kalerkantho

26th march banner

গোটা দেহে যেভাবে প্রভাববিস্তার করে বিষণ্নতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১০:৪৪



গোটা দেহে যেভাবে প্রভাববিস্তার করে বিষণ্নতা

মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এর প্রমাণ দিয়েছে নতুন এক গবেষণা। সেখানে বলা হয়, বিষণ্নতা এমন এক রোগ যা মানুষের গোটা দেহে প্রভাববিস্তার করে। ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডার এক দল গবেষক এ তথ্য দেন।

গবেষকরা ২৯টি অতীত গবেষণার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করেন। বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার আগে ও পরের অবস্থায় তাদের দেহকোষের বায়োমার্কার দেখেন তারা। এরা সবাই অ্যান্টিডিপ্রেসমেন্ট চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এদের তুলনা করা হয় অন্য একটি দলের সঙ্গে যাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো। বিজ্ঞানীরা বিশেষ ক্ষেত্রে ম্যালোনডায়ালডিহাইডের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন। এটা একটি বায়োমার্কার যা কোষের ক্ষয় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা নির্দেশ করে। বিষণ্নতা এবং দেহের বিভিন্ন উপাদানের অবস্থা দেখা হয়।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তখনই দেখা দেয় যখন দেহে ক্ষতিকর নানা উপাদান অতিমাত্রায় উৎপাদিত হয় এবং এগুলো বের করে দেওয়ার শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ক্ষতিকর উপাদানগুলো মলিকিউল যা প্রোটিন, লিপিড এবং ডিএনএ-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নানা রোগ সৃষ্টি করে। এর আগে বিষণ্নতা এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখা হয়নি।

বিষণ্নতায় আক্রান্তদের দেহে চিকিৎসার আগে ম্যালোনডায়ালডিহাইডের মাত্রা বেশি ছিল। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জিঙ্ক এবং ইউরিক এসিডের মাত্রা ছিল অনেক কম। এটাই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। তবে চিকিৎসা গ্রহণের পর তাদের দেহে ম্যালোনডায়ালডিহাইডের পরিমাণ কমে যায়।

গবেষকদের মতে, বিষণ্নতাকে 'সিস্টেমেটিক ডিজিস' হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। সে ক্ষেত্রে বিষণ্নতার সঙ্গে কার্ডিওভাসকুলার রোগেরও সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষকদের মতে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বিষণ্নতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

এর আগে এক গবেষণায় মানসিক স্বাস্থ্য ও দৈহিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিষণ্নতার কারণে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। আর এ সমস্যা জেনেটিক বলেও এক গবেষক মত দিয়েছেন। এ ছাড়া এসব মানসিক সমস্যার লক্ষণ দৈহিক অবস্থা দেখে নির্ধারণ করা যায়।

এ গবেষণার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তা করবে মানুষ। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের গবেষক সাগর পারিখ জানান, মস্তিষ্ক এবং দেহের মধ্যে সংযোগ রয়েছে। কাজেই মানসিক সমস্যার কারণে দেহকে প্রভাববিস্তার করবে, এটাই স্বাভাবিক। কাজেই মানসিক রোগের চিকিৎসা হলে দৈহিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য