• ই-পেপার

বৈধ পতিতাবৃত্তির বিশালতার সাক্ষী জার্মানির \\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'প্যারাডাইস\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'

পদ নয়, আদর্শই ছিল রাজনীতির প্রেরণা!

মো. তরিকুল ইসলাম তারিক
পদ নয়, আদর্শই ছিল রাজনীতির প্রেরণা!
মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

রাজনীতি আমার কাছে কখনোই ক্ষমতার সিংহাসনে পৌঁছানোর সোপান ছিল না। এটি ছিল আমার রক্তে বহমান এক আদর্শ, আত্মার গভীরে লালিত এক বিশ্বাস, বিবেকের সঙ্গে করা এক আজীবনের অঙ্গীকার।

এই অঙ্গীকার রক্ষা করতে গিয়ে কতবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি, কতবার হামলার শিকার হয়েছি, কতবার কারাগারের নির্জন অন্ধকারে কাটিয়েছি—তার কোনো হিসাব রাখিনি। পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছি; সেই গুলির ক্ষত আজও শরীরে যেমন বহন করি, তেমনি তার যন্ত্রণা প্রতিদিন হৃদয়ের গভীরেও অনুভব করি। প্রতিটি ব্যথা আমাকে শুধু একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—আদর্শের পথে হাঁটার মূল্য কখনোই সহজ নয়।

আমি কখনো প্রাপ্তির হিসাব কষে রাজনীতি করিনি। পদ-পদবির মোহ আমাকে টানেনি; করতালির শব্দও আমার পথচলার প্রেরণা ছিল না। আমার একমাত্র শক্তি ছিল বিশ্বাস—দুঃসময়ে যে বিশ্বাস আমাকে রাজপথে দাঁড়াতে শিখিয়েছে, অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করতে শিখিয়েছে।

তবু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বারবার বঞ্চিত হয়েছি। কখনো মনে হয়েছে, যাদের রক্তে সংগ্রামের ইতিহাস লেখা হয়, সুসময়ের আলোয় তাদের নামই সবচেয়ে আগে মুছে যেতে বসে। এই বঞ্চনা কষ্ট দেয়, বুকের ভেতর নীরব রক্তক্ষরণ ঘটায়; কিন্তু আমার আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও নত করতে পারেনি।

আজও আমার আস্থা অটুট। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমার বিশ্বাস অবিচল। কারণ আমি মনে করি, সত্যকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য আড়াল করা যায়, কিন্তু চিরদিনের জন্য মুছে ফেলা যায় না। ত্যাগের মূল্যায়ন বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস কখনো প্রকৃত ত্যাগীদের সঙ্গে অবিচার করে না।

আমি আজও সেই পথের পথিক—যে পথ রক্তে রঞ্জিত, অশ্রুতে সিক্ত, তবু বিশ্বাসে আলোকিত। যদি আবারও বেছে নিতে বলা হয়, তবু আমি আদর্শের এই পথই বেছে নেব। কারণ কিছু বিশ্বাসের মূল্য পদে নয়, কিছু ত্যাগের মূল্য প্রশংসায় নয়—সেগুলোর মূল্য লেখা থাকে ইতিহাসের গভীরতম পাতায়।

মো. তরিকুল ইসলাম তারিক
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং
সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা : রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা

এম. আরিফুজ্জামান
শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা : রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা
এম আরিফুজ্জামান

বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা বর্তমান সরকার তার ঘোষিত ৩১ দফার মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, তার অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ২৫ নম্বর দফা—‘শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন’। এই দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং উচ্চশিক্ষায় জ্ঞান ও গবেষণানির্ভর পরিবেশ তৈরি করাই হবে সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

দীর্ঘদিনের অবহেলা, অবকাঠামোগত অসামঞ্জস্য এবং শিক্ষকদের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বঞ্চনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত করেছিল। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর। অথচ দুঃখজনকভাবে, এই স্তরের শিক্ষকরাই আজ সবচেয়ে অবহেলিত ও উপেক্ষিত। শিক্ষকদের বেতনকাঠামো ও পেশাগত মর্যাদার বৈষম্য শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে অস্থির থাকেন, তবে তাদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স আশা করা দুষ্কর। তাই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বেতনকাঠামো নিশ্চিত করাই হতে হবে সংস্কারের প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ। শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল মেধাবীরা এই পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন।

