kalerkantho


যে ৮ কারণে কর্মীরা তাদের বস বা কম্পানিকে বিশ্বাস করে না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:২৬



যে ৮ কারণে কর্মীরা তাদের বস বা কম্পানিকে বিশ্বাস করে না

পেশাগত দুনিয়ায় আস্থা এবং আনুগত্য খুব সহজে আসে না। প্রতিষ্ঠানগুলো আজকাল কর্মীদের আনুগত্য বাড়ানোর জন্য নানা উপায় খুঁজছেন। আবার চাকরি পাওয়ার জন্য লোকে নিজেদের সিভিতে যেভাবে মিথ্যা কথা বলার সুযোগ খোঁজেন ঠিক সেভাবে কম্পানিও একইভাবে তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করুক সেটা কিন্তু চান না।
কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। নিয়োগদাতারা কর্মীদেরকে অনুগত রাখতে নতুন উপায় অবলম্বন করছেন। পুরোনো এবং অনুগত কর্মীদেরকে বেশি বেশি বেতন বাড়িয়ে দিচ্ছে কম্পানিগুলো।
তথাপি কর্মী এবং কম্পানিগুলোর মধ্যে বিশাল দূরত্ব রয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘২০১৬ এডেলম্যান ট্রাস্ট ব্যারোমিটার’ রিপোর্ট। বিশ্বব্যাপী নিয়োগদাতা এবং কর্মীদের মধ্যকার আস্থার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণার পর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে এডেলম্যান। প্রতিবেদনে কর্মীদের তাদের নিয়োগদাতাদের বিশ্বাস না করার ৮টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
১. কর্মীদের সঙ্গে কম্পানির সংশ্লিষ্টতার অভাব
যেখানে সংশ্লিষ্টতার অভাব আছে সেখানেই আস্থার অভাবও থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্কে সংশ্লিষ্টতা যেভাবে আস্থা তৈরির কাজ করে ঠিক সেভাবেই নিয়োগদাতা ও কর্মীর মধ্যে আস্থা তৈরির কাজ করে সংশ্লিষ্টতা। যোগাযোগ সীমিত হলে সংশয় বাড়ে। এতে কর্মীরা সম্ভাব্য কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে না পারার উদ্বেগে ভোগেন। কর্মীদেরকে কোনো বিষয়ে অন্ধকারে রাখলে তাদের মধ্যে শুধু অবিশ্বাস এবং আস্থাহীনতাই তৈরি হয়। এর ফলে কর্মীরাও বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় কিছু একটা লুকানো হচ্ছে।
২. স্বল্পমেয়াদি চিন্তা
কোনো কম্পানি যদি স্বল্পমেয়াদেই লাভবান হতে চায় তা কর্মীরা ঘৃণা করেন। এডেলম্যানের জরিপে দেখা গেছে, দুই তৃতীয়াংশ কর্মী মনে করেন, তাদের কম্পানি স্বল্পমেয়াদি মুনাফার ওপর বেশি মনোযোগ দেয়।
৩. কম্পানির ওপর কোনো বিশ্বাস না থাকা
আপনি আপনার কম্পানিকে বিশ্বাস করেন? আপনি কি কম্পানির মিশন এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে বিশ্বাস করেন? লোকে সাধারণত সেসব কম্পানির জন্য কাজ করতে বেশি আগ্রহী থাকে যারা সমাজের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আগ্রহী এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায়। তা হতে পারে পরিবেশ রক্ষা করা বা কর্মীদের যত্ন নেওয়া যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত কষ্ট ছাড়াই জীবনের প্রয়োজনীয়তাগুলো মেটাতে পারেন।
৪. পণ্যের খারাপ গুনগত মান
লোকে সাধারণত সেই কম্পানিকেই পছন্দ করেন যারা উচ্চ গুনগত মানসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য পণ্য সেবা সৃষ্টি করেন। এমন কম্পানিতে কাজ করাটাও সহজ। আর কাস্টমাররাও তা পছন্দ করেন।
৫. অনৈতিক আচরণ
কর্মীরা সাধারণত নৈতিকভাবে সৎ কম্পানির জন্য কাজ করতে পছন্দ করেন। যারা পর্দার অন্তরালে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখেনা বা অনৈতিক আরচণ করে না তাদেরকেই বেশি পছন্দ কর্মীদের।

৬. কুখ্যাতি
কম্পানির যদি কোনো কুখ্যাতি থাকে তাহলে কর্মীদেরকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হয় না। লোকে সাধারণত এমন ব্যবসার জন্য কাজ করেন না যার নেতিবাচক অবদান আছে। আর যারা সেখানে কাজ করেন তারা সেই কম্পানিকে বিশ্বাস করেন না।
৭. অদৃশ্য সিইও
এডেলম্যানের জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০জনের মধ্যে অন্তত ৭জন চায় তাদের সিইও এসে তাদের সঙ্গে আর্থিক ফলাফল নিয়ে আলোচনা করুক। আর ১০জনের ৮জন চায় সিইওরা সামাজিক ইস্যুতে আলোচনা করুক। যেমন, আয়বৈষম্য এবং সরকারি নীতি। যখন একজন সিইও পর্দার অন্তরালে থেকে যান তখন কর্মীদের পক্ষে তাদের কম্পানির গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
৮. যোগাযোগের অভাব
এডেলম্যানের জরিপে দেখা গেছে, ৮১% লোক বলেছেন, কর্মীদের সাথে সিইওর যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ৭৫% মনে করেন সিইওদের উচিত বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা। ৭৪% বলেছেন তারা এমন সিইও চান যিনি প্রেস রিলিজ, নিউজলেটার, ওয়েবসাইট আপডেট এবং প্রতিবেদনের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন এবং ইন্ডাস্ট্রির কনফারেন্সেও অংশগ্রহণ করবেন। অর্ধেক বলেছেন, তারা এমন সিইও চান যিনি সামাজিক গণমাধ্যমে মতামত শেয়ার করবেন। আর এসব পদ্ধতি কর্মীদের মাঝে আস্থা তৈরির কাজ করে।


মন্তব্য