মুরগী- ইরাকে আইএস-এর আরেক শিকার!-334419 | বিবিধ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২১ জিলহজ ১৪৩৭


মুরগী- ইরাকে আইএস-এর আরেক শিকার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২৭



মুরগী- ইরাকে আইএস-এর আরেক শিকার!

২০১৪ সালের গ্রীষ্মের এক উত্তাল দিন। ইরাকের উত্তরাংশের এ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল। সেখান হানা দেয় আইএস। প্রাণ বাঁচাতে সবাই যার যার মতো পালানোর চেষ্টা করলেন। পাহাড়ের মধ্যে বছর খানেক পালিয়ে বেঁচে যান আহমেদ হুসেইন হামাদ। পৈতৃক প্রাণটা বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর পর যখন বাড়িতে ফিরলেন, সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চেয়েও খারাপ কিছুর দেখা মিললো তার।

বাড়িতে ফিরে হামাদ যা দেখলেন তা কখনোই আশা করেননি। আইএস বাহিনী ঘরবাড়ি ধ্বংস বা মানুষ হত্যা তো করেছেই, তার বাড়ির মুরগীগুলোকে পর্যন্ত ছাড়েনি! তার পূর্ব পুরুষরা পর্যন্ত কয়েক প্রজন্ম ধরে মুরগী পালন করে আশপাশের গ্রামে ডিম সরবরাহ করেছেন।

তার বাড়ির দেয়ালে গোলার বিরাট বিরাট গর্ত। অর্ধেকটা ফুটবল মাঠের সমান দুটো মুরগী পালনের গোলা ছিল। ওগুলো যেন বেশি বেশি ধ্বংস করা হয়েছে।

আবেগে বাকরুদ্ধ হামাদ। বললেন, আমার জীবীকা পর্যন্ত শেষ করে দিয়েছে। ফার্মের জেনারেটরগুলো নেই। এ ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রপাতিও উধাও। আইএস'রা সবগুলো মুরগী খেয়ে ফেলেছে।

ইরাক এবং সিরিয়ার যুদ্ধে কৃষি-খাবার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শস্যের ক্ষেত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বীজের মজুদ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। হামাদের মুরগীর ফার্মের মতোই অবস্থা। যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বা লুট করা হয়েছে।

এই পালিয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো বাড়ি ফিরে এখন খাবার পাচ্ছেন না। তাদের জীবীকা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরাকের উত্তরাংশের সিনজার এবং সুনোনি অঞ্চল আইএস জিহাদিদের দ্বারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

সুনোনির কৃষি অফিসের পরিচালক ইসা আইজার জানান, কৃষির জন্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপানি ও ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন এত অর্থ কিভাবে পাবেন তারা?

সব কৃষক এখন দিশেহারা। বিশেষ করে মুরগী এসব অঞ্চলের সবচেয়ে বিলাসী পণ্যের একটি। এক সময় প্রতি কেজি মুরগী প্রায় দেড় হাজার ইরাকি দিনারে বিক্রি হতো। এখন এর দাম ৩৫০০ দিনারে গিয়ে ঠেকেছে। অধিকাংশের পক্ষে মুরগী কেনা সাধ্যের বাইরে।

বর্তমানে বহু এনজিও কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি একটি আমেরিকান চ্যারিটি সিনজারের ৫০০টি পরিবারের মধ্যে আড়াই হাজার মুরগি প্রদান করেছে। এগুলো ডিম দেবে।

এতে চাহিদা মিটবে না হামাদের। কারণ বহু ক্ষতি হয়ে গেছে। সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রচুর। এমনিতেই বাড়ি-ঘর ও পরিবার হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেবলমাত্র যদি মুরগী ফিরে পান, তবেই পৈতৃক ভিটায় থেকে যাবেন তিনি। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 

মন্তব্য