kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না নারীদের 'গোলাপি ভায়াগ্রা'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৫৯



আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না নারীদের 'গোলাপি ভায়াগ্রা'

আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নতুন একটি ওষুধ বাজারজাতকরণের অনুমতি দেয়। মেনোপজের আগেই যে সকল নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে গেছে তাদের সমস্যা দূর করতে ফ্লিবানসেরিন নামের নতুন একটি ওষুধ বাজারে ছাড়া হয়।

ব্যবহারের পর নারীরা এ থেকে কোনো উপকার পাচ্ছেন কিনা তা জরুরি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

বলা হচ্ছে, যারা এটি খাবেন যৌনতায় তৃপ্তি ফিরে পাবেন তারা। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাথা ঝিমঝিম করবে, ঘুম আসবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ গুন বেশি এবং অসুস্থ বোধ হবে দ্বিগুন। নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য দেওয়া হয়।

ওষুধটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো এর কার্যকারিতা নিয়ে বেশ কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। আর ৩টি অপ্রকাশিত রয়েছে।

নারীর যৌনতা বিষয়ে ইউরোপের ৬ জন গবেষক জানান, ফ্লিবানসেরিনের অর্থপূর্ণ কার্যকারিতা তেমনটা চোখে পড়ছে না। আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ জানান, ওষুধটিকে নিরাপদ মন্তব্য করার বিষয়টি এখনো পরিপক্কতা লাভ করেনি। ইতিমধ্যে এ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৯১৪ জনের ওপর।

আমেরিকার ৯০ শতাংশ বিশেষজ্ঞ যৌন উত্তেজনা বর্ধন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষায় মুখিয়ে আছেন যার কিনা অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ।

আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার প্রতিষ্ঠান স্প্রাউট ফার্মাসিউটিক্যালস এ ওষুধটি বানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রেডিও বা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেনি। একে তারা নতুন এক ওষুধ বলেই পরিচিত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষকরা বলছেন, ওষুধটি ফিজিসিয়ানরা প্রেসক্রিপশনের লেখার আগে আরো কাজ বাকি রয়েছে। কারণ এটিকে নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণ করতে হবে। বহু নারী এটি ব্যবহার করছেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। যারা মেনোপজ অতিক্রম করেছেন এবং জন্মবিরতিকরণ পিল খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষাধীন রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা এ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সন্তুষ্ট  নন। ডার্টমাউথ মেডিক্যাল স্কুলের দুই গবেষক স্টিভেন ওলোশিন এবং লিসা এম সোয়ার্জ লিখেছেন, ফ্লিবানসেরিন আশানুরূপ কাজ করছে না। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরাই ওষুধটিকে বাজারে না ছাড়ার পরামর্শ দেন। তা ছাড়া এফডিএ-এর কাছে অনুমোদনের জন্যে তিন বার আবেদন করা হয়। অবশেষে এফডিএ এটিকে অনুমোদন দেওয়ার পর নারীদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। মূলত এতে জীবঘাতি কোনো হুমকি নেই। তবে কার্যকারিতা এবং হঠাৎ সমস্যা সৃষ্টির বিষয়টি এখনো অপরিষ্কার। তা ছাড়া এফডিএ ওষুধটির কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ না পেয়েই অনুমোদন দিয়েছে। এক গবেষণায় ওষুধটির

ওলোশিন এবং লিসা অবশেষে লিখেছেন, যে নারীরা যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাবে রয়েছেন তাদের ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন। এর জন্যে ওষুধ দারুণ সমাধান হতে পারে যদি তা ভালো কাজ দেয়।

যাবতীয় গবেষণায় বলা হয়, গোলাপি রংয়ের এই যৌন উত্তেজনাবর্ধক ওষুধটি নিয়ে এফডিএ-এর সব গবেষণার ফল প্রকাশের প্রয়োজন ছিল। তা ছাড়া ওষুধের কার্যকারিতা আশানুরূপ হলেই এর প্রচারণা ভালো কাজ দিতো। সূত্র : ফক্স নিউজ

 


মন্তব্য