kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবচেয়ে বেশি নেশা সৃষ্টিকারী ৫টি ভয়ংকর মাদক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৩:১৬



সবচেয়ে বেশি নেশা সৃষ্টিকারী ৫টি ভয়ংকর মাদক

মাদকের ভয়ংকর নেশা বিশ্বজুড়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। এখানে প্রসঙ্গ ভিন্ন।

বিশেষজ্ঞরা দেখার চেষ্টা করেছেন, কোন মাদকগুলো সবচেয়ে মারাত্মক। যারা মাদক নেন তাদের কাছে জানতে চাইলে একেক জন একেক জবাব দেবেন।

সাধারণত কোন মাদকটি বেশি নেশার সৃষ্টি করে? মাদকটি কতটা ক্ষতি সাধন করতে পারে তার ওপর নির্ভর করে বিষয়টি। এর ওপর তার মূল্যও নির্ধারিত হয়। মস্তিষ্কের ডোপামাইন সিস্টেমের ওপর কতটা প্রভাববিস্তার করে তাও একটি শর্ত। এ মাদক থেকে মুক্তি পেতে কতটা কষ্ট করতে হয়, এ বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে মাদক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডেভিড নাট এবং তার সহকর্মীরা বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক কয়েকটি মাদকের কথা তুলে ধরেছেন।

১. হেরোইন : এ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নেশা উদ্রেককারী মাদক হিসাবে নাট হেরোইনের কথা তুলে ধরেছেন। মাদকতার মাত্রা বোঝাতে ৩ পয়েন্টের একটি স্কেলে হেরোইন ২.৫ পয়েন্ট পায়। মস্তিষ্কে ডোপামাইনের ক্ষরণ মাত্রা বৃদ্ধি করে। তৃপ্তিকর অনুভূতি ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করে দেয় হেরোইন। পরিমাণের বেশি হেরোইন মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহারকারী ও সমাজের ক্ষতি করে এমন ধ্বংসাত্মক মাদকের মধ্যে হেরোইন আছে দ্বিতীয় পর্যায়ে।

২. অ্যালকোহল : আমেরিকা ও ব্রিটেনে অ্যালকোহল বৈধ। কিন্তু নেশা সৃষ্টির দিক থেকে একে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছেন বিশেষজ্ঞ, যা স্কেলে ২.২ পয়েন্ট পেয়েছে। মস্তিষ্কে নানা ধরনের প্রভাব ফেলে অ্যালকোহল। ডোমামেইন বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কে তৃপ্তিকর অনুভূতি ৪০-৩৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে। জীবনের কোনো এক সময় থেকে অ্যালকোহলের ওপর নির্ভর করেন এমন অসংখ্য মানুষ আছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক গবেষণায় জানায়, ২০০২ সাল থেকে অ্যালকোহল পান করেন এমন ৩০ লাখ মানুষ ২০১২ সালে মারা যান। ক্ষতির দিক থেকে একে প্রথম স্থানে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. কোকেইন : সরাসরি মস্তিষ্কে গিয়ে কাজ করে। নিউরন থেকে নিউরনে যে তথ্য আদান-প্রদান হয় ডোপামেইনের মাধ্যমে তাতে মিশে যায় কোকেইন। মস্তিষ্কের তৃপ্তিকর অনুভূতি সৃষ্টিতে অস্বাভাবিক আচরণ করে। ডোপামেইনের পরিমাণ তিন গুন বৃদ্ধি পায় কোকেইনের কারণে। ক্ষতির মাত্রায় একে তৃতীয় অবস্থানে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। যারা কোকেইন গ্রহণ করেন তাদের ২১ শতাংশ এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

৪. বার্বিচুরেটস : এর নানা নাম প্রচলিত। একে ব্লু বুলেটস, গরিলাস, নেম্বিস, বার্বস এবং পিঙ্ক লেডিস নামে ডাকা হয়। আপাতদৃষ্টিতে দুশ্চিন্তা মুক্তি এবং ঘুমের জন্যে একে ব্যবহার করা হয়। মস্তিষ্কের রাসায়নিক সিগনালের সঙ্গে কাজ করে এটি। এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কম ডোজে উৎফুল্লতা অনুভূত হয়। কিন্তু বেশি ডোজ নীরব ঘাতক হতে পারে। এটি একটি ওষুধ, তাই সহজলভ্য। তবে একে মাদক হিসাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে নেই। ক্ষতির মাত্রা খুব বেশি নয়। কিন্তু নেশার মাত্রার দিক থেকে একে চতুর্থ অবস্থানে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা।

৫. নিকোটিন : তামাকের প্রতি নেশার প্রধান উপাদান নিকোটিন। কেউ ধূমপান করামাত্রাই ফুসফুস নিকোটিন গ্রহণ করে এবং মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। একে নেশার দিক থেকে ১২তম অবস্থানে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। যারা একটি খান তারা সহজেই এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ২০৩০ সালের মধ্যে নিকোটিনের কারণে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ৮০ লাখ মানুষ মারা যাবে বলে ধারণা করেন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা। ইঁদুরের দেহের নিকোটিন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কে তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি ২৫-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য