kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


দানবীয় গর্তের সন্ধান, রহস্যজট খুলতে পারে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৭



দানবীয় গর্তের সন্ধান, রহস্যজট খুলতে পারে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের

বোমা ফাটালেন নরওয়ের এক দল বিজ্ঞানী। সম্প্রতি তাদের এক ঘোষণায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তারা বারেন্টস সাগরে এক দানবীয় গর্ত খুঁজে পাওয়ার কথা জানান। প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে এই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা। তাদের বিশ্বাস, এই আবিষ্কার চির রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অজানা বিষয় জানাবে।

নরওয়ের আর্কটিক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী দল দেশটির উপকূলবর্তী একটি অংশে সাগরের তলদেশে বিশাল এক গর্তের সন্ধান পেয়েছেন। এর মুখ প্রায় আধা মাইল চওড়া এবং ১৫০ ফুট গভীর। তলদেশে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে এটি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক এই গ্যাস সেখানে আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা তাদের।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসা মিথেন চলাচলরত জাহাজের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এর আগে বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে অসংখ্য জাহাজ ও বিমান রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়েছে। মিয়ামি, বারমুডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মাঝের একটি অঞ্চল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক ম্যাগাজিনে বলা হয়, অদ্ভুত হলেও সত্য যে, মিথেন গ্যাস মাটি থেকে বাসাতে বেরিয়ে আসতে পারে এবং পরিবেশটাকে নারকীয় করতে সক্ষম। এমন পরিবেশে একটি বিমানও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কি আসলেও সত্য?
জাহাজ ও বিমান হারিয়ে যাওয়ার গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়ে আজ থেকে ৬০ বছর আগে। ফ্লোরিডা থেকে ইউএস নেভির ৫টি বিমান উড়াল দেওয়ার পর বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলে কোনো চিহ্ন ছাড়াই হারিয়ে যায়। ঐতিহাসিকবিদদের নানা হিসাবে দেখা গেছে, এ অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০টি জাহাজ নিখোঁজ হয়ে গেছে। বিংশ শতকেও অনেকগুলো জাহাজ ও বিমান হারিয়ে যায়। এমনকি ১৪৯২ সালে কলম্বাসও এ অঞ্চলে কম্পাসের অদ্ভুত আচরণের কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন।

তবে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। ইউএস নাভাল হিস্টোরিক্যাল ফাউন্ডেশনের ইতিহাসবিদ জন রিলে বলেন, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে বেশ কয়েকটি জাহাজ ও বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এটা কোনো রহস্য নয়। নিউ জার্সির টার্নপিকে যেমন খুব বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়, তেমনি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ঘটনাও একই।

সেখানে জাহাজ ডুবে গেছে বাজে আবহাওয়ার কারণে। এর আরো গ্রহণযোগ্য এবং আকর্ষণীয় ব্যাখ্যা হতে পারে, হ্যাস হাইড্রেটস-এর কারণে এমনটা ঘটে।

গ্যাস হাইড্রেটস কি?
জাহাজ বা বিমানের রহস্যময়ভাবে হারিয়ে যাওয়া নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু গ্যাস হাইড্রেটস বাস্তবে রয়েছে। গন্ধবিহীন এক ধরনের গ্যাস রয়েছে প্রকৃতিতে। অর্গানিক উপাদানগুলোর মিশেল সুষম না হলে এমন গ্যাসের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের নিচে অনেকটা বরফের মতো ক্রিস্টালে আটকে যেতে পারে মিথেন গ্যাস। এই ক্রিস্টালকে হাইড্রেটস বলে।

বরফের মতো উপাদানটি ভেঙে যেতে পারে। এর বিস্ফোরণ দানবীয় হতে পারে। যা সমুদ্রের তলদেশের তেল ক্ষেত্রে কর্মরতদের জন্যে জীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের বিস্ফোরণকে তারা সমুদ্রের 'প্রাণঘাতী ঢেকুর' বলে মন্তব্য করেন।

গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই 'ঢেকুর' জাহাজ ডুবিয়ে দিতে বা বিমানের ইঞ্জিন বিকল করতে সক্ষম। কিন্তু এদের প্রভাব ও ফলাফল বাস্তব দুনিয়ায় পরিষ্কার হয়ে দেখা দেয় না। সেখানে বহু বিষয় সবার অজান্তে ঘটে যেতে থাকে। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য