জিকা ভাইরাস : অনিয়ন্ত্রিত মশা নিধনেও-331311 | বিবিধ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


জিকা ভাইরাস : অনিয়ন্ত্রিত মশা নিধনেও রয়েছে বিপদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ১৬:০৮



জিকা ভাইরাস : অনিয়ন্ত্রিত মশা নিধনেও রয়েছে বিপদ

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এ রোগটি নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দেশটির সরকার। আর এ কারণে জিকা ভাইরাসের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়েছে। তবে এতে কিছু বিপদের কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।
জিকা ভাইরাসের বাহক এডিস মশার মাধ্যমে দ্রুত এ ভাইরাসটি ছড়ায়। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্য দিয়ে এর স্থানান্তর হয়। পরে ওই মশাটি অন্য ব্যক্তিদের কামড় দিলে তা ছড়াতে থাকে। এরপর ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ভাইরাসটির বিস্তার ঘটতে থাকে। এই সময়ের মধ্যে সংক্রামিত ব্যক্তিদের শরীরে ভাইরাসটির উপসর্গ দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসটির উপসর্গ হালকা ধরনের হয়ে থাকে। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, র‌্যাশ এবং চোখ গোলাপি রঙ ধারণ করা। প্রকৃতপক্ষে শতকরা ৮০ শতাংশ সংক্রামিত ব্যক্তিই আঁচ করতে পারেন না যে তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে। এসব কারণে ভাইরাসটি নির্ণয় করা কঠিন আর এ সুযোগে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষকরা বলছেন, প্রধানত এডিস মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায় বিধায় মশা যেন কামড়াতে না পারে সেজন্য সাবধান থাকতে হবে। এছাড়া বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করা ও মশার বংশবৃদ্ধি যেন না হয় সেজন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।
এ অবস্থায় মশা নিয়ন্ত্রণকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ কারণে মশা নির্মূলে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে এবং প্রচুর ব্যয়সাপেক্ষ মশা নিধন কর্মসূচি পালন করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের এ চেষ্টা অনেকাংশেই বিফল হতে যাচ্ছে। কারণ,  এডিস মশার বিচরণস্থল ও বংশবৃদ্ধির স্থান আলাদা। এটি অন্য মশার মতো বিচরণও করে না। বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার পানি যেখানে জমে সেখানেই এ মশা বংশবৃদ্ধি করে।
শহরের ভেতরে আবর্জনা, ফুলদানি, খালি পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদিতে বংশবৃদ্ধি করে এডিস মশা। আর এ মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব এলাকাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। জলাভূমি, বনভূমি ইত্যাদিতে মশার ওষুধ ছিটিয়ে এ মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া। মশার ওষুধ ছিটানোর ফলে শুধু মশাই মরে না, এতে অন্য পোকামাকড়ও মরে যায়। এসব পোকামাকড় গাছপালা ও ফসলের পরাগায়নসহ পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মশার ওষুধের কারণে শুধু যে মশা নির্মূল হয় তা নয়, এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়।
এ কারণে গবেষকদের মত হলো, অপরিকল্পিতভাবে মশার ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে। তার বদলে ভিন্ন কোনো উপায়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

মন্তব্য