• ই-পেপার

একটি জিনকে অকার্যকর করুন, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে ৫০ শতাংশ

ডাইনির টুপির পেছনে শত বছরের ইতিহাস, নিপীড়ন থেকে ফ্যাশনের প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
ডাইনির টুপির পেছনে শত বছরের ইতিহাস, নিপীড়ন থেকে ফ্যাশনের প্রতীক

লম্বা, কালো এবং সুচালো টুপি দেখলে অনেকের মনেই প্রথমে ডাইনির কথা আসে। সিনেমা, টেলিভিশন, বই কিংবা হ্যালোইনের সাজ—সব জায়গাতেই এই টুপিকে ডাইনির পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তবে এই পরিচিত টুপির ইতিহাস শুধু কল্পকাহিনি বা বিনোদনের জগতে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বৈষম্য, সামাজিক নিপীড়ন এবং শত শত বছরের পুরোনো নানা ঐতিহাসিক ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইনির টুপির প্রকৃত উৎস নিয়ে এখনো একমত হওয়া যায়নি। তবে আধুনিক সময়ে এই টুপিকে জনপ্রিয় করে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ১৯৩৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘দ্য উইজার্ড অব ওজ’। এই  ছবিতে ‘উইকেড উইচ অব দ্য ওয়েস্ট’ চরিত্রটিকে কালো পোশাক ও সুচালো টুপিতে দেখানো হয়েছিল। এর পর থেকেই ডাইনির পরিচিত চেহারা হিসেবে এই টুপির ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই সিনেমাটি ডাইনির বেশভূষা ও চেহারাকে জনপ্রিয় করলেও ইতিহাসবিদরা বলছেন, সূচালো টুপিকে অশুভ বা ভয়ংকর কিছু হিসেবে দেখার ধারণা এরও বহু আগে থেকে চলে আসছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ত্রয়োদশ শতকে ক্যাথলিক গির্জার নেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সভা আয়োজন করেন, যা পরে ‘গ্রেট কাউন্সিল’ নামে পরিচিত হয়। ওই সভায় এমন একটি নীতি গ্রহণ করা হয়, যার মাধ্যমে ইহুদি ও মুসলমানদের খ্রিস্টানদের থেকে আলাদা করে চেনার জন্য বিশেষ পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়।

সে সময় ইহুদিদের একটি বিশেষ সুচালো টুপি পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই টুপির নাম ছিল ‘জুডেনহাট’। অনেক গবেষক মনে করেন, এটি ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণের একটি উদাহরণ।

সাবেক যাজক ও লেখক জেমস ক্যারল তার বই 'কন্সট্যানটাইন্স সোর্ড : দ্য চার্চ অ্যান্ড দ্য জিউস : এ হিস্টোরি'-এ এই নিয়মকে পরবর্তীকালে নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কুখ্যাত হলুদ ব্যাজ ব্যবস্থার পূর্বসূরি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এর প্রায় এক শতক পর ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে জাদুবিদ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নারীদের ওপরও একই ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়। হাঙ্গেরির জাগরেব এলাকায় অভিযুক্ত নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করার জন্য দেবদূতের ছবি আঁকা সূচালো টুপি পরানো হতো। পরে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।

ফলে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ডাইনির টুপি শুধু কল্পনার জগতের কোনো পোশাক নয়; বরং এটি বহু মানুষের ওপর চালানো বৈষম্য ও নিপীড়নের স্মৃতিও বহন করে।

তবে ডাইনির টুপির উৎস নিয়ে আরেকটি জনপ্রিয় ব্যাখ্যাও রয়েছে। ভেষজ বিশেষজ্ঞ ও নিজেকে ডাইনি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিশেল গেরেরোর মতে, এই টুপির সঙ্গে মধ্যযুগের নারী বিয়ার ব্যবসায়ীদেরও সম্পর্ক থাকতে পারে।

ইতিহাস বলছে, প্রায় ষোড়শ শতক পর্যন্ত ইউরোপে বিয়ার তৈরি ও বিক্রির কাজ মূলত নারীরাই করতেন। এসব নারী ব্যবসায়ী বাজারে নিজেদের সহজে আলাদা করে দেখাতে লম্বা ও সুচালো টুপি পরতেন। এতে ক্রেতারা দূর থেকেই তাদের চিনতে পারতেন।

