kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফ্রান্সে সপ্তম শতকের মুসলিম কবরের সন্ধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৪২



ফ্রান্সে সপ্তম শতকের মুসলিম কবরের সন্ধান

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি মধ্যযুগীয় কবরস্থান খুঁজে পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এদের নিয়ে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ কবরে যাদের দেহ শুয়ে রয়েছে তারা মুসলমান হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বেশ কয়েকটি লক্ষণেও এটি বোঝা যায়। এদের সবার মুখ কাবার দিকে ফেরানো। এদের কবরগুলো মুসলমানদের কবোরের মতোই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

যদি এগুলো সত্যিকার অর্থেই মুসলমানদের কবর হয়ে থাকে, তবে এগুলোই ফ্রান্সে খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে আগের মুসলমানদের অবস্থানের চিহ্ন।

ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেন্টিভ আর্কিওলজিক্যাল রিসার্চ এংব ইউনিভার্সিটি অব বরডেক্স-এর গবেষক দলের প্রধান উইভেস গ্লেইজি বলেন, ফ্রান্স গঠনের ইতিহাসে নতুন তথ্য যোগ করতে পারে এই কবরগুলো। হয়তো ভবিষ্যতে মুসলমানদের আরো কবর খুঁজে পাওয়া যাবে।

দক্ষিণ ফ্রান্সের নাইমস-এ রোমান কোয়ার্টার খুঁজতে গিয়ে খননের সময় এই কবরগুলোর সন্ধান মেলে। তারা প্রায় ২০টি এলোমেলো কবরস্থানের সন্ধান পান। গ্লেইজি বলেন, মধ্য যুগে ফ্রান্সে এমন বহু এলোমেলোভাবে খনন করা কবরস্থান খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ৩টি খবর একই ধাঁচে খনন করা হয়েছিল।

মধ্যযুগে আরব-মুসলমানদের জয়-জয়কার ছিল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ওই অঞ্চলে। প্রমাণ রয়েছে যে, আইবেরিয়ান পেনিনসুলাতে মধ্যযুগের প্রথম দিকে মুসলমানদের আধিপত্য ছিল।

এর আগে ১২ শো এবং ১৩ শো শতকের মুসলমানদের কবর খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন খুঁজে পাওয়া কবরগুলো আরো আগের বলে রেডিওকার্বন পরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি। সম্ভবত এগুলো সপ্তম থেকে নবম শতকের বলে জানান গ্লেইজি। সেই সময়ের কবরগুলো মুসলমানদের হলে এগুলো সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক আবিষ্কার বলে গণ্য হবে।

ডিএনএ-সহ অন্যান্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, তিনটি দেহবশেষ তিন জন পুরুষের। এদের বয়স ৩০-৫০ বছরের মধ্যে। মাইটকোন্ড্রিয়াল ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেছে, এদের পূর্বপুরুষরা উত্তর আফ্রিকার। এরা উত্তর আফ্রিকার বর্বরজাতি বলে পরিচিত ছিল যারা আরবদের সঙ্গে একজোট হয়ে সেনাবাহিনী গঠন করে মধ্যযুগের প্রথম দিকে। সম্ভবত তারা উমাইয়াদ আর্মির সদস্য ছিলেন। বলা যাচ্ছে না এদের জন্ম উত্তর আফ্রিকায় কিনা। তবে ফ্রান্সে এদের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আরব আর্মিতে যোগদানের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত করে।

সেই সময়কার ফ্রান্সের স্থানীয়দের সঙ্গে এদের সম্পর্ক বা আন্তযোগাযোগ কেমন ছিল তা বলা যায় না। তিন জনের মধ্যে একজনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। সম্ভবত তিনি মৃত্যুর আগে  নাইমস-এ বেশ কয়েক বছর ধরে বাস করছিলেন। সূত্র : ফক্স নিউজ

 


মন্তব্য