kalerkantho


ফারাও রামেসেস তৃতীয়কে কয়েকজন খুনি হত্যা করেন : মিশরীয় রেডিওলজিস্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২৪



ফারাও রামেসেস তৃতীয়কে কয়েকজন খুনি হত্যা করেন : মিশরীয় রেডিওলজিস্ট

খ্রিষ্টপূর্ব ১১৮৬ অব্দ থেকে ১১৫৫ অব্দ পর্যন্ত মিশর শাসন করেন রামেসেস তৃতীয়। নতুন সম্রাট ফারাও রামেসেসকে কয়েকজন আক্রমণকারী খুন করেছিলেন।

সম্প্রতি তার মমির পোস্টমর্টেম কসমেটিক সার্জারি নানা তথ্য দিয়েছে।

প্রাচীন মিশরের সম্রাটের এসব তথ্য নতুন বইয়ে তুলে এনেছেন কাইরো ইউনিভার্সিটির রেডিওলজিস্ট সাহার সালিম এবং ইজিপটোলজিস্ট জাহি হাওয়াস। বইটি নাম 'স্ক্যানিং দ্য ফারাওস : সিটি ইমাজিং অব দ্য নিউ কিংডম রয়্যাল মামিস'।

হাওয়াস এবং সালিম ১৮ শো থেকে ২০তম শতাব্দির মিশরের সম্রাটদের মমি নিয়ে গবেষণা করছেন। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৪৩ অব্দ থেকে ১০৬৪ অব্দ পর্যন্ত শাসকদের মধ্যে হাতশেপসুট, থুতমোস তৃতীয়, তুতেনখামেন, সেতি প্রথম এবং মারেসেস তৃতীয়ের মতো সম্রাটরা আছেন।

দুই গবেষক জানান, রামেসেস তৃতীয়ের গলা কাটা হয়েছিল। অর্থাৎ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মেরে ফেলতেই এমনটা করা হয়। তার পা দুটো বেঁধে ফেলা হয় এবং পরে কেটে ফেলা হয়। লক্ষণ দেখে মনে করা হচ্ছে, তাকে কয়েকজন হত্যাকারী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দিয়ে মারেন।

গলার দাগ বা পায়ের আঘাত পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কুড়াল বা তলোয়ার দিয়ে সামনে থেকে আঘাত করা হয়। আবার পেছন থেকেও চাকু বা ড্যাগার দিয়ে আঘাত করা হয়। সম্ভবত একই সময়ে আঘাতগুলো করা হয়েছিল।

খুনের প্লট :
প্রাচীন প্যাপিরাস পত্রে রামেসেস তৃতীয়কে হত্যার প্লট পাওয়া যায়। মমির টমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যানিংয়ের আগে গবেষকরা সম্রাটকে খুনের প্রমাণপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। প্যাপিরাসের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রামেসেসকে হত্যার পেছনে তার এক স্ত্রী তাইয়ি জড়িত ছিলেন। তার এক সন্তান পেন্তাওয়ারে সিংহাসনের উত্তরাধিকার ছিলেন। তাইয়ি এবং রাজ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য এ খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কিন্তু ছেলের আগে রামেসেস তৃতীয়র এক ভাই রামেসেস চতুর্থ ছিলেন সিংহাসনের প্রথম উত্তরাধিকার। সম্রাটকে খুনের পরিকল্পনা সফল হয়। তবে পরবর্তিতে খুনিদের বিচারের আওতায় আনেন রামেসেস চতুর্থ। এরা সবাই মারা পড়েন। পেন্তওয়ারের মমি পরীক্ষা করে দেখা গেছে তিনি অক্সিজেনের অভাবে মারা পড়েন। ইতিহাস ঘেঁটে বোঝা যায়, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

তবে রামেসেস তৃতীয়র পায়ের ক্ষত বের করাটা নতুন ঘটনা ছিল। ১৮০০ শতকের শেষ দিকে ইজিপ্টের জাদুঘর রামেসেসের মমি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দু্ই পায়ের রেজিনপূর্ণ পাতলা স্তরটি সরাতে ব্যর্থ হয়। আর এর মধ্যেই বড় রহস্য লুকিয়ে ছিল।  

মমির জন্যে প্লাস্টিক সার্জারি :
রামেসেস তৃতীয়র মমি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যাকে প্রাচীন মিশরের কসমেটিক সার্জারি বলা যেতে পারে, জানান সালিম এবং হাওয়াস। মমিকরণের উপকরণ তার ত্বকের নিচে দেওয়া হয় যেনো মৃত্যুর পরও তাকে অনেক প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। বিখ্যাত মমি তুতেনখামেনকেও একই প্রক্রিয়ায় মমি করা হয়েছিল।

সিটি ক্যানিংয়ের মাধ্যমে মমি সম্পর্কে এত বেশি তথ্য সংগ্রহ করা গেছে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে সালিম এবং তার সহকর্মীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন জন ফারাও সম্রাটের পিঠে ও মেরুদণ্ডে চরম ব্যথা ছিল যা এক্স-রের মাধ্যমে ধরা সম্ভব হয়েছে। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মমির দাঁতের ক্ষয় থেকে শুরু করে তাদের চুলের স্টাইল পর্যন্ত বের করা গেছে। সূত্র : লাইভ সায়েন্স

 


মন্তব্য