kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'পর্ন আসক্তি'তে আক্রান্ত হতে পারে যেকোনো মানুষ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৭:০৬



'পর্ন আসক্তি'তে আক্রান্ত হতে পারে যেকোনো মানুষ

অন্যদের সহায়তা করতেই খোলামেলা কথা বললেন টেরি ক্রিউস। ব্রুকলিন নাইন-নাইন অভিনেতা এবং সাবেক এনএফএলে খেলোয়াড় ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন তার এক সময়ের পর্ন ছবির প্রতি আসক্তির কথা।

টেরি বলেছেন, কয়েক বছর ধরে আমি পর্ন ছবির প্রতি আসক্ত ছিলাম। এটা আমার গোপন লজ্জার বিষয়। পোস্ট সংক্রান্ত প্রথম ভিডিও-তে তিনি এসব কথা বলেন যা ৩০ লাখ বারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, বিভিন্নভাবে এ অভ্যাস আমার জীবনে ক্ষতি এনেছে। আমি এ কথা কাউকে বলতে পারতাম না। কারণ তা লজ্জাজনকম আর গোপন। তাই এ সমস্যা বাড়তেই থাকে এবং আমার চরম ক্ষতি করে ফেলে।

বিশেষ করে বিয়ের পর থেকে ভোগান্তির শুরু। ক্রিউস রিহ্যাবে চিকিৎসা নিলেন। কিছু মানুষ বললেন, তুমি আসলে পর্ন ছবিতে আসক্ত হতে পারো না। কিন্তু আমিই বলছি, যখন দিন রাত হয়ে যায় এবং আপনি তখনো এগুলোই দেখছেন, তখন বুঝতে হবে বড় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আর আমার তেমনটাই ছিল।

'হেলথ' জার্নালের মনোবিজ্ঞান বিভাগের এডিটর ড. গেইল সালজ বলেন, পর্ন সিনেমার প্রতি আসক্তি কিন্তু বিরল ঘটনা নয়। এটা অহরহ দেখা যায়। এর জন্যে সাধারণত সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। পর্ন অতি সহজেই মানুষ দেখতে পারে। এটা মনোবৈজ্ঞানীক ও আচরণগত বিষয়। অ্যালকোহল বা অন্য কোনো মাদকের প্রতি মানুষের যেমন আসক্তি, তেমনি একটি নেশা পর্ন।

আচরণগত দিক থেকে এর প্রতি নিরাসক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এটাই মানসিক আকর্ষণের সবচেয়ে বড় লক্ষণ। এই আচরণগত লক্ষণের মাধ্যমে মস্তিষ্কে ডোপামাইনের ক্ষরণ ঘটনা স্পষ্ট হয়। তাই যখন এ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়, মস্তিষ্কে তখন সমস্যা হয়।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, আসক্তি বলতে যা বোঝায়, পর্নের প্রতি আসক্তি আসলে তেমনটা নয়। অনেকে এ ঘটনাকে 'আসক্তি' বা 'রোগ' বলতে রাজি নন। এটা আসলে নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ। এসব কথা বলেন সাইকোথেরাপিস্ট এবং সেক্সুয়ালিটি কাউন্সেলর ইর্য়ান কারনার।

কারনার এবং সালজ উভয়ই মনে করেন, পর্নের প্রতি আসক্তির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় জড়িত। কারণ ক্রিউস যখন এ আসক্তিতে পড়েন তখন থেকে তার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তাবোধ কাজ করতো। তা ছাড়া যারা পর্ন ছবির আসক্তিতে পড়েন তাদের মধ্যে এক ধরনের আচ্ছন্নতা কাজ করে।

ক্রিউসের পর্ন আসক্তির কারণে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক প্রভাবিত হয়। সঙ্গী-সঙ্গিনীর মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করে এ আসক্তি। অন্তরঙ্গ মুহূর্ত বা যৌনজীবনে দুজন ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকেন। আসক্তরা অপরজনকে পর্নের মতো করে কল্পনায় দেখেন।

চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি পেয়েছেন অনেকে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা সমস্যা থেকে বের করে আনতে পারেন।

এখন পর্ন আসক্তি থেকে মুক্তি মিলেছে টেরির। তাই এতে আক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা ছড়াতে চান তিনি। এক সময় যে বিষয় নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তা থেকে মুক্তির পথ অন্যদেরও জানাতে চান তিনি। যারা পারছেন না, তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়াতে প্রস্তুত তিনি। সূত্র : ফক্স নিউজ

 


মন্তব্য