বর্তমান সরকারের উচিত শিক্ষা খাতকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শিক্ষা খাতে যে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করা জরুরি। এই বিনিয়োগই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণ, উন্নত গবেষণাগার স্থাপন এবং আইসিটি অবকাঠামো নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করবে।

একই সঙ্গে, একটি যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত কারিকুলাম প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রমকে হতে হবে আনন্দদায়ক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমমুখর। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক সমন্বয় ঘটাতে হবে। এটি কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং দেশজ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচ্য বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বর্তমানে অকার্যকর ও শিক্ষার্থীস্বল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় ছোট ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে পার্শ্ববর্তী বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত (Amalgamate) করে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার তদারকি বা মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শিক্ষা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সেখানে পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে, বর্তমান সরকারের ২৫ নম্বর দফার বাস্তবায়ন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি জাতির টিকে থাকা ও বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লড়াই। শিক্ষা খাতের এই সংস্কার যদি যথাযথ গবেষণানির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আজকের এই বিনিয়োগই হবে আগামীর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। শিক্ষা খাতের এই পুনর্জাগরণই ৩১ দফার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জিয়ানগর, পিরোজপুর।
Email: [email protected] 

ক্যান্সার আক্রান্ত কলেজশিক্ষক সাজু বাঁচতে চান

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার আক্রান্ত কলেজশিক্ষক সাজু বাঁচতে চান
সংগৃহীত ছবি

সফিকুল ইসলাম সাজু পেশায় সরকারি কলেজের শিক্ষক। মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার নেশা। শিক্ষার্থীদের তিনি আগলে রেখেছেন নিজের সন্তানের মতো। শিক্ষা, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, রক্তদান কিংবা অসহায় মানুষের সহায়তা—যেখানেই মানুষের প্রয়োজন, সেখানেই ছিল তার নিরলস পদচারণা। শিক্ষার্থীদের প্রিয় সেই ‘সাজু স্যার’ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে সমাজের সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সাজু ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। তিনি কবিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি অগ্নাশয় (প্যানক্রিয়াস) ক্যান্সারে আক্রান্ত। দুই সন্তানের এই জনকের চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। 

১৯৮৮ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০০৪ সালে চরবাটা সওদাগর হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে সৈকত সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সুবর্ণচরের শিক্ষাবিস্তারে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং হাজী মোশারেফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সুবর্ণচরের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবকসুলভ মানুষ। 

সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার অগ্নাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগটির জটিলতা সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার সম্ভাবনা যাচাই করতে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছেও তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে আরো বিশেষায়িত মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

পরিবারের সদস্যরা জানান চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ভারত অথবা থাইল্যান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে চিকিৎসা বাবদ আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার। সবার সম্মিলিত সহায়তায় তিনি সুস্থ হয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাদের।

সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা :
হিসাবের নাম : মো. সফিকুল ইসলাম
ব্যাংক : সোনালী ব্যাংক, কালামুন্সি বাজার শাখা, কবিরহাট, নোয়াখালী
হিসাব নম্বর : ৩৮১২১০১০২৬৭২
রাউটিং নম্বর : ২০০৭৫১২৭০
বিকাশ/নগদ (ব্যক্তিগত) : ০১৭০১৩০০৫০০

পরিচ্ছন্নতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম ‘মাওলিনং’

অনলাইন ডেস্ক
পরিচ্ছন্নতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম ‘মাওলিনং’

ভারতের উত্তর-পূর্বে, মেঘালয় রাজ্যের একটি ছোট্ট গ্রাম ‘মাওলিনং’। প্রায় ৬০০ মানুষের এই শান্ত গ্রামটি আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক নামে—‘এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম’। ২০০৩ সালে ‘ডিসকভার ইন্ডিয়া’ ম্যাগাজিন কর্তৃক এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই গ্রামটির ভাগ্য বদলে যায়। প্রতি শনিবার এখানে এক হাজারেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। 

