kalerkantho


এপসম সল্টের যত গুণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩৭



এপসম সল্টের যত গুণ

ছবি অনলাইন

ম্যাগনেসিয়ামপূর্ণ এক বেদনানাশক লবণ এপসম সল্ট। সাধারণত ক্রীড়াবিদরা ব্যবহার করেন। আবার বাগানিরা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে এই জিনিস গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করেন। স্বাস্থ্যগুণের বিচারে অনেক আগে থেকেই এপসম সল্টের কদর আছে। এই লবণের গুণ নিয়েই আজকের টিপস—

ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি

সুস্বাস্থ্যর জন্য দেহে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম থাকা দরকার। আর এই খনিজের অভাবে ভোগা অতি সাধারণ সমস্যার নাম ‘হাইপোম্যাগনেসেমিয়া’। অ্যালকোহল গ্রহণ, মারাত্মক ডায়রিয়া, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদি কারণে এই খনিজের অভাবে ভুগতে পারেন আপনি। এপসম সল্ট মিশ্রিত পানিতে স্রেফ দুই পা কিংবা শরীর ভিজিয়েই ম্যাগনেসিয়াম সংগ্রহ করা সম্ভব। দেহের তিন শতাধিক পাচক রস নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাগনেসিয়াম। পেশির কাজ, শক্তি উৎপাদন, বৈদ্যুতিক তরঙ্গ এবং দূষিত উপাদান হটানোর কাজে এই খনিজের ভূমিকা আছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, আর্থ্রাইটিস, অস্টেওপোরোসিস, ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম, হজমের অসুবিধা ইত্যাদির ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।

স্ট্রেস কমাতে

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ধীরে ধীরে ঘাতক হয়ে ওঠে। একে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অনেকেই এপসম সল্ট মিশ্রিত পানিতে উষ্ণ গোসলের কথা শুনেছেন। এ পদ্ধতিতে উদ্বেগ হ্রাস পায়। পেশিগুলোকে শিথিল করে। মন শান্ত হয়। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার এক গবেষণায় বলা হয়, ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হয়। তাই নিউরোসাইকিয়াট্রিক ডিস-অর্ডারের চিকিৎসায় এপসম সল্ট দারুণ।

দূষিত উপাদান দূরীকরণ

এপসমের সালফেট দেহ থেকে সব ধরনের দূষিত উপাদান বের করে দিতে কাজ করে যায়। বলা হয়, কোষের ‘হেভি মেটাল’ বিষ তাড়াতে এই লবণ বেশ শক্তিশালী। মানুষের ত্বকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এগুলো মেমব্রেনের মতো কাজ করে। গোসলের পানিতে ম্যাগনেসিয়াম ও সালফেট থাকলে ‘রিভার্স অসমোসিস’ ঘটে। এ পদ্ধতিতে ত্বকের ভেতর থেকে ক্ষতিকর লবণ ও দূষিত উপাদান বের করে দেওয়া হয়। গোসলের জন্য কমপক্ষে দুই কাপ এপসম সল্ট নিতে হবে। শরীর ভেজাতে হবে কমপক্ষে ৪০ মিনিট ধরে। প্রথম ২০ মিনিটে ক্ষতিকর উপাদান বের হয়ে যাবে। পরের ২০ মিনিটে প্রয়োজনীয় খনিজ দেহে প্রবেশ করবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়

এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে এপসম সল্টের কথা বলা হয়। এটি খাওয়া হলে এর রেচক উপাদান অন্ত্রে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। বর্জ্য বের করে দেওয়ার কাজটি সহজ হয়ে আসে। অবশ্য কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়ার আপাত সমাধান এই লবণ।

ব্যথা নাশ

এপসম সল্টে উষ্ণ গোসলের মাধ্যমে দেহের ব্যথা দূর হয়। বেশির ভাগ রোগ সৃষ্টির মূলে থাকা ইনফ্লামেশন প্রতিরোধ করে এই লবণ। ব্রনসিয়াল অ্যাজমার প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে ভরসা রাখা হয় এই লবণের ওপর।

ডক্টর অ্যাক্স অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার



মন্তব্য