kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমাজনের মাইয়োরুনারা কি টেলিপ্যাথি জানতো?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৯



আমাজনের মাইয়োরুনারা কি টেলিপ্যাথি জানতো?

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার লোরেন ম্যাকিনটায়ার। তিনি ব্রাজিল ও পেরুর সীমান্ত কাছাকাছি রিয়ো জাভারিতে একটি পানিতে ভাসতে সক্ষম বিমানে করে নামলেন।

তিনি সেখানে মাইয়োরুনা নামের বিশেষ এক গোত্রের সন্ধানে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিশ্বাস করা হচ্ছিল, এ নামের একটি গোত্র এখনো টিকে রয়েছে। এরপরই ঘটলো যত ঘটনা।

বিমান থেকে নেমেই তিনি শিগগিরই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলেন। কিন্তু ততক্ষণে বিমান তাকে রেখে চলে গেছে। ফিরে আসবে কয়েক দিন পর। তিনি একাই রওনা দিলেন। ছয় সপ্তাহ পর পেরুর নেভি ফ্লিয়ার নদীর তীর থেকে দুটো আলো ঝলকানি দেখলেন। তারা যাচাই করতে এলেন এবং ক্ষুধার্ত এবং অর্ধনগ্ন ম্যাকিনটায়ারকে খুঁজে পেলেন। তার মুখ ও গলায় কোনো গোত্রের নানা আঁকিবুকি রয়েছে।

এর মধ্যে ম্যাকিনটায়ার মাইয়োরুনা গোত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ জাতির লোকেরা 'ক্যাট পিপল' নামে পরিচিত। তাদের মুখে ট্যাটু আঁকানো। তাদের গাল, নাক ও ঠোঁট ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে পাইনের কাঁটা ফুঁড়ে গেছে। তিনি আমাজনে এ জাতির সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সময় তিনি তার ক্যাম্প থেকে হারিয়ে যান। ওদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।

তিনি সেখানে গোত্রের প্রধান ও আরেক ভণ্ড তরুণের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াই দেখেছেন। তিনি তাদের ধর্মীয় রীতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। এমনকি তাকে আত্মহত্যার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। মাইয়োরুনারা তাদের অঞ্চলে চলে আসা যেকোনো মানুষকে সেই পুরনো আমলে পাঠিয়ে দিতে চায়।

ম্যাকিনটায়ার পরবর্তীতেও তিন জনকে নিয়ে আমাজনের সত্যিকার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এই অভিযাত্রী মাইয়োরুনাদের মধ্যে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগের বিষয়টি খুঁজে পেয়েছেন। অর্থাৎ, দূর থেকে চিন্তার আদান-প্রদানের মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে থাকেন। এ পদ্ধতিতেই কি ম্যাকিনটায়ার মাইয়োরুনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন?

ঔপন্যাসিক এবং হলিউডের স্ক্রিপ্ট রাইটার পোপেস্কু এই অভিযানকে বইয়ে লিপিবদ্ধ করার প্রায়স নেন। ম্যাকিনটায়ার মারা যান ২০০৩ সালে। তার সম্পর্কে পোপেস্কু বলেন, আদি গোত্র নিয়ে ম্যাকিনটায়ারের আগ্রহের কমতি ছিল না। তিনি আদি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস আবিষ্কার ও তাদের বিবর্তন নিয়ে দারুণ আগ্রহী ছিলেন। ১৯৯১ সালে পোপেস্কু প্রকাশ করেন সেই অভিযানের কাহিনী 'দ্য এনকাউন্টার : আমাজন বিমিং'।

এই বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই বিবিসি রেডিও সিরিজ শুরু করে গত বছরের মে মাস থেকে। টেলিগ্রাফকে এক সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ জিলিয়ান রেনল্ডস বলেন, এ কাহিনী স্থান, কাল ও ইতিহাসের ভিন্ন এক সময়ে নিয়ে যায়। এটা এমন এক দেশের কাহিনী যা গৌতম বুদ্ধ থেকে শুরু করে আধুনিক বিলিনিয়ররা পর্যন্ত বলে থাকেন।

অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ বের করতে এমনই উদ্যোগ নেন লন্ডনের কিংস কলেজের দ্য ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর খিলনানি। তিনি একটি প্রাচীন দূর্গ এবং আয়ুর্বেটিক প্রতিষ্ঠানে ভ্রমণ করেন। প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে আধুনিকের সম্পর্ক খুঁজতে তাদের এ প্রায়স।

আবিষ্কারের এ নেশা নিয়ে অনেকেই ছুটে চলেন। অ্যামি লিপট্রটের 'দ্য আউটরান' এমনই একটি বই। তিনি অর্কনে-তে ভ্রমণ করেন। সেখানে আকাশ ও পানির মাঝে মাটির দেখা খুব কমই মেলে।

২০১৩ সালে ডলম্যান ট্রাভেল বুক অ্যাওয়ার্ড জেতেন ক্যাথলিন জেমি। প্রকৃতি নিয়ে তিনি কয়েকটি রচনার একটি সিরিজ প্রকাশ করেন। ইংলিশ মুর নিয়ে ভ্রমণকাহিনী এবং ইতিহাস তুলে এনেছেন উইলিয়াম অ্যাটকিনস।

আবার মটোরসাইকেলের হেলমেন থেকে নারীর হিজাব পর্যন্ত বর্ণনা পেয়েছে লোইস প্রাইসের ভ্রমণে। ইরান থেকে ঘুরে এসে তিনি এমই কাহিনী জানিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য