kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সাধারণ কিছু কথার পেছনেও রয়েছে করুণ ইতিহাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৪



সাধারণ কিছু কথার পেছনেও রয়েছে করুণ ইতিহাস

আমরা এমন কিছু বাগধারার সঙ্গে পরিচিত, যার পেছনে রয়েছে করুণ ইতিহাস। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু ইংরেজি বাগধারা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
ক্যাট গট ইওর টং?
বিড়াল কী তোমার জিহ্বা নিয়ে গেছে? কেউ যদি লজ্জায় চুপ থাকে তাহলে অনেকেই এখন এ কথা বলেন। তবে এর উৎপত্তি মোটেই মজার নয়। জানা যায়, অতীতে ব্রিটিশ নেভি ‘ক্যাট-ও-নাইন-টেইলস’ নামে একটি চাবুক ব্যবহার করত। এ চাবুকের বাড়ি এতই যন্ত্রণাময় ছিল যে, যাকে এ চাবুক মারা হত সে যন্ত্রণায় আর কোনো কথা বলতে পারত না।
টার্ন এ ব্লাইন্ড আই
ইচ্ছে করে অন্ধ হয়ে রয়েছ? কেউ যখন কোনো বিষয়কে দেখতে মোটেই আগ্রহী থাকে না তখন তাকে ইচ্ছে করে অন্ধ হয়ে থাকার কথা বলা হয়। যদিও এ ঘটনার সূত্রপাত ভিন্নভাবে। জানা যায়, এক যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ অ্যাডমিরাল হোরেটিও নেলসনের ওপর দায়িত্ব ছিল ড্যানিশ/নরওয়েজিয়ান সেনারা আক্রমণ করে কি না, তা খেয়াল রাখা। কিন্তু তিনি এ কাজে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না। এদিকে তার একটি চোখ ছিল নষ্ট। তিনি সেই নষ্ট চোখে দূরবিন লাগিয়ে সমুদ্রে তাকিয়ে ছিলেন। এতে তিনি শত্রুপক্ষকে সুবিধা দেন ইচ্ছে করেই।
কট রেড হ্যান্ডেড
আপনি যদি কাউকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন তাহলে তাকে ইংরেজিতে ‘কট রেড হ্যান্ডেড’ বলা হয়। যদিও এটি ১৫ শতকে চালু হয়। সে সময় কাউকে খুন করার পর হাতে রক্ত লেগে থাকা অবস্থায় ধরা পড়ার বিষয়টি বোঝাত।
আর্মড টু দ্য টিথ
১৭ শতকে জলদস্যুদের বহু অস্ত্র থাকত। তবে সে সময় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে একটিমাত্র গুলি বের হত। তাই জলদস্যুরা দুই হাতে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র রাখার পর পকেটেও একটি রাখত। এছাড়া তাদের দাঁতে একটি ছুরি থাকত। এ কারণে এখনও কারও কাছে অতিরিক্ত অস্ত্র থাকলে আর্মড টু দ্য টিথ বলা হত।
স্কেলেটনস ইন দ্য ক্লোজেট
১৮৩২ সালের আগে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসকরা কঙ্কাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ানোর সময়েও কঙ্কাল লুকিয়ে রাখতে হত। পরবর্তীতে এ ঝামেলা না থাকলেও পুরনো সে কথাটি প্রচলিত রয়ে গেছে যে, আলমারির ভেতর কঙ্কাল লুকানো রয়েছে।
ম্যাড অ্যাজ এ হ্যাটার
হ্যাট বিক্রেতার মতো পাগল। মাত্রাতিরিক্ত মার্কারির কারণে মস্তিষ্ক বিকৃতি ও উচ্চমাত্রায় অসামাজিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়। অতীতে হ্যাট বিক্রেতাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দেখা যেত। এর কারণ ছিল ১৯ শতকে হ্যাটে ফ্যাশনের জন্য বেশিমাত্রায় মার্কারি ব্যবহার করা হত। এ মার্কারির কারণে হ্যাট বিক্রেতারা অনেকেই পাগল হয়ে যেত।
ডাইহার্ড
১৮ শতকে ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রচলিত পাটাতন পদ্ধতিতে ফাঁসি হত না। সে সময় এক স্থানে দাঁড় করিয়ে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে তা টেনে নেওয়া হত। ফলে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেশ কিছুক্ষণ যন্ত্রণার পর মস্তিষ্কে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে মৃত্যু হত। অনেকে আবার দ্রুত মৃত্যুর জন্য কিছু ব্যক্তিকে টাকা দিত। যাদের কাজ ছিল জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পা ধরে টানা বা ঝুলে পড়া। এ ধরনের ব্যক্তিদের ডাইহার্ড বলা হত।

 


মন্তব্য