পরে তাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা দূষিত বিয়ার বিক্রির অভিযোগ তোলা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যবসা ও সামাজিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকের মতে, সেখান থেকেও সূচালো টুপি পরা নারীদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হতে পারে।

তবে সময়ের সঙ্গে ডাইনিদের চিত্র বদলাতে শুরু করে। আগে চলচ্চিত্র ও গল্পে ডাইনিদের সাধারণত দুষ্ট, ভয়ংকর এবং অশুভ চরিত্র হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে তাদের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে।

'চার্মড', 'সাবরিনা দ্য টিনেজ উইচ', এবং 'বাফি দ্য ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ার'–এর মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে ডাইনিদের শক্তিশালী এবং ইতিবাচক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা নিজেদের ক্ষমতা মানুষের উপকারে ব্যবহার করত।

একইভাবে ১৯৯৮ সালের ‘প্র্যাক্টিক্যাল ম্যাজিক’ চলচ্চিত্রে দুই বোনকে অতিপ্রাকৃত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ‘আমেরিকান হরোর স্টোরি :কোভেন' এবং 'দ্য চিলিং অ্যাডভেঞ্চারস অফ সাবরিনা'–এর মতো সিরিজও নতুন প্রজন্মের কাছে ডাইনিদের নতুনভাবে পরিচিত করেছে।

এর প্রভাব ফ্যাশন জগতেও পড়েছে। বর্তমানে অনলাইনে ডাইনিবিষয়ক পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্যের একটি হলো আধুনিক ডাইনির টুপি।

এই টুপিগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়। অনেক সময় বোনা কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এবং দেখতে কিছুটা নরম ও ঝুলে থাকা ধরনের হয়। অনেকের কাছে এগুলো 'হ্যারি পটার' সিরিজের বিখ্যাত ‘সর্টিং হ্যাট’-এর মতো মনে হয়।

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এসব টুপির চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অনেক মানুষ ডাইনি সংস্কৃতি ও এর প্রতীকগুলোর প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তবে এই জনপ্রিয়তা নিয়ে সবার মতো এক নয়। কেউ কেউ মনে করেন, যে প্রতীক একসময় নিপীড়ন ও বৈষম্যের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেটিকে নিছক ফ্যাশনের অংশ বানানো ইতিহাসের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।

অন্যদিকে মিশেল গেরেরোর মতো অনেকে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তার মতে, মানুষ যদি ফ্যাশনের অংশ হিসেবে ডাইনির টুপি পরে, তাহলে সেটি ক্ষতিকর কিছু নয়।

তিনি বলেন, ডাইনিরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আধুনিক সংস্কৃতিতে সেই পরিচয়ই এখন আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

গেরেরোর ভাষায়, ডাইনিদের সাহসী, রহস্যময়, আকর্ষণীয় কিংবা শক্তিশালী হিসেবে দেখা হয়। তারা কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ তাদের কিভাবে কল্পনা করছে তার ওপর। আর এ কারণেই ডাইনির টুপি আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

নিভৃতে আলো ছড়িয়ে যাওয়া একজন মবিনুল হক

পিন্টু রঞ্জন অর্ক
নিভৃতে আলো ছড়িয়ে যাওয়া একজন মবিনুল হক
সংগৃহীত ছবি

প্রচারের আলো এড়িয়ে চলেছেন সব সময়। নিভৃতে কাজ করে যেতেই তার আনন্দ। তাই সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রস্তাব শুনেই মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘এটা তো সমাজের প্রতি আমার দায়িত্ব। প্রচারের কী দরকার?’

‘আপনার এই কাজের কথা জানলে হয়তো আরো অনেকে এগিয়ে আসবেন। ভালো কাজে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করা—এটাও তো সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ব’—এটা শুনে নিমরাজি হলেন।

মুঠোফোনে বললেন, ‘আচ্ছা, কাল সকাল ১১টার দিকে আসুন।’

যথাসময়ে হাজির হলাম হাতিরপুলের বাসায়। একেবারে সড়ক লাগোয়া বাড়ি। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে কতটা খোলামেলা আর সবুজ।

ঘাস, কলাগাছ আর হরেক রকম ফুল-ফলে ছেয়ে আছে বাসার পেছনের খোলা জায়গাটা।

কলিং বেল বাজাতেই এগিয়ে এলেন ভদ্রলোক। হাসিমুখে বললেন, ‘আমি মবিনুল। আসুন।’ 

