kalerkantho


কণ্ঠের পরিবর্তনে বক্তার আবেগ স্পষ্ট হয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ১২:৩০



কণ্ঠের পরিবর্তনে বক্তার আবেগ স্পষ্ট হয়

একজন মানুষ কথা বলার সময় কণ্ঠের পরিবর্তনে তার  আবেগের পরিবর্তনগুলো পরিষ্কার ফুটে ওঠে। এ সময় তার বক্তব্যেরও পরিবর্তন ঘটে। ফ্রান্সের এক দল বিজ্ঞানী বক্তার কথা রেকর্ডিংয়ের সময় বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ফ্রান্সের এক দল গবেষক এ গবেষণা পরিচালনা করেন। তারা একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করেছেন। মানুষের বক্তব্য এই প্লাটফর্ম হয়ে প্রচার পায়। প্রচারকালে সফটওয়্যারের মাধ্যমে কণ্ঠের সামান্য পরিবর্তন ঘটানো হয়। দেখা যায়, এতেই তার আবেগ পরিবর্তিত হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়, মানুষ কি বুঝতে পারে যে তার কথার মাঝে আবেগ-অনুভূতি স্পষ্ট হয়?

অতীতের এক গবেষণার সূত্র ধরে সাম্প্রতিক গবেষণাটি পরিচালিত হয়। আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল, মানুষ কথা বলার সময় তার সত্যিকার আবেগ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

এ পরীক্ষায় এক দল অংশগ্রহণকারীকে ছোট একটি গল্প পড়তে দেওয়া হয়।

এ সময় তাদের কণ্ঠ ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে রেকর্ড করে শোনানো হচ্ছিল। রেকর্ডকৃত কণ্ঠে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সামান্য আবেগ যোগ করা হয়। মাঝে মাঝে তাদের কণ্ঠে আরো সুখ বা কষ্ট বা রাগের স্বর যোগ করা হয়। এটা অংশগ্রহণকারীরা জানতেন না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, কণ্ঠ সামান্য এদিক-ওদিক করাতে তাদের আবেগও বদলে যায়।

সুইডেনের লান্ড ইউনিভার্সিটির এক বিশেষজ্ঞ পিটার জোহানসন বলেন, মনোবিজ্ঞানে প্রকাশভঙ্গি এবং আবেগময় অভিজ্ঞতার বিষয়টি নিয়ে বহুকাল ধরে তর্ক-বিতর্ক চলে আসছে। শ্রোতাদের মাঝে বক্তব্যকালে আবেগপ্রসূত অভিজ্ঞতার স্ফূরণ এই প্রথমবারের পরীক্ষায় স্পষ্ট হলো।

গবেষকরা কণ্ঠ বদলে দিতে বিশেষভাবে তৈরি অ্যালগোরিদম ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে সরাসরি প্রচারকৃত কণ্ঠের আবেগ বদলে দেওয়া সম্ভব।

ইউনিভার্সিটি অব টকিও এবং ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী কাতসুমি ওয়াতানাবে জানান, যাদের মোড ডিসঅর্ডার রয়েছে তাদের চিকিৎসায় এই গবেষণা কাজে লাগবে।

এ ছাড়া লাইভ ভোকাল পারফরমেন্স এবং কারাওকের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি দারুণ কাজে লাগতে পারে। অনলাইন মিটিং এবং গেমের ক্ষেত্রেও এই গবেষণাটি নতুন নতুন পথের সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য