kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বসন্তের প্রথম দিন, বিষুব সময় এবং অন্যান্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫৪



বসন্তের প্রথম দিন, বিষুব সময় এবং অন্যান্য

জ্যোর্তিবিজ্ঞানের হিসাবে উত্তর গোলার্ধে এ বছরের বসন্ত শুরু হয়েছে ২০ মার্চ থেকে। উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালীন বিষুব সময় মূলত মার্চ বিষুব সময় নামে পরিচিত। দক্ষিণ গোলার্ধে একে শরৎকালীন বিষুব সময় বলা হয়।

পৃথিবীকে দুই ভাগ করে বিষুবরেখা যা দক্ষিণ থেকে উত্তরে চলে গেছে। বলা হয়, মার্চ বিষুব তখনই শুরু হয় যখন সূর্য কল্পিত বিষুবরেখাকে অতিক্রম করে। এ ঘটনা প্রতিবছরের মার্চের ১৯, ২০ বা ২১ তারিখে ঘটে।

একে বিষুব সময় কেন বলা হয়?
যখন গোটা বিশ্বে রাত ও দিন সমান হয় তখন সূর্য বিষুবরেখার অবস্থান করে। বাস্তবে দিনের আলো ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত পাওয়া যায় না। অয়ন (নিরক্ষরেখার উত্তরে বা দক্ষিণে সূর্যের দূরতম অবস্থানের কাল) এবং বিষুব সময় পৃথিবীর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল চক্রের চাবিকাঠি। এক বছরে দুটো বিষুব সময় থাকে, যেগুলো বসন্ত এবং শরৎ। আর অয়ন থাকে দুই বার, যেগুলো গ্রীষ্ম এবং শীত। উভয় ক্ষেত্রে পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণে সময়কাল নির্দিষ্ট থাকে না। জানুয়ারির প্রথম দিকে সূর্য সবচেয়ে কাছে থাকে যাকে বলা হয় পেরিহেলিওন। আর জুলাইয়ের প্রথম দিকে সবচেয়ে দূরে থাকে যাকে বলা হয় অ্যাপহেলিওন।

বিষুব সময়ে কি ঘটে?
পৃথিবী তার অক্ষপথে সব সময় ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে ঘুরতে থাকে। বছরের দুটো বিষুব সময়ে হয় উত্তর গোলার্ধে অথবা দক্ষিণ গোলার্ধে পৃথিবী সূর্যের দিকে একটু বেশি হেলে যায়। সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রমের সময় গোটা বিশ্বে একই সময় বিষুম সময় দেখা দেয়। এ সময়টা সূর্যের দিকে পৃথিবী হেলে থাকে না। ২০১৬ সালে এ ঘটনা ঘটেছে ভোর ৪টা ৩০মিনিট ইউটিসি (জিএমটি) সময়ে।

২০১৬ সালের বসন্তের প্রথম দিনটি ডুডলের মাধ্যমে উদযাপন করে গুগল। গত বছর দিনটিকে গুগল ডুডলে ফুল দেওয়া হয়। এটাই বসন্তের সার্বজনিন রূপ।

জাপানে বসন্ত আসলে চেরি ফোটে যাকে বলা হয় সাকুরা। এ সময় গোলাপি রংয়ে সেজে ওঠে জাপান। এক মাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। বসন্তের প্রথম দিনের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়।

বসন্তকালীন বিষুব সময় হিন্দুরা হোলি উদযাপন করে। গোটা বিশ্বে ধর্মীয় প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানগুলো দারুণ জনপ্রিয়। ব্রিটেনে নানা আয়োজন থাকে। তবে নেপাল এবং ভারতের দিকে পর্যটকদের দৃষ্টি থাকে।

আমেরিকার কলেজ শিক্ষার্থীরা বসন্তকালীন ছুটি উপভোগ করেন।

নানা ধরনের খাবারের আয়োজন হয় দেশভেদে। ইস্টার স্প্রিংয়ের কিছু জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে জোস পিজারোর স্প্রিং ল্যাম্ব, রোজ প্রিন্সেস ল্যাম্ব স্টেক, মার্টিন মোরালেস পেরুভিয়ান ল্যাম্ব ব্রেইসড ইত্যাদি।

খরগোশ বহুকাল ধরে বসন্তের প্রাচীন প্রতীক হয়ে রয়েছে। বলা হয়, বসন্তের অ্যাংলো-স্যাক্সন দেবী ইয়োস্ট্রের সঙ্গিনী একটি খরগোশ। এটি উর্বরতা ও পুনর্জন্মের প্রতীক। খরগোশ এমনিতেই বংশবিস্তারে বেশ উর্বর এবং এরা বসন্তের শুরুতেই জন্ম দেয়। ইস্টার হেয়ার বসন্তের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে।

বাচ্চাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা অনেক। তাদের বিশ্বাস, ইস্টার বানি ঝুরিতে রং বেরংয়ের ডিম পাড়ে এবং তা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখে। ঝুরিতে নানা উপহার সাজিয়ে লুকিয়ে রাখা হয় বাচ্চাদের জন্যে। সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য