ভেতরে ঢুকতেই কানে এলো রবীন্দ্রসংগীত—‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু।’ ড্রয়িং রুমের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে সফিউদ্দিনের মতো দেশীয় শিল্পীদের নানা চিত্রকর্ম। আলমারি ঠাসা বই। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে শুরু করে পিকাসোর আলোকচিত্র নিয়ে লেখা বইও আছে সারিতে।

পুরো নাম মীর মবিনুল হক। সদালাপী মানুষটির একদম সাদাসিধে জীবন। বললেন, ‘আগামীকাল (৪ জুন) ফ্লাইট। তাই গোছগাছের জন্য আপনাকে বেশি সময় দিতে পারব না। এ জন্য দুঃখিত।’

মবিনুল হক দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় থাকেন। কিছুদিন আগে দেশে আসেন। বললেন, ‘এবার হাতে সময় কম ছিল। যে কাজের জন্য আসা, অল্প সময়ে সেটা করতে পারব কি না—সংশয় ছিল। পেরেছি বলে তৃপ্তি নিয়ে ফিরতে পারছি।’

কিসে তৃপ্তি তাঁর? : মবিনুল হকের আত্মতৃপ্তির মূলে তিনি নিজেই। গবেষণার উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ভূতত্ত্ব বিভাগে এক কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে ২ জুন। নাম ‘মীর ময়নুল হক অ্যান্ড জন ট্যালেন্ট মেমোরিয়াল এনডাউমেন্ট ফান্ড’। ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর ময়নুল হক এবং ঢাবিতে তাঁর এমএস তত্ত্বাবধায়ক প্রাক্তন ইউনেসকো অধ্যাপক ড. জন আলফ্রেড ট্যালেন্টের স্মৃতি রক্ষার্থে এই ফান্ড। মীর ময়নুল হকের ছোট ভাই এই মবিনুল হক। তিনি সেদিন এক কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের কাছে। এনডাউমেন্ট ফান্ডের ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগে ‘ময়নুল-ট্যালেন্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ স্থাপন করা হবে। অবশিষ্ট ৭০ লাখ টাকার লভ্যাংশ থেকে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চারদের পিএইচডি ও এমফিল গবেষণা, এমএস ফেলোশিপ, স্কলারশিপ ও ফিল্ড ওয়ার্কসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হবে।

বিরল দৃষ্টান্ত : অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ‘এই অনুদান বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বললেন, ‘ভূতত্ত্ব বিভাগের ইতিহাসে এত বড় অনুদান আর কেউ দিয়েছে বলে জানা নেই। বিভাগে ভালোমানের ল্যাব ছিল না। এখন সেই অভাব পূরণ হবে। নিজের সম্পদ বিক্রি করে সব অর্থ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন ড. মবিনুল। এমন দৃষ্টান্ত বিরল!’

বাংলাদেশের ভূ-বিজ্ঞান অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন মীর ময়নুল হক। বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক বলেন, ‘পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্সে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন তিনি। দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে মৌলিক ভূমিকা ছিল মীর ময়নুলের। তাঁর উদ্যোগে পেট্রোবাংলা ড্রিলিং ডেটা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রথমবারের মতো একটি কম্পিউটারাইজড মাড-লগিং ইউনিট সংগ্রহ করে, যা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমায়। মীর ময়নুলের নেতৃত্বে পরিচালিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের রিজার্ভ পুনর্মূল্যায়নে ২.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে ৭.৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নতুন করে ১৩টি কূপ খনন করা হয়। ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

বিলিয়ে দিয়েছেন সব : শুধু ভাইয়ের নামে নয়, মা-বাবার নামেও ফান্ড গড়েছেন মবিনুল হক। উত্তরাধিকার সূত্রে বেশ কিছু সম্পত্তি পেয়েছিলেন তিনি। অর্থমূল্যে সেটা কয়েক কোটি টাকা। নিজের জন্য কিছু না রেখে সব অর্থ দান করেছেন মানুষের কল্যাণে। জনহিতকর কাজে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ আরো কয়েক জায়গায়। উদ্দেশ্য একটাই—কিছু মানুষ যেন ভালো থাকে। বললেন, ‘দেশে আমার সব সম্পদ মানুষের জন্য দান করেছি। আসলে দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কাজে ব্যবহার করতে চেয়েছি।’

