kalerkantho

যখন ঘুম নেই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৯:২৪



যখন ঘুম নেই

ছবি অনলাইন

বিজ্ঞান অনেক আগেই জানিয়েছে, সুস্থ থাকতে সবাইকে প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। নয়তো দেহ-মন ঠিকঠাক কাজ করবে না।

কখনো ভেবেছেন, এক বা দুই দিন একটানা না ঘুমালে আপনার কী অবস্থা হতে পারে? অনেক কারণেই মানুষের আধুনিক জীবনযাপনে এমনটা ঘটে থাকে। অসুস্থতা, কাজের চাপ কিংবা নবজাতকের দেখাশোনা—যেকোনো কারণে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। মাঝেমধ্যে ঘুম না হলে পুষিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু এ ঘটনা যদি প্রায়ই ঘটে, তবে আপনার কী ক্ষতি হচ্ছে তা জানা জরুরি। বেশ কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুম এতটাই জরুরি যে কেউ যখন ঘুমের অভাবে ভুগতে থাকে তখন মন নিজে থেকেই ঘুমিয়ে যায়। মানুষটি জাগ্রত থাকলেও চেতনা ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে থাকে। এখানে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কয় ঘণ্টার ঘুমের অভাবে কী ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে—

যখন জাগ্রত ২৪ ঘণ্টা

একটানা ২৪ ঘণ্টা বা পূর্ণ এক দিন না ঘুমিয়ে কাটালে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মনটা যথাযথভাবে কাজ করতে চায় না। মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার সক্ষমতা হারাতে থাকবেন আপনি।

আরেক গবেষণায় এও বলা হয়, না ঘুমালে তেমনই বোধ হবে যেমনটা রক্তে দশমিক ১০ শতাংশ অ্যালকোহল প্রবেশ করিয়ে দিলে হয়। এ অবস্থায় কিন্তু স্মৃতিশক্তি দিব্যি কাজ করতে পারে। এ ছাড়া মস্তিষ্কের কার্যনির্বাহী কাজ, শিক্ষণ, স্মৃতিধারণ এবং ভাষা আয়ত্তকরণের মতো জটিল মনোযোগের কাজও চলতে থাকে। কিন্তু টানা ২৪ ঘণ্টার জাগ্রত অবস্থায় হাত ও চোখের কাজের সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার অভিজ্ঞতাও পেরেশানিদায়ক হয়ে ওঠে।

যখন ৩৬ ঘণ্টা নির্ঘুম

২৪ ঘণ্টা পর থেকেই তো দেহ-মন স্ট্রেসের মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থা যত দীর্ঘায়িত হবে, আপনার অবস্থাও তত অবনতির দিতে যেতে থাকবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৬ ঘণ্টা ঘুমের অভাবে কেবল মস্তিষ্কের ওপরই নয়, হৃদ্যন্ত্রের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। হৃত্স্পন্দন বাড়ে এবং রক্তচাপের উত্থান-পতন ঘটতে থাকে। মস্তিষ্কের বেহালে আপনি দিশাহারা বোধ করতে শুরু করবেন। চেনা মুখ না চিনতে পারা বা মুখস্থ শব্দ ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। বিক্ষিপ্ত মস্তিষ্কের কারণে জটিল মনোযোগের কাজে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয় না। দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিদারুণ ঝুঁকিতে পড়ে।

যখন নির্ঘুম ৪৮ ঘণ্টা

দেহ ও মনে চরমভাবে চেপে বসবে স্ট্রেস। গবেষণায় জানানো হয়, টানা ৪৮ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকলে রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে আসতে থাকে। মূত্রে বেড়ে যেতে পারে নাইট্রোজেনের মাত্রা। আপনার দেহ এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছবে যার ক্ষতি সামাল দেওয়া দুষ্কর। এ সময় থেকে রোগ ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা হারাতে শুরু করবে দেহ। রোগাক্রান্ত হবেন সহজে।

যখন সজাগ ৭২ ঘণ্টা

এ সময়ের পর আপনি চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। না ঘুমিয়ে ৭২ ঘণ্টা কাটানোর পর আপনার মনের স্থিতি ও মস্তিষ্কের মোটরের সক্রিয়তা অস্থিরতায় ছেয়ে যাবে। মনঃসংযোগ ব্যাপকভাবে এলোমেলো হতে থাকবে। না জেগে রয়েছেন, না ঘুমাচ্ছেন—এমনই এক পাগলপ্রায় অবস্থা বিরাজ করবে। এই পরিস্থিতিতে অদ্ভুত ও বিদঘুটে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় মানুষ। হেলুসিনেশন, কল্পনাকে বাস্তবে দেখা, অস্বস্তিকর কম্পন, ভুল স্মৃতি এবং পেশিতে প্রচুর ব্যথা অনুভূত হওয়ার মতো অসহ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। মনের অতি সাধারণ থেকে উচ্চপর্যায়ের জটিল কাজ সামনে এগিয়ে নেওয়া আর সম্ভব হবে না।

--টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

 


মন্তব্য