বিভিন্ন দেশের ভোজনরসিকদের যত-333970 | বিবিধ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


বিভিন্ন দেশের ভোজনরসিকদের যত প্রাণঘাতী খাবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৫৮



বিভিন্ন দেশের ভোজনরসিকদের যত প্রাণঘাতী খাবার

এ পৃথিবীতে ভোজনরসিক মানুষের অভাব নেই। কিন্তু এদের মধ্যে আবার অনেকে খাবারের মাঝে দারুণ রোমাঞ্চ খোঁজেন। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এমন কিছু খাবারের কথা তুলে ধরেছেন যেগুলো রীতিমতো প্রাণঘাতী। এসব খাবার বহু মানুষের কাছে সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। জীবন বাজি রেখে এগুলো খেয়ে থাকেন ভোজনপ্রিয় মানুষরা। জীবনও দিয়েছেন অনেকে। জেনে নিন সেই সব খাবারের কথা।

১. ফুগু : প্রথমেই এই অদ্ভুতদর্শন মাছটির কথা না বললেই নয়। পাফারফিশ নামেও সুপরিচিত। জাপানের জনপ্রিয় একটি খাবার যা উপভোগ করতে জীবনবাজি রাখতে হবে। মাছটি কাঁচা বা ভেজে খাওয়া হয়। এই মাছের অভ্যন্তরীন প্রত্যঙ্গে রয়েছে টেট্রোডটোক্সিন নামের এক মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৪৪ জন প্রাণ খুইয়েছেন এই মাছ খেয়ে। গত বছরই মারা গেছেন ৫ জন।

২. বুলফ্রগ : নামিবিয়ায় বেশ জনপ্রিয় খাবার এই ব্যাঙ। এর শুধু পাগুলোই নয়, গোটাটাই খেয়ে ফেলা হয়। নিরীহদর্শন ব্যাঙের দেহে কয়েক ধরনের বিষ রয়েছে। কম বয়সী ব্যাঙ যারা এখনো বংশবিস্তারে মিলিত হয়নি, তাদের দেহে রয়েছে শক্তিশালী বিষ। এসব বিষ মানুষের কিডনি ফেইলুরের ঘটনা ঘটায়।

৩. অ্যাককি : একটি ফুল যার পুরোটাই বিচি ছাড়া খাওয়া যায়। এর কালো বিচিতে রয়েছে হাইপোগ্লাইসিন নামের বিষ। জ্যামাইকানরা এটি খেয়ে মারাত্মকভাবে বমি করতে থাকেন। দেশটির প্রতি ১০০০ জনের একজন এ বিষে আক্রান্ত হন।

৪. সানাকজি : কোরিয়ার এ খাবারটি কাঁচা খেতে হলে শুধু চিবাতেই হবে। এটি একটি অক্টোপাস যার শোষকতন্ত্রগুলো মৃত্যুর পরও দারুণ ক্ষমতাশালী থাকে। প্রতিবছর ৬ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে এটি খেতে গিয়ে।

৫. ব্লাড ক্লামস : চীনের শাংহাইয়ে এটি বোতলজাত অবস্থায় পাওয়া যায়। হেপাটাইটিস এ, ই ছাড়াও টাইফয়েড এবং ডিসেন্ট্রি ঘটানোর নানা উপাদানে ভরপুর। ১৯৮৮ সালে এটি খেয়ে ৩ লাখ মানুষের প্রাণ যায় যায় অবস্থা হয়। ওই বছরই মারা যান ৩১ জন।

৬. হাকারি : গ্রিনল্যান্ডের এই খাবারটিকে হাঙরের শুকটি বলা যেতে পারে। পচা ও শুকনো হাঙরই হাকারি। ছয় মাস ধরে হাঙরটিকে রেখে দেওয়া হয়। এর পর এর মাংস রুটি দিয়ে খাওয়া হয়। এতে নানা ধরনের বিষ ছড়িয়ে থাকে যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