অল্প বয়সে বাবাকে হারানো মবিনুল ভাই-বোনের সমর্থনে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। এ জন্য নিজেকে তিনি অনেক ভাগ্যবান মনে করেন। বললেন, ‘কষ্ট পাই, যখন দেখি অহেতুক খরচের নেশায় মত্ত মানুষ। আমি মনে করি, জীবন যাপনের জন্য খুব বেশি কিছু দরকার নেই। যতটা পারা যায় সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে চললে সকলে মিলে ভালো থাকা যায়। নিজের যোগ্যতায় যারা এগোতে চায়, তাদের সাহায্য করাই আমার মূল লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, ‘দেখেছি, শিক্ষার সুযোগ পেলে কিভাবে ছাত্রদের জীবন বদলে যায়। ফান্ডগুলো গঠনের উদ্দেশ্য শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, যাতে অর্থাভাবে কেউ পিছিয়ে না পড়ে।’

চার দশকের শিক্ষক জীবন : ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট মীর মবিনুল হক। বাবা মীর আশরাফুল হক ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। সেই সূত্রে দেশের নানা জায়গায় কেটেছে শৈশব। মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে ক্যান্সারের কাছে হার মানেন বাবা। তখন মবিনুল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এরপর পরিবারের হাল ধরেন মা জোবেদা হক। সন্তানদের নিয়ে তিনি থিতু হন ঢাকায়।

ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে ১৯৭০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন মবিনুল। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ১৯৭৩ সালে সুযোগ মেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। মুহসীন হলের ছাত্র ছিলেন। স্নাতকে প্রথম হয়েছিলেন। স্নাতকোত্তর শেষে বছরখানেক শিক্ষকতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে।

১৯৮০ সালে উচ্চ শিক্ষা নিতে জমান কানাডায়। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ের্স্টান অন্টারিওতে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন। পিএইচডি চলাকালেই ১৯৮৪ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচেওয়ানে। দীর্ঘ ৩৯ বছর সেখানে শিক্ষকতা করেছেন। এর মধ্যে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যান যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৩ সালে পেশাগত জীবন থেকে অবসর নেন। ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক তিনি। ছেলে আইনজীবী।

সহায় রবীন্দ্রনাথ : শিক্ষকতা ছাড়লেও ড. মবিনুল মাইক্রো ইকোনমিকস নিয়ে লেখালেখি করছেন নিয়মিত। তাঁর স্ত্রীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে প্রায়ই ঘুরে বেড়ান। বললেন, ‘কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি অবলোকন করা আমার শখ। তাই ঘাসে ঘাসে পা ফেলি।’ সুখে-অসুখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান-কবিতায় শান্তির অন্বেষণ করেন ড. মবিনুল।

বেশি কিছু চাওয়ার নেই : দেশে তো কোনো সম্পদ নেই। তাহলে পরবর্তী জীবনে চলবেন কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মবিনুল হেসে বললেন, ‘জীবনে খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার। সুস্থ থেকে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারলেই হলো।’

সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য খুব পীড়া দেয় ড. মবিনুলকে। সেদিক থেকে সম্পদের পুনর্বণ্টনে বিশ্বাসী তিনি। নিজে যে পৈতৃক সম্পত্তি পেয়েছেন, এটাও ভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করেন তিনি। বললেন, ‘এমন একটা পরিবারে জন্ম নিয়েছি বলেই আমি এই সম্পত্তি পেয়েছি। সেটা আসলে এই সমাজেরই প্রাপ্য। মানুষের দুর্ভোগ দেখে মনে হয়েছে, এটা যত কমানো যায় তত ভালো।’

বাবা-মায়ের দেখভালের বিষয়ে আইন কী বলে?

অনলাইন ডেস্ক
বাবা-মায়ের দেখভালের বিষয়ে আইন কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

ঘরভর্তি ময়লা-আবর্জনা, স্যাঁতসেতে মেঝেতে জন্মেছে ছত্রাক। এর মধ্যেই ছোট একটি খাটের ওপর পড়ে ছিল সত্তরোর্ধ্ব এক প্রবীণ নারীর নিথর দেহ। তার নাম নূরজাহান বেগম। তিনি কবে মারা গেছেন, বলতে পারেন না সন্তানরা। ঘটনাটি ঢাকার মিরপুরের। খবর পেয়ে গত রবিবার (৩১ মে) ওই বাসা থেকে পুলিশের সদস্যরা যখন ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেন, ততক্ষণে তাতে পচন ধরে রীতিমত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

