kalerkantho


হোলিতে মাতোয়ারা? তবে রং বিষয়ে সাবধান!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৮ ১৯:৪৬



হোলিতে মাতোয়ারা? তবে রং বিষয়ে সাবধান!

আসলে হোলির দিন। হোলি উৎসব এখন কোনো ধর্মে-বর্ণে সীমাবব্ধ নেই। এটা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হতে চলেছে। কেবল ভারতেই নয়, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সমাজের সব শ্রেণি-ধর্ম-গোত্রের মানুষ হোলির রংয়ে রঙিন হয়ে ওঠেন। কিন্তু হোলির রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত রং নিয়ে সবাইকে সাবধান করে দিতে চান স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। একটা সময় উদ্ভিদ থেকে এই রং সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু চাহিদা বাড়াতে এত রংয়োর জোগান দিতে রাসায়নিক পদার্থই ভরসা হয়ে উঠেছে। এটা সস্তায় মেলে, মনের মতো রং পাওয়া যায় এবং জোগানও ভালো। তাই অস্বাস্থ্যকর হলেও এসব রংই বেছে নেন উৎসব পালনকারীরা। এখানে জেনে নেওয়া যাক হোলিতে ব্যবহৃত রংয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে। 

ভেজাল ও কৃত্রিম রং 
হোলিতে যে রং ব্যবহার করা হয় সেগুলো আসলে কারখানার রাসায়নিক উপাদান। লাল রং বানানো হয় মার্কারি সালফেট দিয়ে। কালো আসে লেড অক্সাইডের কল্যাণে। সবুজ কপার সালফেট এবং ম্যারাসিটে গ্রিন আর নীল আসে প্রুসিয়ান ব্লু থেকে। বেগুনী বানানো হয় কোবাল্ট নাইট্রেট কিংবা জিঙ্কের লবণ থেকে। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, এসব পদার্থের রং আপনি সারা গায়ে মাখছেন। চোখে যাচ্ছে বা মুখ দিয়ে পেটেও যায়। এগুলো যে ক্ষতিকর বিষয় তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। 

একটি গবেষণা 
পরীক্ষায় দেখা গেছে, রংয়ে ৪০ শতাংশের বেশি উপাদান থাকে যেগুলোতে অ্যারোডায়নামিক ডায়ামিটারে যার পরিমাপ ১০ মাইক্রোমিটারের কম। এদের বলা ঞয় পিএম ১০ পার্টিকলস। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি হোলির রংয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি পিএম১০ থাকে। এগুলো দেহে ইনফ্লামেশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

স্পর্শকাতর ত্বকে বিরূপ প্রভাব 
আপনি কিন্তু হোলির রং সহজে ধুতে পরিষ্কার করতে পারেন না। এর কারণ হলো, আপনার ত্বকের জন্যে এগুলো খুবই শক্তিশালী এবং বন্ধুভাবাপন্ন নয়। এসব রং তরল অবস্থাতেও পাওয়া যায়। হোলির রংয়ের এসব উপাদান মানুষের ত্বকের জন্যে অস্বস্তিকর এবং শক্ত রাসায়নিক উপাদান হিসেবে ক্রিয়াশীল হয়। 

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 
ত্বকের জন্য স্পর্শকাতর হওয়া ছাড়াও এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান চোখের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। চোখে পানি চলে আসে এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি চুলের মসৃণতা নষ্ট করে। হাত-পায়ের নখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কাজেই ত্বকের রোগ থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত দেখা দেওয়া বিচিত্র নয়। 

যা করা উচিত 
তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্গানিক রং ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটা ঝুঁকিহীন উপায়। এমনকি বাড়িতেও এসব অর্গানিক রং ব্যবহার করা যায়। আর হোলিতে মেতে ওঠার আগে অবশ্যই চুলে তেল দিয়ে নেবেন। চোখ রক্ষায় চশমা পরবেন। চোখে রং যাওয়ামাত্র পরিষ্কার পানি দিয়ে বার বার ধুয়ে নেবেন। 
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া  



মন্তব্য