kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পুরুষরা কি প্রকৃতিগতভাবেই বহুগামী হন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৫:২৫



পুরুষরা কি প্রকৃতিগতভাবেই বহুগামী হন?

বহু পুরনো একটি প্রশ্ন, পুরুষরা কি প্রকৃতিগতভাবে একগামী হয়? অভিনেতা এডওয়ার্ড ফক্সের কাছে জবাবটা পরিষ্কার। বলেন, সম্পর্কে পুরুষরা প্রকৃতিগতভাবেই বিপথে চলে যায়।

কারণ পুরুষরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের সৃষ্টি। পুরুষদের বিভিন্ন স্থানে তার বীজ ছড়িয়ে দিতে হয়। কিন্তু নারীদের একই জৈবিক তাড়না নেই, এটা প্রাকৃতিক।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, পুরুষদের হার্ডওয়্যার বহুগামী হওয়ার জন্যেই তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আরো সিরিয়াস হয় গত বছর। এক মনোচিকিৎসক ড. জোসেপ ব্রে'র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তার কাছে এক নারী আসেন চিকিৎসা নিতে। ওই নারীর স্বামী অন্য সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তাই বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। মনোবিজ্ঞানী তাকে বলেছিলেন, বিবাহিত জীবনে সততা আশা করা অযৌক্তিক। তার এ মন্তব্যেই ১২ মাসের জন্যে সাসপেন্ড করা হয়। রোগীর চিকিৎসাকালে তিনি নিজস্ব ধারণা চাপিয়ে দিয়েছিলেন- এ অপরাধে শাস্তি হয় তার।

১৯৪৮-১৯৫৩ সালের নামকরা এক যৌনবিষয়ক গবেষণায় বলা হয়, আমেরিকার ৫০ শতাংশ পুরুষ বিয়ের বাইরে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন। ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. ক্যাথেরিন এম হার্টলেইন এ সংখ্যাকে ৪০ শতাংশে এনেছেন নিজের গবেষণায়।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের মনোবিজ্ঞানী ডেভিড এম বাসের মতে, পুরুষরা প্রকৃতিগতভাবেই একাধিক নারী সঙ্গিনী খুঁজে থাকেন। নারীরা এমনটা হন না প্রকৃতিগতভাবে। পুরুষরা বংশবিস্তারে একাধিক নারীর সঙ্গে মিলিত হতে পারেন। পুরুষের সীমাহীন বীর্য সে বহু নারীকে দিতে পারেন। কিন্তু নারীকে প্রতিটা জন্মের জন্যে ৯-১০ মাস অপেক্ষায় থাকতে হয়। পুরুষরা এসেই চলে যেতে পারেন। কিন্তু নারীরা সেখানেই পড়ে থাকেন।

এ কারণে পুরুষ তার জেনেটিক সাম্রাজ্য বিস্তারে যতদূর সম্ভব যেতে পারেন। কিন্তু নারীদের সঙ্গী পেতে পুরুষের দ্বারা পছন্দনীয় হতে হয়।

লেখক ড্যানিয়েল বার্গনার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, নারীরা বিবর্তনগতভাবে একগামী নয়। তবে সাংস্কৃতিকভাবে তারা বন্দি হয়ে পড়েছে।

কুইনস ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী মেরেডিথ শিভারস জানান, দু্জন পুরুষের উপস্থিতিতে একজন নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা পরীক্ষা করা হয়। এদের একজন ওই নারীর সুঠামদেহী বন্ধু। আরেকজন ছিলেন হ্যান্ডসাম আগন্তুক। পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই নারী আগন্তুককেই বেছে নিয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষক সিন্ডি মেস্টন তার 'হোয়াই ওমেন হ্যাভ সেক্স' বইয়ে লিখেছেন, পুরুষদের চেহারা, বিশেষ গন্ধ এবং গভীর কণ্ঠস্বর নারীর একগামী বা বহুগামী হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।

১৪২ জন নারীকে পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনিয়ে তাদের মানসিকতা দেখা হয়। গভীর কণ্ঠ নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে। আবার কণ্ঠের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিষয়টাও কাজ করে। গম্ভীর কণ্ঠের সুঠাম দেহের পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ জেনেটিক। এর জন্য অযথাই নারীকে দোষ দেওয়া যায় না।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নারীদের কাছে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর্কটিকে দুই জোড়া দম্পতি একে অপরকে বিয়ে করেন। যেন তাদের সন্তানরা এমন রুক্ষ পরিবেশে বেঁচে থাকতে দুই জোড়া বাবা-মা পান।

অর্থাৎ, নারী বা পুরুষের বহুগামী হওয়ার শুধু ভেতরের কারসাজি নয়। এটা বিবর্তন এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের কারণেও ঘটে থাকে।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, নারীরা প্রকৃতিগতভাবে একগামী হন না। তবে পুরুষদের হার্ডওয়্যারটাই এমন যে তারা বহুনারীতে আসক্ত হবেন।
সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য