নূরজাহান বেগম নামের এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির বলেছেন, ‘ফ্ল্যাটটি এত পরিমাণে নোংরা এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল যে, পুলিশের সদস্যরা দাঁড়াতে পারছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই বৃদ্ধার ছেলেদের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, আরেকজন বুয়েটের শিক্ষক। এছাড়া উনার একটা মেয়ে আছে, যিনি স্থানীয় একটা স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ওই মেয়ের সঙ্গেই তিনি থাকতেন।’

পুলিশ বলছে, ওই বৃদ্ধার সন্তানরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

স্যাঁতসেতে নোংরা যে ঘরটিতে বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম মারা গেছেন, ইতিমধ্যেই সেটির ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সেগুলো দেখার পর অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অবহেলার অভিযোগ তুলে সন্তানদের শাস্তিও দাবি করছেন কেউ কেউ। বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদনও দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়াত বৃদ্ধার যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তারা।

ইতিমধ্যে বুধবার (৩ জুন) ওই যুগ্মসচিবকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ছেলে-মেয়েরাই সাধারণত বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে দেখে শুনে রাখেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময় নানান অভিযোগ ওঠার কারণে ২০১৩ সালে এ নিয়ে একটি আইনও পাস করে সরকার।

‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ নামের ওই আইনে প্রতিটি সামর্থ্যবান ছেলে-মেয়েকে তার বাবা-মায়ের ভরণপোষণ তথা- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, সঙ্গ ও সেবা প্রদানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন।

এতে আরো বলা হয়েছে, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সন্তানদেরকে তাদের সঙ্গে একই স্থানে বসবাস করতে হবে। বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না। চাকরি বা অন্য কোনো কারণে সন্তানরা পিতা-মাতার কাছ থেকে দূরে অবস্থান করলে নিয়মিতভাবে তাদেরকে বাবা-মায়ের খোঁজ-খবর নেওয়া এবং দেখা-সাক্ষাৎ করার কথা বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে, বাবা-মাকে নিয়মিতভাবে যৌক্তিক পরিমাণ টাকা-পয়সা প্রদান করার কথাও রয়েছে আইনে।

আইন অনুযায়ী, ছেলে-মেয়ের অনুপস্থিতিতে নাতি-নাতনিরা তাদের বৃদ্ধ দাদা-দাদি বা নানা-নানির দেখাশোনা করবেন। কেউ যদি এই আইন না মানে, সেক্ষেত্রে তাকে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানদের কেউ যদি এই আইন বাস্তবায়নে বাধা দেন, তাহলে তিনি একই শাস্তি ভোগ করবেন বলে আইনে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত যুগান্তকারী একটি আইন। প্রচারণার মাধ্যমে এই আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা এবং এটি প্রয়োগ করে শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে মিরপুরের ঘটনার মতো ঘটনা আর ঘটবে না বলে আমি মনে করি।’

খুলনায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক
খুলনায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান

খুলনায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একটি প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। এটি দেখতে অনকটা কাঠবিড়ালির মত হলেও কাঠবিড়ালি নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সস্প্রতি নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২নং ক্রস রোডস্থ একটি বাড়ির নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়। 

ফটো সাংবাদিক এমএম মিন্টুর স্ত্রী লাভলি বেগম প্রাণীটিকে উদ্ধার করে তার বাসায় হেফাজতে রেখেছেন। তিনি ওই বাসাতেই ভাড়া থাকেন। সেখানেই আদর-যত্নে রয়েছে প্রাণীটি। প্রাণীটি পানি পান করছে। ভাত খাচ্ছে। খাচ্ছে আম-কাঁঠাল ও কলাসহ নানা ফলমূল। প্রাণীটি হস্তান্তরের জন্য খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। 

অনুসন্ধানে প্রাণীটির বিভিন্ন নাম পাওয়া গেছে। এগুলো হচ্ছে, দুর্লভ প্রজাতির সুগার গ্লাইডার (পেটাউরাস ব্রেভিসেপস), ইন্ডিয়ান পাম্প সিভেট ও গন্ধগোকুল (এশিয়ান প্লাম সিভেট)। 

সাংবাদিক এম এম মিন্টু জানান, গতকাল তার বাসার একটি নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়। এ সময় একটি বিড়াল প্রাণীটির ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী গৃহিণী লাভলি বেগম এ প্রাণী উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে খেতে দেন এবং আদর-যত্ন করেন। তাকে আম, কাঁঠাল খেতে দেওয়া হচ্ছে। এটি পুনর্বাসনের জন্য বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়েছে। দেখতে অনেকেই তার বাসায় ভিড় করছেন। 

