সন্তান জন্ম দিতে এসে অনলাইনে দেখলেন-332106 | বিবিধ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


সন্তান জন্ম দিতে এসে অনলাইনে দেখলেন স্বামীর নতুন বিয়ের ছবি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৩২



সন্তান জন্ম দিতে এসে অনলাইনে দেখলেন স্বামীর নতুন বিয়ের ছবি!

ছবি : হিদার এবং অ্যাডোনিস

সন্তানের জন্ম দিতে এসে হৃদয়ভাঙা পরিস্থিতির শিকার হলেন নতুন মা। তিনি যখন সন্তানের জন্ম দিতে এসে অনলাইনে দেখলেন, সন্তানের বাবা অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করছেন।

ডোমিনিকান রিপাবলিকে একটি হোটেলে এন্টারটেইনার হিসাবে কাজ করতেন স্কটিশ নারী হিদার ম্যাগিলিয়ন। ২৪ বছরের তরুণী প্রেমে পড়েন সেখানেই কর্মরত অ্যাডোনিস রদ্রিগুয়েজের ওপর। তাদের প্রেম হয়। গর্ভবতী হয়ে পড়েন হিদার। তিনি ইউকে ফিরে আসেন সন্তানের জন্মদানের জন্যে। বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই তার এক বন্ধু স্বামীর কিছু ছবি পাঠান হিদারের কাছে। সেখানে দেখা যায়, অ্যাডোনিস অন্য এক নারীকে বিয়ে করছেন।

নিচের ছবিটি হিদার এবং রদ্রিগুয়েজের। তারা তখন হোটেলে এন্টারটেইনার হিসাবে কাজ করেন। হিদার ছিলেন প্রশিক্ষিত নৃত্যশিল্পী। স্বামীর নতুন বিয়ের ছবি দেখে মনে হয়েছিলন, কোনো দোতলা বাস আমাকে সজোরে ধাক্কা মেরেছে, বললেন হিদার। অ্যাডোনিস এক নারীকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন এবং ওই নারীর পরনে বিয়ের পোশাক। বলতে থাকেন হিদার, আমরা মাত্র কয়েক সপ্তাহ ধরে দূরে ছিলাম। এ সময়ের মধ্যেই অ্যাডোনিস অন্য মেয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল! এ সময়ের মধ্যেই রীতিমতো বিয়ে করে ফেললো!

অ্যাডোনিসের সঙ্গে সম্পর্কের এক বছরের মধ্যে হিদার গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এরপর তারা ক্যারিবীয় দ্বীপে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন। তবে নানা শারীরিক জটিলতার কারণে হিদার আগত সন্তানের সুস্থতার জন্যে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাডোনিসও আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ভিসা মেলেনি।

বাড়িতে ফিরেই দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিল ছবিগুলো। ২১ বছর বয়সী স্বামী জুলিয়া নামের এক জার্মান পর্যটককে বিয়ে করেছেন। এই জার্মান পর্যটককে কিছুটা চিনতেন হিদার। যে হোটেলে তারা কাজ করতেন সে হোটেলেই উঠেছিলেন জুলিয়া। সেখানে থাকতেই হিদার খেয়াল করেছিলেন তারা ফেসবুকে মেসেজ আদান-প্রদান করেন। কিন্তু বিষয়টা স্বাভাবিক ছিল। তাই তেমন কিছু মনে হয়নি। গর্ভে সন্তান আসামাত্র এসব ভুলেও যান হিদার।

হিদার আরো বলেন, জুলিয়া কিছুটা মোটাসোটা নারী, বয়স ৩১ বছর। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পর জুলিয়া রীতিমতো হিদারের মতো স্লিম হয়ে গেছেন। চুলও কেটেছেন হিদারের মতো।

অ্যাডোনিসকে ফোন করেছিলেন হিদার। তিনি একটু চুপ করে থেকে বলেছিলেন, আমি দুঃখিত। আরেকটু চুপ থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।

হিদার বাড়ি ফেরার পর অ্যাডোনিস অন্য হোটেলে কাজ নেন। জুলিয়ার সঙ্গে তার দিনে চার বার দেখা হতো। পরে তারা বিয়ের দিন-তারিখ ও স্থান নির্বাচনে সময় দেন।

ইতিমধ্যে ৩ মাসের ফুটফুটে দিয়েগোকে নিয়ে ডোমিনিকানে ফিরেছেন হিদার। বাবাকে সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দিয়েছেন। এত কিছু ঘটা সত্ত্বেও হিদার চান দিয়েগোর বাবা ছেলেটিকে নিয়মিত দেখুক। যদিও বিষয়টা খুব কঠিন।

হিদার জানান, অ্যাডোনিসের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। আমাদের বিষয়টি জানতো জুলিয়া। কিন্তু তারপরও অ্যাডোনিসকে বিয়ে করে ফেলল। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না যে এসব ঘটে গেছে।  

অ্যাডোনিসের বললেন, আমি বিবাহিত এবং হিদার আমার স্ত্রী। জুলিয়াকে যখন বিয়ে করি তখনও আমি হিদারেরই ছিলাম। আমি হিদারের সঙ্গেই থাকতে চাই। আমি দুঃখিত। আমার সন্তানের মা হিদার। আমি দিয়েগোকে কাছে চাই।
সূত্র : ডেইলি মেইল

 

মন্তব্য