটুকু অর্পন করেন নেতা। ব্যবস্থাপকরা কর্মীদের ওপর সহজে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন না। তিনি ভুলবশত ভুল মানুষের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন। এতে পরে শিক্ষা হবে তার। আসলে তিনি অন্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্যে নিজের ওপর বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে কখনোই কাউকে বিশ্বাস করতে পারবেন না।

কিন্তু একজন নেতা কারো না কারোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেন। চাপ সৃষ্টি না করে বা পুরস্কারের লোভ না দেখিয়েও তার কাজ আদায় করে নিতে পারেন। তারা মূলত সঠিক মানুষটিকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে নিজের ওপর আস্থা রাখেন। আর এ গুণের দারুণ চর্চা চালান তারা। নেতারা এভাবেই এগিয়ে যান সবার আগে।

৪. উভমুখী শিক্ষা : নেতৃত্বের দায়িত্ব আসে বিশ্বস্ততা এবং শিক্ষা থেকে। কর্মক্ষেত্রে একবার ভুল তিক্ত হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়বারের ভুল লজ্জাজনক। কাজে কারো প্রতি যে ধারণাটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো বিশ্বাস পাওয়া। যখন মানুষ তার আইডিয়া শেয়ার করতে অস্বস্তিবোধ করে তখন বুঝতে হবে তিনি সৃষ্টিশীল আইডিয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী নন। সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস কম থাকলে ম্যানেজাররা কাজ গুছিয়ে আনতে পারেন না। সেখানে সমস্যা দেখা দেয়। বিভাগে সবকিছুর সরবরাহ ঠিক থাকলে কর্মীদের মধ্যে ভারসাম্য বিরাজ করে। তারা একে অন্যের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ম্যানেজারের ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্য। তারা বিশেষ কোনো বিষয়ে এক্সপার্ট হয়ে ওঠেন। সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই তাকে পড়ে থাকতে হয়। কিন্তু নেতার শিখতে হয় চারদিক থেকে। তিনি ম্যানেজারের কাছ থেকে যেমন শিখে থাকেন, তেমনি শিক্ষা নেন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে। এভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গোটা দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় তার।

৫. চিন্তাধারা সৃষ্টি এবং সত্য তুলে ধরা : ব্যবস্থাপক এবং নেতার শেষ পার্থক্যটা এখানে। গতানুগতিক ধারণা অনুযায়ী, একজন ম্যানেজার কর্মক্ষেত্রে তার সত্য অনুধাবন করবেন এবং সেভাবে বিভাগ পরিচালনা করবেন বলে আশা করেন না নেতা। ব্যবস্থাপকদের নীতিমালা এবং তার প্রয়োগে কাজ উদ্ধারের কৌশল অবলম্বন করতে হয়। সময়ের মধ্যে কাজ তুলে আনার বিষয়টি তাদের জন্যে জরুরি। অনেক সময় ম্যানেজার এমন কিছু শুনতে রাজি নন যা তিনি শুনতে চান না। অথচ তা পরিষ্কার সত্য। তাই কর্মীদের কাছ থেকে অপ্রিয় সত্য হলেও জানতে হবে তাকে। কিন্তু তিনি তা করতে চান না। কিন্তু নেতা এ দিক থেকে আলাদা। তারা যাবতীয় সত্য জানতে চান। সত্যের ওপর ভিত্তি করেই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সত্যের মাধ্যমেই তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেন। আর সত্যের ওপর ভিত্তি করে তারা মতামত প্রকাশ করেন। তারা বলে ওঠেন বাস্তবতার কথা, পরিবর্তনের কথা এবং সবার জন্যে যা ভালো তার কথা। সূত্র : ফোর্বস

 


মন্তব্য