kalerkantho


সিরিয়ার চোরাচালানকৃত পায়রার খোঁজে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ১৮:১৭



সিরিয়ার চোরাচালানকৃত পায়রার খোঁজে

মধ্যপ্রাচ্যের বহু মানুষেরই প্রিয় পাখি পায়রা। যুদ্ধে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে সিরিয়াতেও ছিল অসংখ্য পায়রা। এ পায়রা নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষকে একত্রিত করতে সহায়তা করত। সম্প্রতি বিধ্বস্ত সিরিয়ার পায়রাগুলো কোথায় গেল তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে ছিল অসংখ্য সেরা জাতের পায়রা। এ পায়রাগুলো নানা প্রতিযোগিতা ও বিনোদনমূলক কাজে সিরীয়দের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একত্রিত করতে ভূমিকা রেখেছিল। তবে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর পায়রাদের মালিকেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সিরিয়া ছেড়েছেন। ফলে পায়রাগুলোর দেখাশোনা করার মানুষও পাওয়া ভার হয়ে পড়েছে।
সিরিয়ার এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, কী ঘটেছে সে পায়রাগুলোর ভাগ্যে? এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহু পায়রাই এখন সিরিয়া থেকে চোরাচালানের শিকার হয়ে লেবাননে চলে গিয়েছে। হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর দিয়েই ঘটেছে এ ধরনের বহু চোরাচালানের ঘটনা।

নানা ধরনের বাহারি নামের পায়রা রয়েছে এ এলাকায়- অ্যাবলাক, বাগদাদি, রিহানি, শিকলি ইত্যাদি। এসব পায়রার কোনো কোনোটির মূল্য ১৫ হাজার ডলারেরও বেশি। এসব পায়রার পায়ে পরানো হয় মূল্যবান অলংকার।
এ ধরনের মূল্যবান পায়রার ক্রেতা হিসেবে সে এলাকায় গিয়েছিলেন স্টিফেন পেইরিস। তিনি জানান, তিনি হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গিয়েছিলেন মূল্যবান পায়রার খোঁজে। সেখানে শুধু পায়রাই নয়, রয়েছে প্রচুর মারিজুয়ানার ক্ষেতও। তিনি সেখানে জানতে পারেন, পায়রাগুলোর একাংশ জর্ডানের রাজধানি আম্মানেও চলে যাচ্ছে।
পায়রার খোঁজে এক পর্যায়ে তিনি নাসের আল-হিন্দির বাড়িতে যান। তিনি ৩০ বছর ধরে পায়রা পালন করেন। তার বাড়িতে রয়েছে অসংখ্য মূল্যবান পায়রা। তার বাড়িতে রয়েছে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার মূল্যের পায়রা। তার পায়রা রাখার স্থান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
নাসের জানান, ‘গত পাঁচ বছরে সিরিয়ানরা তাদের পায়রা বিক্রি করছেন খাবার কেনার জন্য। ’
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের কারণে বিস্ফোরণসহ নানা দুর্ঘটনায় পায়রার মৃত্যু হচ্ছে। আর এ কারণে পায়রাগুলো লেবাননে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। লেবানন থেকে আবার পায়রাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। আর এভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বাইরে চল যাচ্ছে সে দেশের নানা জাতের পায়রাগুলো।


মন্তব্য