kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


গোটা রাত একটানা ঘুমানো হয়তো প্রাকৃতিক নিয়ম নয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪৭



গোটা রাত একটানা ঘুমানো হয়তো প্রাকৃতিক নিয়ম নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে কমপক্ষে টানা ৮ ঘণ্টা ঘুমানো স্বাস্থ্যকর বিষয়। কিন্তু আরো বহু গবেষকের মতে, এটা কি আসলেই সুষ্ঠু ঘুমের নিয়ম?

বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর মতে, গোটা রাতে একটানা ঘুমের অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। ইতিহাসবিদরাও এ বিষয়ে একমত। তারা জানান, আমাদের পূর্বপুরুষদের ঘুমের ভিন্ন অভ্যাস ছিল।

ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ রজার এরিক জানান, শিল্প বিপ্লবের আগে মানুষ একরাতে ঘুমানোর মাঝে একবার বিরতি দিত। কিছু সময় তারা উঠে হাঁটা-চলা বা অন্য কিছু করত। ২০০১ সালে তার ১৬ বছরের গবেষণার ফল প্রকাশ পায়। সেখানে রাতের সময়কে দুই ভাগে ভাগ করে ঘুমের অভ্যাসের কথা বলা হয়।

পুরনো মানুষদের ডায়েরি, মেডিক্যাল রেকর্ড এবং অন্যান্য নতিপত্র থেকে 'প্রথমভাগের ঘুম' ও 'দ্বিতীয়ভাগের ঘুম' বিষয়টি পরিষ্কার হয়। এ ধরনের দুই স্তরের ঘুম এক সময় মানুষের নিত্য দিনের অভ্যাস ছিল।

দুই ভাগের ঘুম :
রজার এই ঘুম নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালান। জানান, রাত ৯-১০টার মধ্যে মানুষ বিছানায় উঠতো। তারা মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে যেতেন। মোটামুটি এক ঘণ্টা এটা সেটা করে সময় কাটাতেন। তারপর আবারো ঘুমিয়ে যেতেন এবং ভোর পর্যন্ত ঘুমাতেন। স্বাস্থ্য সচেতনরা এই বিরতির সময়টাতে মেডিটেশন, গভীর চিন্তা, যৌনতা বা প্রার্থনার মতো কাজ করতেন। এমনকি চিকিৎসকরাও মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে ওষুধ-পথ্য খাওয়ার সময় বেঁধে দিতেন।

পরবর্তীতে শিল্প বিপ্লব মানুষের ঘুমের অভ্যাস বদলে দেয়। ইলেকট্রিক আলো বা সারাদিনের কাজের কারণে মানুষ বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাগ গড়ে তোলে। ঘড়ি আসার পর মানুষ সময় ধরে কাজ করার নিয়মটি কঠোরভাবে পালন করতে থাকে। প্রকৃতির আলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে আর জীবন পরিচালিত হতো না।

দুই ভাগের ঘুম কি জরুরি?
শিল্পায়নের আগের যুগের মানুষ এক ভাগে টানা সাড়ে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতেন বলে প্রমাণ সংগ্রহ করেন এরিক। সেই সময়কার ইউরোপের মানুষের মধ্যে এই অভ্যাস গড়ে ওঠার পেছনে সম্ভবত শীতের দীর্ঘ রাত একটা কারণ ছিল। তবে ঘুমের এই চর্চা ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ছড়িয়েছিল। এরিকের মতে, ইউরোপ ছাড়াও ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং অস্ট্রেলিয়াতেও এ প্রক্রিয়ায় ঘুমাতো মানুষ।

১৯৯০ দশকের এক গবেষণায় বলা হয়, দুই ভাগের ঘুমটাই সহজাত ছিল। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে তা বদলে গেছে। এর আগে প্রতিদিনের ১৪ ঘণ্টার অন্ধকার সময়ে মানুষের ঘুম দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কৃত্রিম আলোর কারণে দেহঘড়ি ঘুমের জন্যে দেহকে প্রস্তুত করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।   

ইনসমনিয়া :
তাহলে ঘুম চলে যাওয়ার বিষয়টি কখন থেকে ব্যাপক হয়? দুই ভাগের ঘুমে ঐতিহাসিক নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে এরিক একটি তত্ত্ব দাঁড় করান। তা হলো, ঘুম আসার জন্যে যে সংগ্রাম চালিয়ে যান ইনসমনিয়ার রোগীরা, তা মূলত দীর্ঘ রাতে একটানা ঘুমের অভ্যাসের কারণেই গড়ে উঠেছে। এটা কোনো রোগ নয়।

ইনসমনিয়ায় আক্রান্তদের দেহঘড়ি অনেক স্পর্শকাতর এবং আলোর কারণে তা আরো বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। মধ্যরাতে জেগে ওঠার ঘটনাটিকে মেডিক্যাল সমস্যা হিসাবে দেখা হয় ১৯ শতকের শেষ থেকে বিংশ শতকের প্রথম দিকের মধ্যে। অথচ তার আগে এ ঘটনা স্বাভাবিক ছিল।

কাজেই ইনসমনিয়ার বৈশিষ্ট্য যখন মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, ইতিহাস তখন একে স্বাভাবিক বলেই প্রমাণ করে।
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য