kalerkantho


জোয়ান অব আর্কের আঙটি নিয়ে আবারো ব্রিটেন-ফ্রান্সের পুরনো যু্দ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১২:৪৬



জোয়ান অব আর্কের আঙটি নিয়ে আবারো ব্রিটেন-ফ্রান্সের পুরনো যু্দ্ধ

৬০০ বছর ধরে তিনি ফ্রান্সের জাতীয় হিরোইন হিসাবে সম্মানিত। সে দেশ থেকে ইংরেজদের হটানোর কাজে জোয়ান অব আর্ক এক বীরাঙ্গনার নাম। এতদিন পর জোয়ান অব আর্ককে নিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো দুই শত্রুর মধ্য আবারো যুদ্ধের ডামাডোল শুরু হয়েছে।

গত মাসে লন্ডনে ওই কিংবদন্তি শহীদের আঙটি নিলামে প্রায় ৩ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়। স্বর্ণে মোড়ানো ওই রূপার আঙটি পরতেন স্বয়ং জোয়ান অব আর্ক।

এই আঙটি জোয়ানের প্রথম উপাসনা উপলক্ষে তাকে উপহার দিয়েছিলেন বাবা-মা। বন্দি থাকাকালে ১৪৩১ সালে ওই আঙটি জব্দ করেছিলেন ইংলিশ বিশপ। এটাকে যুদ্ধে লুটকৃত সম্পদ হিসাবে নিয়ে যান ইংল্যান্ডে। ৬০০ বছর ধরে সেখানেই থাকে আঙটিটি।

অবশেষে নিলামে ফ্রান্স তাদের সেই গর্বের ধন ফিরিয়ে নিতে পেরেছে। নিলামে ওঠানোর আগে এর দাম ধরা হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার পাউন্ড।

জোয়ান অব আর্কের আঙটি ফিরে আসাতে উপলক্ষে পশ্চিম ফ্রান্সের নান্তেসের লি পাই দু ফো পার্কে জড়ো হন ৫ হাজার মানুষ। জাঁকমজমপূর্ণ আয়োজনে বরণ করা হয় আঙটি। এই প্রতিষ্ঠান নিলামে আঙটির ক্রেতা।

পার্কে প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, এটা ফ্রান্সের একটি অংশ যা ফেরত পেয়েছি আমরা। এটা ফ্রান্সে এসেছে এবং এখানেই থাকবে।

তবে জোয়ান অব আর্কের আঙটি ফিরিয়ে আনার পরই আরো ঘটনা জানালেন ভিলিয়ার্স। জানান, ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে একজন আইনজীবী পাঠিয়েছেন আঙটি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে। আমাদের বলা হয়েছে যে, ন্যাশনাল আর্ট কাউন্সিল এই আঙটিকে ঐতিহাসিক নিশানা হিসাবে গণ্য করেছেন যা জাতীয়তাবাদের এক অমূল্য সম্পদ। এক আইনের মাধ্যমে রক্ষা করা উচিত।

ব্রিটিশদের চাহিদা মেটাতে ওই পার্কের ইউরোপিয়ান আইনানুসারে বিশেষ রপ্তানি লাইসেন্স থাকতে হবে।

জাতীয় এবং ঐতিহাসিক সম্পদ রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আবার যে সম্পদের মূল্য ৩৯ হাজার ২১৯ পাউন্ডের বেশি এবং ৫০ বছরের বেশি সেই দেশে রয়েছে তা আইনের মাধ্যমে রক্ষা করা হয়।

যদি সব ঠিক থাকে, ইউকের ক্রেতা দাম নির্ধারণে একটা সুযোগ পাবেন।

নিলাম হাউজ টাইমলাইনের এমডি ব্রেট হ্যামোন্ড জানান, আমরা লন্ডনে এক আইনজীবীর কাছে আঙটিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। তবে আমরা তাকে জানিয়েছি যে, আঙটিটি নিতে একটি রপ্তানির লাইসেন্স লাগবে।

আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের মুখপাত্র জানান, এই আঙটি বিষয়ক অন্যান্য প্রক্রিয়া গোপনীয়। তবে এই সম্পদের বয়স ও মূল্য নির্ধারণ করে একে রপ্তানি করতে হলে ব্যক্তিগত লাইসেন্স লাগবে।

ভিলিয়ার্সের ছেলে নিকোলাস ওই থিম পার্কটি পরিচালনা করেন। তিনি জানান, আঙটিটি ফেরত দিতে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটা অভাবনীয় যে আঙটি ফ্রান্স ত্যাগ করবে অথবা আরেক ব্রিটিশ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করতে হবে। জোয়ান অব আর্কের এই আঙটি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের শত্রুতার শেষ চিহ্ন।

যদি আঙটি ফেরত দিতেই হয় তবে তা ফ্রান্সের জন্যে এক গভীর বেদনার বিষয়। সেই সঙ্গে তিনি ডোনারদের সহায়তা আশা করেছেন যারা এই আঙটি রক্ষার জন্যে ২০-৫০০০০ ইউরো দান করতে পারেন।

তবে ভিলিয়ার্স শীর্ষস্থানীয় কনজারভেটিভ রাজনীতিবিদ এবং তিনি বলেন, এটাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

৫ হাজার মানুষের সামনে ভিলিয়ার্স চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করেন, এই আঙটি কি ব্রিটিশ ঐতিহ্যের অংশ? উপস্থিত জনতা চিৎকার করে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, যাবতীয় নিয়মকানুন দেখে একে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাইরে আনতে হবে। আঙটিকে তারা ওই থিম পার্কের বাইরেই যেতে দেবেন না বলে মনস্থির করেছেন।

তিনি ব্রিটিশদের উদ্দেশ করে বলেন, যদি এটি দেখতে চান তবে পাই দু ফো পার্কে চলে আসুন। এই আঙটি ফ্রান্সে ফিরে এসেছে এবং এখানেই থাকবে। এমনকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কমিশন নির্দেশ করলেও তা যাবে না।

এক টিনএজ মেয়ে ওয়ার কমান্ডার জোয়ান অব আর্কের মতো পোশাক পরে আঙটিটি বহন করে নিয়ে যান। ১৪২৯-১৪৩১ সাল পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে। বন্দি হওয়ার সময়ও ফ্রান্সের মাটি রক্ষার জন্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে যান।

ফ্রান্সের আরেক জাতীয় নেতা ম্যারিন লে পেন টুইটারে ভিলিয়ার্সকে ধন্যবাদ জানান আঙটিটি ফেরত আনার জন্য।
সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য