মাওলিনং গ্রামে পরিচ্ছন্নতা কোনো সাময়িক অভিযান নয়, বরং এটি এখানকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার অংশ। একদম ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পরিচ্ছন্নতার পাঠ দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুরা দল বেঁধে রাস্তায় নেমে শুকনো পাতা ঝাড়ু দেয় এবং বাঁশের তৈরি ময়লার ঝুড়িগুলো খালি করে। গ্রামবাসীরা প্রত্যেকে নিজেদের ঘরের পাশাপাশি সরকারি বাগান ও রাস্তার পরিচর্যা করেন। পচনশীল বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিষয়ে সবাই সমান সচেতন।

২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার জাতীয় ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ শুরুর পর একটি রেডিও ভাষণে মাওলিনংয়ের প্রশংসা করে বলেছিলেন, এখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাসিন্দাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই স্বীকৃতি গ্রামটিকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। কৃষিজীবী বাসিন্দারা ধীরে ধীরে পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত হন; গড়ে ওঠে হোমস্টে, রেস্তোরাঁ ও স্মারকচিহ্নের দোকান।

পর্যটনের হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসলেও, দুই দশক ধরে টানা দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় গ্রামের চেনা শান্ত পরিবেশকে বিঘ্নিত করছিল। বিশেষ করে, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতলের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গ্রাম কমিটি ভারসাম্য বজায় রাখার তাগিদ অনুভব করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি রবিবার দিনের বেলা বেড়াতে আসা পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গ্রাম কমিটির সদস্য প্রেসিয়াস খোংডুপ জানান, গ্রামটির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং যে শৃঙ্খলার কারণে একসময় মাওলিনং সর্বাগ্রে স্বতন্ত্র ছিল, তা রক্ষা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

মাওলিনংয়ের জনসংখ্যা শতভাগ খাসি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। সপ্তাহের ছয় দিন পর্যটকদের সেবায় ব্যস্ত থাকার পর, রবিবার দিনটি তারা নিজেদের পরিবার ও ধর্মীয় উপাসনার জন্য তুলে রাখতে চান। স্থানীয় বাসিন্দা ফেস্টিভ্যাল খারিম্বা বলেন, আমরা গির্জায় যেতে, উপাসনা করতে সময় পাই। রবিবার পর্যটকরা এখানে থাকলে আমাদের সমস্যা হতো। অবশ্য যারা আগে থেকে গ্রামের গেস্টহাউস বুক করে থাকেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত। নিষেধাজ্ঞার দিনে মাওলিনংয়ের প্রবেশদ্বারে কালো ধাতব গেট বন্ধ থাকে। পর্যটকদের কোলাহলমুক্ত গ্রামে তখন কেবল শোনা যায় গির্জা থেকে ভেসে আসা স্তোত্রগানের সুর। ভারতের দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক এই নিয়মে শুরুতে কিছুটা অবাক হলেও, গ্রামবাসীর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছেন। অধ্যাপক বিজয়া দেবনাথ, যিনি মেঘালয়ে ছুটিতে এসে এই গ্রামের ফটক থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন, তিনি বলেন, এই মানুষেরা প্রতিনিয়ত গ্রামটিকে এত পরিচ্ছন্ন রাখছে, আমরা সেটাই দেখতে চেয়েছিলাম। মাওলিনং আমাদের এই আশা দেখায় যে যৌথ প্রচেষ্টায় চারপাশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব।

স্বচ্ছ ভারত মিশনের এক যুগ পরেও যেখানে ভারতের বহু অঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে মাওলিনং এক অনন্য ব্যতিক্রম। এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের এই খেতাব শুধু পর্যটন আকর্ষণের জন্য নয়, বরং বাসিন্দাদের কঠোর শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের ফসল। 

বৈধ পতিতাবৃত্তির বিশালতার সাক্ষী জার্মানির \\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'প্যারাডাইস\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\' | কালের কণ্ঠ