kalerkantho


আপনি কতটা বুদ্ধিমান বুঝবেন যেভাবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৪



আপনি কতটা বুদ্ধিমান বুঝবেন যেভাবে

কে কতটা বুদ্ধিমান সে সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা গত কয়েকশো বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এখানো সেভাবে তেমন কোনও মাপকাঠি তৈরি করতে পারেননি তারা।

তবে, সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী এই বিষয়ে গবেষণা চালাতে গিয়ে জানতে পারেন ‘আই কিউ’ বিচার করার মধ্যে দিয়ে এ বিষয়ে ধারণা করা সম্ভব। এর পরপরই শুরু হয় এই নিয়ে আরও কিছু গবেষণা। আরে এই পরীক্ষাগুলি করতে গিয়েই গবেষকরা লক্ষ করেন, যারা বুদ্ধিমান, তাদের কতগুলি বিশেষ গুণ থাকে, যা দেখে তারা যে বাকি সবার থেকে কিছুটা হলেও আলাদ, সে সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হয়। সাধারণত কেউ যে বুদ্ধিমান তা যে যে লক্ষণগুলি দেখে বোঝা সম্ভব, সেগুলি হল...

১. একের অধিক ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একের অধিক ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, তাদের মস্তিষ্ক এতো মাত্রায় উন্নত হয় যে, বুদ্ধির দিক থেকেও এরা বাকিদের অনেকটাই পেছনে ফেলে দেন। আসলে যে কোনও নতুন ভাষা শেখার সময় আমাদের মস্তিষ্ক এতটা অ্যাকটিভ হয়ে যায় যে স্বাভাবিকভাবেই বুদ্ধি বাড়তে শুরু করে। তাই এবার থেকে যখনই জানবেন কেউ তার মাতৃভাষা ছাড়াও আরও কিছু ভাষায় কথা বলতে পারেন, তাহলে বুঝে যাবেন তিনি বেশ বুদ্ধিমান।

২. আই কিউ যদি ১০০-এর বেশি হয়
যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে, আপনি কতটা বুদ্ধিমান, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনার আই কিউ-এর উপর। তাই নিজের বুদ্ধির ধার সম্পর্কে যদি জানতে চান, তাহলে সময় করে একবার আই কিউ টেস্ট করিয়ে নেবেন। যদি দেখেন ১০০-এর বেশি নম্বর পেয়েছেন, তাহলে জানবেন আপনি বুদ্ধির দিক থেকে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন।

৩. আপনি কি ভাই-বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বড়?
বিজ্ঞানীরা খেয়াল করে দেখেছেন যারা বাড়ির বড় ছেলে বা মেয়ে হন, তাদের বুদ্ধি বা আই কিউ লেভেল অনেকের থেকেই বেশি হয়। কিন্তু কেন এমনটা হয়, সেই নিয়ে যদিও এখনও স্পষ্ট ধারণা করে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে আশা করা যেতে পারে আগামী কয়েক বছরে এই উত্তরও পাওয়া সম্ভব হবে।

৪. আপনি কি বিড়াল ভালবাসেন?
শুনতে আজব লাগলেও একথা একাধিক গবেষণাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা কুকুরের থেকে বিড়াল বেশি পছন্দ করেন, তাদের আই কিউ সাধারণ মানুষদের তুলনায় বেশি হয়। প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা করতে একদল বিজ্ঞানী প্রায় ৬০০ জন ছাত্রের আই কিউ পরীক্ষা করেছিলেন। তাতে দেখা গেছে যারা বিড়াল ভালবাসেন তাদের আই কিউ রেজাল্ট বাকিদের চেয়ে বেশ ভাল। শুধু তাই নয়, বিড়াল প্রিয় মানুষদের পার্সোনালিটিও নাকি বাকিদের থেকে আলাদা হয়, এমনটাই ধরণা গবেষকদের।

৫. মাত্রাতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা
একাধিক গবেষণাতে দেখা গেছে, যারা একটু বেশি মাত্রায় চিন্তা করেন, তাদের ব্রেন অ্যাকটিভিটি এতটা বেশি থাকে যে বুদ্ধির দিক থেকে এরা অনেককে পিছনে ফেলে দেন। আসলে কোনও বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় আমরা একই সময় নানা বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকি। ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। তাই দুশ্চিন্তা সব সময়ই যে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে একথাও মনে রাখতে হবে যে, বেশি মাত্রায় টেনশন করলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এ বিষয়ে সাবধান থাকাটা জরুরি।

৬. আপনি কি মজা করতে খুব ভালবাসেন?
বেশ কিছু গবেষণা চলাকালীন বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছিলেন, যারা খুব মজাদার হন, সবার পিছনে লাগতে খুব ভালবাসেন, তাদের আই কিউ লেভেল খুব বেশি হয়। ফলে বুদ্ধিও যে বাকিদের থেকে একটু বেশি হয়, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে কীভাবে কেউ নিজেকে বাকিদের সামনে আকর্ষণীয় করে তোলে, তা দেখে সেই ব্যক্তির বুদ্ধি সম্পর্কে অনেকংশেই ধরণা করা সম্ভব হয়। আর এই স্টাডি অনুসারে যারা নিজেকে মজাদার ভঙ্গিতে অন্যের সামনে তুলে ধরেন, তাদের আকষর্ণীয়তা অন্যদের কাছে অনেকাংশেই বেশি হয়। ফলে এদের বুদ্ধিও হয় অনেক বেশি।

৭. আলসতা আশীর্বাদ না অভিশাপ?
এমন অনেকে আছেন যাদেরকেত আপাত দৃষ্টিতে খুবই আলস মনে হয়। কিন্তু একবার যদি নিজের পছন্দের কাজ পেয়ে যান, তাহলে তার মতো কর্মঠ আর কেউ নেই। তাই আলসতা যে খুবই খারপ, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, যারা ঘন্টার পর ঘন্টা নিজের মধ্যে থাকতে খুব ভালবাসেন, তারা খুবই বুদ্ধিমান হন।


মন্তব্য