kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দীর্ঘতম পথ উড়ে যায় ছোট্ট ঘাসফড়িং!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৩১



দীর্ঘতম পথ উড়ে যায় ছোট্ট ঘাসফড়িং!

ছোট ছোট ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে- এ ছবি সবাই দেখেছেন। এই ঘাস ফড়িংগুলো কিন্তু অতি চঞ্চল ও ছোট্ট এই ফড়িংটি কিন্তু সাধারণ কোনো প্রাণী নয়।

এরাই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘপথের পর্যটক। বিজ্ঞানীরা জানান, ড্রাগনফ্লাই হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়। এরা সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যায়।

রুটজারস ইউনিভার্সিটি-নিউয়ার্ক-এর বিজ্ঞানীরা জানান, এই ড্রাগনফ্লাইটির নাম প্যানটালা ফ্লেভসিনস। টেক্সাস, কানাডার পূর্বাঞ্চল, জাপান, কোরিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকায় এরা প্রচুর পরিমাণে থাকে। এদের জিনগত বৈশিষ্ট্যও প্রায় একই রকমের।

এত ছোট আকারের প্রাণীটির এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। এরা বিভিন্ন দেশে যায় এবং সেখানে বংশবিস্তার করে। গোটা বিশ্বজুড়ে এদের জিন পুলের মধ্যে বহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যদি এরা ভ্রমণ না করতো, তবে যার যার অঞ্চলের জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।

গবেষক জেসিকা ওয়ার জানান, এই প্রথমবারের মতো ড্রাগনফ্লাইয়ের জিনের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এরা কতদূর যায় তা পরিষ্কার হয়েছে এর মাধ্যমে। যদি উত্তর আমেরিকার পানটালা (ড্রাইগন ফ্লাইয়ের একটি জেনম) কেবলমাত্র একই অঞ্চলের পানটালার সঙ্গে বংশবিস্তার করতো অথবা জাপানি পানটালা যদি কেবল জাপানি পানটালার সঙ্গে বংশবিস্তার করতো, তবে অঞ্চলভেদে এদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।

ওয়ার বলেন, এসব ড্রাগনফ্লাই এমন পাখনা পেয়েছে যার কারণে বাতাসই তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যত দূরের পথই হোক, বাতাসের সামান্যতম প্রবাহে তারা দিব্যি ভেসে যেতে পারে। দূরের পথে এদের অনেক মারা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগটাই টিকে থাকে।

জাতভেদে এদের ওড়ার পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালীরা দীর্ঘ পথ নিরবচ্ছিন্নভাবে উড়ে যেতে পারে। জোরালো বাতাস থেকে শুরু করে ঝড়ো বাতাস সবকিছুতেই মানিয়ে নেয় তারা।

পানটালাদের মিলিত হতে ও ডিম পাড়তে স্বাদুপানির প্রয়োজন হয়। গবেষকরা বলেন, উড়তে উড়তে সমুদ্রের মাঝে কোনো দ্বীপে বা অন্য কোথাও স্বাদু পানির দেখা পেলেই তারা মিলিত হয়। ডিম থেকে শিশু ড্রাগনফ্লাইয়ের ওড়ার ক্ষমতা অর্জনের ঘটনাটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটে যায়। এরপরই তারা সুদীর্ঘ পথের পর্যটক হয়ে ওঠে।

এর আগে মনে করা হতো, মোনার্ক প্রজাপতি সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া পতঙ্গ। এরা উত্তর আমেরিকার অঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার ২৩ কিলোমিটার একবারে পাড়ি দেয়। কিন্তু এই ড্রাগনফ্লাইগুলো ৭ হাজার ৮১ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দেয় অনায়াসে!

এ গবেষণা প্রতিবেদনটি 'পিএলওএস ওয়ান' জার্নালে প্রকাশিত হয়। সূত্র : দ্য হিন্দু

 


মন্তব্য