kalerkantho


ডলফিন যখন যোদ্ধা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ১৪:০৫



ডলফিন যখন যোদ্ধা!

সেনাবাহিনীতে আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য প্রাণীদেরও গুরুত্ব রয়েছে। এরা প্রায়ই যুদ্ধ বা কোনো অপারেশনের অতি জরুরি অংশ হয়ে ওঠে।

যেমন- মঙ্গোলরা যুদ্ধের অতিপ্রয়োজনীয় অংশ হিসাবে ঘোড়াগুলোকে প্রশিক্ষিত করেছিল।

'বিস্টস অব ওয়ার : দ্য মিলিটারাইজেশন অব অ্যানিমেলস' বইয়ে জারেড ইগলান এমনই সব প্রাণীদের কথা লিখেছে যারা সেনাবাহিনীর অংশ হয়ে ওঠে। মানুষ যে প্রাণীদের যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রাণীটি ডলফিন।

১৯৬০ সালে ইউএস নেভি প্রথমবারের মতো ডলফিন নিয়ে গবেষণা শুরু করে। এরা চরিত্রগতভাবেই মানুষের বন্ধু। পোষ মানে এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। এদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা টর্পেডোকে আর উন্নত করতে সক্ষম হয়েছেন।

১৯৬৭ সালে ইউএস নেভি গ্রহণ করে 'ম্যারিন মামাল প্রোগ্রাম'। এটা এখনো চলছে।

এরা ডলফিনকে মাইন খোঁজার কাজে এবং সেনাবাহিনীকে রক্ষার কাজে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে।

মাইন হান্টিং প্রোগ্রামে ডলফিন পানির তলদেশে পুঁতে রাখা মাইন খুঁজে বের করতো এবং ওই স্থানে পানির ওপরে বয়া ভাসিয়ে দিতো। সেনাবাহিনী তারপর সেখান থেকে মাইন সরাতো।

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় ডলফিনরাই উম কাসর বন্দরে অঞ্চলে পানির নিচের ১০০টি মাইন খুঁজে বের করে। এমনকি শত্রু কোনো মাইন নিয়ে অগ্রসর হলে ডলফিন দক্ষতার সঙ্গে  তার পিঠে বয়া লাগিয়ে দিতো যা তাদের পানির ওপর ভাসিয়ে নিতে বাধ্য করতো।

এই প্রশিক্ষিত ডলফিনগুলোকে প্রায় প্রতিদিনই খোলা সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই ফেরত আসেনি বলে জানায় নেভি।

ডলফিনকে সেনাবাহিনীর অংশ বানাতে আমেরিকা একাই কাজ করছে না। রাশিয়াও এ কাজে এগিয়েছে বহুদূর। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের ঘটনায় এদের ব্যবহার করা হয়। ডলফিন ডিভিশন প্রথমবারের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নে গঠন করা হয়।

এ বছরের মার্চেই রাশিয়া তাদের ডলফিন ডিভিশনে দুটো পুরুষ এবং তিনটি নারী ডলফিন যোগের ঘোষণা দেয়।

২০১৪ সালের মার্চে রাশিয়ার ডলফিন প্রোগ্রাম নিয়ে রিয়া নোভোস্তি লিখেছেন, ডলফিনদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে খোলা সাগর পাহাড়ার জন্যে। শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে বা তার জানান দিতে এরা পারদর্শী। সমুদ্রের নিচে পুঁতে রাখা মাইন, কম্ব্যাট স্কুবা ড্রাইভার কিংবা শত্রুর যেকোনো তৎপরতা ডলফিনের নজরদারিতেই রয়েছে। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য