শুঁয়োপোকা খেয়ে পুষ্টির চাহিদা-333159 | বিবিধ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


শুঁয়োপোকা খেয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৬ ১১:৪৮



শুঁয়োপোকা খেয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণ!

শুঁয়োপোকা সুস্বাদু খাবার-এ ধারণা হয়তো সবার মনে নাও হতে পারে। তবে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় এটা প্রোটিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিচিত। যদিও প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে, সাথে এর দামও বাড়ছে এবং এর পাশাপাশি পরিবেশগত একটা প্রভাবও রয়েছে। তবে ক্যামেরুনের বিজ্ঞানীরা ভাবছেন পরিবেশ রক্ষায় ভিন্নভাবে শুঁয়োপোকা উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে ক্যামেরুন গিয়েছিলেন বিবিসির তামাসিন ফোর্ড। তিনি দেখেছেন একটি বাজারে ছোট ছোট শুঁয়োপোকা বিক্রি হচ্ছে। আর ওগুলোর দিকেই নজর বেশির ভাগ ক্রেতার।

অনেকে এটা রান্না করে, অনেকে ভেজে খায়। এসব শুঁয়োপোকাদের প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে ধরা হয়। এসব পোকা মাছের পরিপূরক খাবার হিসেবেও কাজ করে। সুতরাং ক্যামেরুনে যেখানে প্রতি তিনজন শিশুর একজনই অপুষ্টিতে ভোগে সেখানে এই শুঁয়োপোকার খাদ্য প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম একটি উৎস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু দিনে দিনে এটির চাহিদা বাড়ছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হয়ে যাবার কারণে বাজারেও এর দাম বাড়ছে।

বাজারে একঝুড়ি শুঁয়োপোকা প্রায় ৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে যেটি অন্য সব মাংসের চেয়ে দামি। এসব শুঁয়োপোকা খুঁজে পাওয়াটা খুব একটা সহজ নয়। ঘন বনজঙ্গলের ভেতর পাম গাছের ডালে থাকে এসব শুঁয়োপোকা। শুঁয়োপোকার উৎপাদন বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। লিভিং ফরেস্ট ট্রাস্ট এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জন মোয়াফোর বলছেন এটা খুব সফল একটা ঘটনা।

প্রথমত কেউ জানতোইনা যে শুঁয়োপোকা বৈজ্ঞানিকভাবে উৎপাদন করা যায়। আমরা যখন এই ধারণা নিয়ে আসলাম স্থানীয় লোকজন আমাদের বিশ্বাসই করছিলনা। আমাদের বুঝাতে হয়েছে যে তাদের প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে আমাদের এই উদ্যোগ। আর আমার মনে হয় বৈজ্ঞানিকভাবে এই শুঁয়োপোকা উৎপাদনের ফলে এখানকার মানুষের অনেক লাভ হবে, তাদের জীবনমান আরও উন্নত হবে। নতুন উপায়ে এই পোকা উৎপাদনে দরকার একটি প্লাস্টিক বক্স। প্লাস্টিক বক্সের ভেতরে রাখা পাম গাছের ডালের মধ্যে যে শুঁয়োপোকা জন্মায় তা বনজঙ্গলের তুলনায় আট থেকে ১০ গুণ বেশি।

একজন চাষি মিশায়েল সোনগুই বলছেন-এ প্রক্রিয়ায় তার সময় বেঁচেছে। আমি এখন মাসে মাত্র চারবার জঙ্গলে যাই। কিন্তু আগে হয়তো প্রতিদিনই আমাতে জঙ্গলে যেতে হতো। বাক্সের মধ্যে পাম গাছের ডালগুলো প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়ার পর সেখানে আমার অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। আমার অনেক সময় বেঁচে যাচ্ছে। এভাবে পাম গাছ থেকে শুঁয়োপোকা উৎপাদন করে আমি খুবই গর্বিত। মিশায়েল এই পোকা কাঁচা খেতেই পছন্দ করেন কিন্তু তাঁর পরিবার এটি রান্না করে খেতেই বেশি আগ্রহী।

ক্যামেরুনে প্রতি তিনজন শিশুর একজনই ভুগছে অপুষ্টিতে। কারণ পুষ্টিকর খাবার তারা গ্রহণ করতে পারেনা, ফলে শারিরীক ও মানসিকভাবেও এসব শিশুরা বেড়ে উঠতে পারেনা। ক্যামেরুনের একটি গ্রামের একজন পরিসেবক মেবেদে দিউদোনে বলছেন- আমাদের দেশের শিশুরা যদি পাম গাছ থেকে উৎপাদিত এসব শুঁয়োপোকা নিয়মিত খায় তাহলে আর তাদের শারীরিক অপুষ্টি থাকবেনা। কারণ প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাণীদের মধ্যে শুয়োপোকা অন্যতম। প্রোটিনের চাহিদা মিটলে অপুষ্টির সমস্যা একদম হারিয়ে যাবে। ক্যামেরুনের তিনটি গ্রামে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে এ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। আর এটা যদি পুরোপুরি সফল হয় তাহলে হর্ন অব আফ্রিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখের বার্তাই নিয়ে আসবে।

 

মন্তব্য