kalerkantho

25th march banner

জরায়ুর অস্বাভাবিক অবস্থা এন্ডোমেট্রিওসিস

দশ সেলিব্রিটি জানালেন তাদের যন্ত্রণাকাতর জীবনের কথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫২



দশ সেলিব্রিটি জানালেন তাদের যন্ত্রণাকাতর জীবনের কথা

মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হারে দেখা যায় এন্ডোমেট্রিওসিস। এটা নারীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা যা জরায়ু সংশ্লিষ্ট। আমেরিকার এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে একজন এ রোগে আক্রান্ত। গোটা বিশ্বে ১৭৬ মিলয়িন নারী এন্ডোমেট্রিওসিস ডিসঅর্ডারে ভুগছেন।

এ সমস্যা হলে জরায়ুর অভ্যন্তরে যে টিস্যু থাকে তা বাইরের দিকে চলে আসে। এটা দারুণ যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। যৌনকর্ম বা মূত্র ত্যাগের সময় প্রচণ্ড কষ্ট হতে পারে। পিরিয়ডও অনেক যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে নারীদের সচেতনতা বাড়াতে বহু সেলিব্রিটি মুখ খুলেছেন। তারাও এ রোগে আক্রান্ত। জেনে নিন তাদের এন্ডোমেট্রিওসিস ডিসঅর্ডারে ভোগান্তির গল্প।

১. পদ্ম লক্ষ্মী : ৩৬ বছর বয়সে এ রোগে আক্রান্ত হন আমেরিকান মডেল, অভিনেত্রী এবং মিডিয়া পারসোনালিটি। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, এ রোগটি সালমান রুশদির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাঙনের অন্যতম কারণ হিসাবে কাজ করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী কেউ-ই তা বুঝতে পারেননি। পরে বুঝতে পারেন।

২. হালসে : ২১ বছর বয়সী 'নিউ আমেরিকানা' গায়িকা এ রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন। টুইটার বার্তায় তিনি জানান, কোনো নারী যদি এ সমস্যায় ভোগেন, তবে মনে রাখবেন আপনি একা নন। এটা কতটা কষ্টদায়ক তা আমি বুঝি। এ রোগ আপনার যাবতীয় ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দেবে। স্কুল, অফিস বা যেকোনো কাজ করতে পারবেন না। কখনো সন্তান নিতে পারবেন না। অদ্ভুত চিকিৎসা নিতে হবে।

৩. হুপি গোল্ডবার্গ : বহু কাল ধরে এ তারকা এন্ডোমেট্রিওসিসের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। বলেন, অবাক হওয়ার বিষয় হলো, অসংখ্য নারী এর সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। প্রিয়জন বা অন্য মানুষের যেকোনো মন্তব্য মেনে নিতে হবে। রোগ জানার পরও আপনি চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন না। এর থেকে পরিত্রাণ মোটেও সহজ কাজ নয়।

৪. লিনা ডানহাম : 'গার্লস' তারকা এইচবিও সিরিজের নতুন মৌসুমের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কারণ তিনি এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। জানান, এক নিদারুণ কষ্ট নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। ২০১৪ সালের প্রথম দিকে এ রোগের য্ন্ত্রণার কথা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, মনে হয় কেউ আমার মধ্যে ভিনেগার ঢেলে দিয়েছে। এরপর তাতে দিয়েছে বেকিং সোডা। মনে হয় ভেতরে এগুলো বুদ্বুদ আকার ফুলে-ফেঁপে উঠছে।

৫. টিয়া মাউরি-হারডিক্ট : এন্ডোমেট্রিওসিস ধরা পড়ার পর টিয়াকে জীবনযাপন বদলাতে হয়েছে। সন্তান ধারণের জন্যে দুই বার সার্জারি করিয়েছেন। বললেন, এ রোগ ধরা পড়ার পরও আমি একটা সন্তান নিতে চাইছি। এটাই সবচেয়ে বড় ভয় হয়ে দেখা দিয়েছিল। এটি আমাকে নিয়ন্ত্রণহীক করে তুলেছে।

৬. সুসান সারানডন : ১৯৮৩ সালে এ তারকার একই সমস্যা ধরা পড়ে। তখন থেকেই তিনি নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও বোঝাচ্ছেন তারা কিভাবে নারীদের পাশে দাঁড়াতে পারে। অনিয়মিত রক্তপাত হতো তার। যখন তখন মূর্ছা যেতেন। জানালেন, শুধু মনে রাখবেন, এর যন্ত্রণা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এ যন্ত্রণার মাত্রা নারীদের পরিচয় প্রকাশ করে না। যে পরিচায় মাতৃত্ব দেয়। আবার পুরুষদের এটা হয় না বলে এই নয় যে তাদের এতে কিছু যায় আসে না।

৭. জুলিয়ানে হগ : যখন এ রোগ হয়, জুলিয়ানের মনে হয়েছিল, কেউ তার মধ্যে একটা চাকু ঢুকিয়ে দেয়। 'ড্যান্সিং উইথ দ্য স্টারস' তারকা ২০০৮ সালের মাঝামাঝি ল্যাপারোস্কোপি সার্জারি করিয়েছে মা হওয়ার জন্য। বিগত ৫ বছর ধরে এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি আমি। ধরা পড়লে আমি নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছি।

৮. ডলি পার্টন : ১৯৮২ সালে ৩৫ দিনের লম্বা ট্যুর নিয়ে প্রস্তুত হলেন ডলি। কিন্তু শিগগিরই তাকে হাসপাতালে যেতে হলো। এন্ডোমেট্রিওসিস দেখা দিল তার। সন্তান নিতে পারবেন না জানার পর বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। একটা সময় প্রতিদিনই মনে হতো, তার যদি আত্মহত্যা করার সাহস থাকতো!

৯. মেগ ক্যাবোট : ২০০৭ সালে লেখিকা লেখলেন, এন্ডোমেট্রিওসিস হয়েছে জানার পর থেকে আমি একটা শক খেলাম। ২৮ বছর ধরে এ রোগ বয়ে বেড়াচ্ছি। এটি প্রতি মুহূর্তে আমাকে খুন করে চলেছে। অথচ আমি জানতেও পারিনি। কিন্তু যন্ত্রণাভোগ ঠিকই করতে হয়েছে।

১০. জিলিয়ান মিখায়েলস : ২৮ বছর বয়সে এ রোগ ধরা পড়ে তার। তিনি জানান, আমাকে প্রথম থেকেই বলা হয় গর্ভধারণ সম্ভব হবে না। কিন্তু কেন হলো এটি? চিকিৎসকরা জানালেন, আমার দেহে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন রয়েছে। আবার এও বলা হলো, এটা জেনেটিক কারণে হয়েছে। আবার অনেকে বললেন, জন্মবিরতিকরণ পিল বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি। তবে সার্জারি নিতে হবে তা জানতেন জিলিয়ান। ২০১২ সালে মা হয়েছেন। কিন্তু দুটো সন্তানই দত্তক নেওয়া তার। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য