প্রাণীবিদদের মতে, সুগার গ্লাইডার (পেটাউরাস ব্রেভিসেপস) একটি ছোট, নিশাচর মাসুপিয়াল। যা অস্ট্রেলিয়া, নিউ গিনি এবং ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়। এরা প্যাটাগিয়াম নামক একটি ঝিল্লি ব্যবহার করে গাছ থেকে গাছে উড়ে বেড়ানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত। যা তাদের সামনের পা থেকে পেছনের পা পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও বন্য পরিবেশে গাছের রস এবং মধুর প্রতি তাদের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে, তবে বন্দী অবস্থায় তাদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্য তালিকা বজায় রাখা কঠিন। তাদের পুষ্টিজনিত রোগও সাধারণ। সুগার গ্লাইডাররা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। এরা দলে বাস করে এবং তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়, যা তাদের পোষা প্রাণী হিসেবে পালনকে বেশ কঠিন করে তোলে। 

সুগার গ্লাইডারের সামনের ও পেছনের পায়ের মাঝখানে একটি পাতলা চামড়ার পর্দা (প্যাটাজিয়াম) থাকে। এর সাহায্যে এরা এক গাছ থেকে অন্য গাছে প্রায় ১৫০ ফুট (৫০ মিটার) পর্যন্ত বাতাসে ভেসে বা গ্লাইড করে যেতে পারে। লেজসহ এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি হয় এবং ওজন মাত্র ৯৫ থেকে ১৬০ গ্রামের মতো হয়ে থাকে। এদের কপালে ও পিঠে একটি গাঢ় ডোরাকাটা দাগ থাকে। দিনের বেলা এরা ঘুমিয়ে কাটায় এবং রাতের আঁধারে খাবার ও শিকারের সন্ধানে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লাইডাররা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। বন্য পরিবেশে এরা ৫ থেকে ১২টি গ্লাইডারের দলে (কলোনিতে) বাস করে। একা রাখলে এরা চরম বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। প্রকৃতিতে এরা মূলত গাছের রস, মিষ্টি ফুলের মধু, পরাগ এবং ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। এদের খাদ্যতালিকায় ক্যালোরি ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত পশুচিকিৎসার মাধ্যমে এরা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। বাসায় পোষার জন্য এদের বড় খাঁচা, লুকানোর জায়গা, সঠিক ডায়েট এবং সবসময় সঙ্গ দেওয়ার জন্য অন্তত এক জোড়া সুগার গ্লাইডার প্রয়োজন হয়।

গন্ধগোকুল (এশিয়ান প্লাম সিভেট) বা সুগার গ্লাইডার হলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি নিশাচর স্তন্যপায়ী বন্যপ্রাণী। এটি বিড়ালের মতো দেখতে হলেও মূলত বিড়াল প্রজাতির নয়। এর শরীর থেকে পোলাও চালের মতো এক ধরনের মিষ্টি সুগন্ধ বের হওয়ার কারণে এটি বিশেষভাবে পরিচিত। এদের শরীর সাধারণত ৪৮-৫৯ সেন্টিমিটার এবং লেজ ৪৪-৫৩ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ওজন ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি গাছখাটাশ, তালখাটাশ, ভোন্দর, নোঙর, সাইরেল, ল্যঞ্জা বা পোলাও প্রাণী নামে পরিচিত। তবে এটি গন্ধগোকুলও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গন্ধগোকুলের লেজের গোড়ায় একটি বিশেষ গ্রন্থি থাকে। চলাচলের সময় এই গ্রন্থি থেকে এক ধরনের রস নিঃসৃত হয়, যা থেকে কস্তুরী বা পোলাও চালের মতো তীব্র সুগন্ধ ছড়ায়। এই গন্ধের মাধ্যমে এরা মূলত নিজেদের এলাকা বা সীমানা চিহ্নিত করে।

খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, এ প্রাণীটি গন্ধগোকুলও হতে পারে। তবে, উদ্ধার করে দেখার পর বোঝা যাবে। প্রাণীটি এ অঞ্চলে বিলুপ্ত প্রায়। 

একটি জিনকে অকার্যকর করুন, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে ৫০ শতাংশ | কালের কণ্ঠ