৭. কাজু মারজু : ইতালির জনপ্রিয় খাবারটি আসলে পচা পনির। মাছিকে অবাধে ডিম পাড়তে দেওয়া হয় এতে। ফলে পনির পচে যায়। দেহরে খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে নানা ধরনের রোগের আগমন ঘটায় খাবারটি।

৮. পানগিউম ইডুলে : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি খাওয়া হয়। এতে আছে মারাত্মক বিষ হাইড্রোজেন সায়ানাইড। এর খোসা ছাড়িয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা সেদ্ধ করা হয়। আবার কলা পাতার ছাইয়ের মধ্যে ছয় মাস ফেলে রেখে তবেই খাওয়া হয়।

৯. ফেসিখ : মিশরের একটি পচানো মাছ যা দেশটরি বসন্ত উৎসব শেম এল-নেসিম চলাকালে খাওয়া হয়। রোদ্রে শুকিয়ে ও লবণ প্রয়োগে চানা এক বছর ধরে পচানো হয়। ২০০৯-২০১০ সালের মধ্যে ৪ জন মানুষ এটি খেয়ে মারা যান।

১০. কাসাভা (ম্যানিওক) : দক্ষিণ আমেরিকার খাবার যা সেদ্ধ করে, ভেজে, আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া হয়। এটি উদ্ভিদের মূল জাতীয় খাবার যাতে আছে লিনামারিন। কাঁচা খেলে এটি দেহে সায়ানাইড উৎপন্ন করে। ২০০৫ সালে ফিলিপাইনসের একটি স্কুলে কাসাভা খেয়ে ২৭ শিশুর মৃত্যু ঘটে।

১১. বানরের মস্তিষ্ক : এশিয়ার কিছু অঞ্চলে রান্না বা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। এতে উপস্থিত বিশেষ ধরনের উপাদান মস্তিষ্ককে নিষ্ক্রিয় করে দেয় যা মৃত্যু ঘটায়। এ অবস্থার নাম ভেরিয়েন্ট ক্রিউৎজফেলড-জ্যাকোব ডিজিস।

১২. অ্যাবসিনথি : এটাকে বিশেষ তরল বলা যেতে পারে। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে খাওয়া হয়। মৌরি গাছের পাতার সঙ্গে কাঠের কীট মিলিয়ে তরল করা হয়। এতে নেশার উদ্রেক ঘটে যা হ্যালুসিনেসনের ঘটনা ঘটায়। এটি খেয়ে আত্মহত্যা প্রবণতা, এপিলেপসি, টিউবারক্লোরোসিসের মতো মারাত্মক অবস্থা দেখা দেয়।

১৩. কাঁচা কাজু বাদাম : বাজারে যে কাজু পাওয়া যায়, তা আসলে কাঁচা নয়। একে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সেদ্ধ করে এর প্রাণঘাতী রাসায়নিক পদার্থ দূর করা হয়। কাঁচা কাজুতে থাকে উরুশিওল যা কিনা পয়জন আইভি উদ্ভিদে থাকে। বেশি মাত্রায় দেহ প্রবেশ করলে মৃত্যু ঘটতে পারে। এটা গোটা বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়।  

১৪. রুহবার্ব পাতা : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাওয়া হয়। এতে থাকে অক্সালিক এসিড। এগুলো কিডনিতে প্রাণঘাতী ক্রিস্টাল গঠন করে। এর প্রভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, ডায়রিয়া, চোখে ব্যথাসহ মূত্র লাল হয়ে যেতে পারে।

১৫. ইসিজেন কুরাগি : জাপানের আরেকটি বিদঘুটে খাবার। জেলি ফিশটির কিছু অংশ বিষাক্ত। একে বাদ না দিতে পারলেই বিপদ। জেলি ফিশগুলো টুনা মাছ শিকার করে। তাই জাপানিরা টুনার স্বাদ নিতে পারে না। তাই টুনার শিকারকেই ভক্ষণ করে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 

মন্তব্য