kalerkantho


যৌনকর্ম যখন যন্ত্রণাদায়ক ও প্রাণঘাতী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪০



যৌনকর্ম যখন যন্ত্রণাদায়ক ও প্রাণঘাতী

মানুষসহ বেশ কয়েকটি প্রাণীর কাছে যৌনতা বেশ উপভোগ্য। বেশ কয়েকটি প্রাণী কেবল বংশবিস্তার নয়, সঙ্গী-সঙ্গিনীকে আনন্দ দিতে যৌনকর্মে অংশ নেয়। কিন্তু এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যাদের কাছে সেক্স আনন্দের উৎস নয়। এই জৈবিক ক্রিয়া সম্পন্নের জন্যে প্রকৃতি সবার ভাগ্যে আনন্দ দেয়নি। অনেকের জন্যে তার দারুণ ক্ষতিকর, এমনকি প্রাণঘাতী হতে পারে। জেনে নিন এমনই কিছু প্রাণীর কথা।

১. ম্যান্টিস রেলিগিওসা যাকে আমরা ঘাসফড়িং নামেই চিনি। ছবিতে স্ত্রী প্রজাতির ঘাসফড়িংটি মিলনের একপর্যায়ে তার পুরুষ সঙ্গীর মাথাটিই ছিঁড়ে ফেলেছে।

২. পুরুষ সিড বিটলের এই সুচাল কাঁটাগুলো পুরুষাঙ্গ হয়ে কাজ করে। ২০০৭ সালে 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস'-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে একে ক্ষতিকর জননেন্দ্রিয় বলে মন্তব্য করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই যৌনক্রিয়ায় স্ত্রী প্রজাতিকে দারুণ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

৩. কুইন ব্যান্ডের ভোকাল ফ্রেডি মারকারি গেয়েছিলেন, খুব বেশি ভালোবাসা তোমায় খুন করবে। এ কথা সত্যি অস্ট্রেলিয়ার এক বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরসদৃশ প্রাণী অ্যান্টিচিনাসের জন্যে। প্রতিবছর মিলনের মৌসুমে এদের মাঝে নরক নেমে আসে। পুরুষরা একের পর এক নারীর সঙ্গে মিলিত হতে থাকে। একে বিজ্ঞানীরা 'ম্যারাথন সেক্স' বলে মন্তব্য করেন। দিনে টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে এরা যৌনমিলন করে থাকে। একপর্যায়ে পুরুষের গায়ের সব লোম পড়ে যেতে থাকে, চোখ অন্ধ হয়ে যায় এবং স্ট্রেস হরমোন ক্ষরণে এরা মরেও যায়।

৪. অরব-ওয়েব মাকড়সার স্ত্রী প্রজাতিরা যৌনতার সময় ক্যানিবাল হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, স্বজাতিকে খেয়ে ফেলে। যৌনকর্ম চলাকালে তারা পুরুষ সঙ্গীকে ভক্ষণ করতে থাকে। পুরুষরা বাঁচতে অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করে। এদের পুরুষাঙ্গের একটি অংশের নাম 'পালপস'। স্ত্রীর প্রজননতন্ত্রে পালপস প্রবেশ করিয়ে দিয়ে তা ভেঙে ফেলে পুরুষরা। এরপর দ্রুত দৌড়ে পালায়। পালপস সুষ্ঠুভাবে শুক্রাণু সরবরাহ করতে থাকে।

৫. এক ধরনের শামুক রয়েছে যার স্ত্রী এবং পুং উভয় লিঙ্গ থাকে। এরা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলে মাথার দিকে থাকা বক্র একটা তীরের মতো অংশ অপরের দেহে গেঁথে দেয় এবং এক ধরনের পদার্থ ঢেলে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, এই তীরটি তারা একে অপরের দেহে গড়ে ৩০০০ বার গেঁথে দেয়।

৬. সমুদ্রের কিছু স্লাগ উভলিঙ্গ হয়। এদের পুরুষাঙ্গকে বিজ্ঞানীরা 'সুইস আর্মি নাইফ' বলে থাকেন। দুই কাঁটাওয়ালা যৌনাঙ্গ তারা অপরের দেহে গেঁথে দেয়। শুধু তাই নয়, একে নোঙরের মতো গেঁথে টেনে আনে তারা।

৭. এক প্রজাতির বিড়াল রয়েছে যাদের যৌনতা স্ত্রী প্রজাতির জন্যে প্রাণঘাতী অত্যাচারের মতো। এদের পুরুষাঙ্গে কয়েক ডজন শক্ত কাঁটা রয়েছে। এটি স্ত্রী যোনি পথে প্রবেশ বা বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

৮. ১৯১৩ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো লক্ষ করেন, বিছানার ছারপোকাগুলো যৌনতাও প্রকৃতির ভয়ংকর জৈবিককর্ম। এদের পুরুষের রয়েছে সুচের মতো যৌনাঙ্গ। সুচাল অঙ্গ দিয়ে তারা স্ত্রীর দেহে ক্ষত সৃষ্টি করে। সেই ক্ষতে শুক্রাণু ঢেলে দেয়।
সূত্র : লাইভ সায়েন্স

 


মন্তব্য