kalerkantho

স্বপ্ন সত্যি হবে কিভাবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৯ ১১:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বপ্ন সত্যি হবে কিভাবে

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

স্বপ্ন কী? কেন মানুষ স্বপ্ন দেখে? ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখি সেটাই কি আসলে স্বপ্ন? স্বপ্ন সত্যি হয় কিভাবে? আমরা এই লেখার মধ্য দিয়ে তার একটি সমাধান সূত্র পেতে পারি। 

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের চমৎকার একটি উক্তি আছে। তিনি বলেছেন, ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা কোনো স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন হচ্ছে তাই যা তোমাকে ঘুমাতে দেবে না। বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে যাও। তিনি আরো বলেছেন, সফলতার গল্প পড়ো না, কারণ তা থেকে তুমি শুধু গল্পটাই পাবে। ব্যর্থতার গল্প পড়ো, তাহলে সফল হওয়ার কিছু উপায় পাবে। সূর্যের মতো আলো ছড়াতে চাইলে সূর্যের মতো পুড়তে শিখতে হবে। 

এর মানে কী? নিশ্চয়ই তরুণদের মনে এই প্রশ্ন জাগে! স্বপ্ন কি সেটা নিশ্চয়ই তোমরা বুঝে গেছো। এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কী করতে হবে? কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে হবে। সে কাজটা তোমরা শুরু করবে সেটাকে শেষ করতে হবে। কথায় আছে না, আমরা আরম্ভ করি কিন্তু শেষ করি না। যে কোনো কাজই হোক না কেন, একাগ্রচিত্তে করলে তাতে সফলতা আসবেই। 

মনে রাখবে, কোনো শ্রমই কিন্তু বৃথা যায় না। কোনো কাজে সফলতা না এলে সেটা ব্যর্থ হয়েছে বলা যাবে না। মনে করতে হবে, সেটা একটা অভিজ্ঞতা। অনেকে বলে থাকে, 'না, আমাকে দিয়ে হবে না। কিছু হবে না!' এটা স্রেফ হতাশার কথা। অতি অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়লে চলবে না। কেন হবে না সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। 

সব কাজেই যে সফলতা আসবে তা নয়। তাই বলে হতাশ হয়ে হাতগুটিয়ে বসে থাকতে হবে! মোটেই না। পুনরুদ্দমে নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনা নিয়ে কাজে নেমে পড়তে হবে। এক কাজে সফলতা আসেনি; আরেকটাতে আসবে! দ্বিতীয়বার না এলে তৃতীয় বা চতুর্থবার আসবে। আমরা হয়তো বর্তমান দিয়েই বিচার করি। কিন্তু কার ভবিষ্যৎটা কিভাবে পাল্টে যাবে তা কেউ জানে না। 

প্রত্যেকটি মানুষেরই কোনো না কোনো যোগ্যতা থাকে। কোনো না কোনো প্রতিভা তার ভেতরে লুকিয়ে আছে। সেটা খুঁজে বের করতে হবে এবং কাজে লাগাতে হবে। ইচ্ছা শক্তি দিয়ে সেই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হয়। 

আমি একজন ব্যবসায়ীকে চিনি। তিনি সততা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়েই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাতারে উঠে এসেছেন। তিনি একবার গল্পচ্ছলে নিজের ওপরে উঠে আসার কথা বলছিলেন। তিনি মাত্র বারশ’ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, অনেক বড় ব্যবসায়ী হবেন। তখন মানুষ তার কথা শুনে হাসত। বলতো, পাগলে কি না বলে!
 
লোকজনের এসব নেতিবাচক কথায় তিনি কষ্ট পাননি। তিনি সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তিনি ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করেন। মাথায় এক চিন্তা, বড় ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন। রাতদিন কাজ করতে থাকলেন। তাকে বলা হয়, কর্মপাগল মানুষ। কাজ ছাড়া থাকতে পারতেন না। দিনে দিনে তার ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকে। তারপর একদিন তিনি স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসেন অনেক ওপরে। দখল করে নেন শীর্ষ আসন। 

এপিজে আবদুল কালাম হতে চেয়েছিলেন বিমানের পাইলট। সে জন্য তিনি পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। কিন্তু কৃতকার্য হতে পারেননি। এতে কিন্তু তিনি দমে যাননি। ওখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে শুরু করেন। সেটাই তাকে তাঁর স্বপ্নের চেয়েও বড় জায়গায় নিয়ে যায়। তিনি হন রকেট বিজ্ঞানী এবং পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি। 

স্বপ্ন ছাড়া কোনো মানুষই বড় হতে পারে না। স্বপ্ন দেখতে হবে বড় করে। তারপর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে অদম্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে, স্বপ্ন সত্যি হবে কিভাবে? 
আমি বলব, একটিই উপায় আছে। তাহলো, নিরলস প্রচেষ্টা।

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ। 

পড়ুন আগের কিস্তি 

বার বার বলো, আমিই পারব

 

মন্তব্য