kalerkantho


কর্মজীবন সম্পর্কিত যে ১০ উপদেশ আরো আগে জানলে বেশি খুশি হতেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:৩৮



কর্মজীবন সম্পর্কিত যে ১০ উপদেশ আরো আগে জানলে বেশি খুশি হতেন

আমরা সকলেই আমাদের অতীত ভুল এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিখি। এবং এই বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলি, ইস... বিষয়টি যদি আমি আরো আগে জানতাম... তাই না? কর্মজীবনে ‘নিষ্পাপ’ কোনো ভুলও সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে আন্তরিকতাশুন্য করে দিতে পারে।

এমনকি কর্মস্থলের প্রতিও আপনার আন্তরিকতায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে এর ফলে।

দশটি ভিন্ন ভিন্ন খাতের দশজন পেশাদার লোককে কর্মজীবন সম্পর্কে একটি করে উপদেশ দিতে বললে তারা যা বললেন...

১. “আমি যখন প্রথম চাকরিতে যোগ দেই তখন আমি সকলকেই ভালো-মনের মানুষ এবং বিনয়ী হিসেবেই ভাবতে অভ্যস্থ ছিলাম।   কয়েকজন সহকর্মীকে আমি খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবাও শুরু করি। কিন্তু যখন দেখলাম তাদেরই কয়েকজন আমার পেছনে আমাকে নিয়ে কটু কথা বলছে তখন আমি খুবই মর্মাহত হই। ওটাই ছিল কর্পোরেট দুনিয়া সম্পর্কে আমার প্রথম শিক্ষা। আর সেদিনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি পেশাগত জীবনে কাউকেই এবং সকলকে বিশ্বাস করা যাবে না। ’

২. “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কারোরই তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপন বিষয় বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা কর্মস্থলের কারো সাথে বলা উচিত নয়। কারণ আপনি কখনোই জানেন না পরের দিনই আপনার কর্মস্থলে কী ঘটতে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি কোনা দিকে গড়াবে। লোক বদলের সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো সময় সবকিছুই উল্টেও যেতে পারে।

৩. “পেশাগত জীবনের প্রথম দিন থেকেই আমি অনেক উচ্চাকাঙ্খী ছিলাম। এবং নিজের পেশাগত জীবনের উন্নয়ন ঘটানো যায় কীভাবে এবং আরো বেশি বেতন পাওয়া যায় কীভাবে সেসব নিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভাবতে অভ্যস্থ ছিলাম। কিন্তু চার-পাঁচ বছর পরে গিয়ে আমার মনে হল কেউ যদি শুরুতেই আমাকে শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া এবং স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দিত তাহলেই ভালো হত। এছাড়াও এখন আমার মনে হচ্ছে, নিজিকে আমি এই উপদেশ দিতাম, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি নিজের জীবনটাকেও যতটা পারো চুটিয়ে উপভোগ করে নিও’। ”

৪. “আমার পরামর্শটা খুবই সরল এবং কার্যকর। কারো পেছনে তার পিঠ কামড়ানো এবং গুজব ছড়ানো আপনাকে জনপ্রিয় করবে না। কাজ দিয়েই আপনাকে নিজের মূল্যটা প্রমাণ করতে হবে। ”

৫. “নিজের প্রতি আমার উপদেশটা হত কখনোই একটি বিশেষ ক্ষেত্রে আটকে থেকো না। কর্মজীবনে আপনার প্রথম বছরগুলোই আপনার পুরো কর্মজীবনের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিবে। সুতরাং নিজেকে নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। একটি ফিল্ডে আটকে না থেকে বরং আপনি যেসব করতে পারেন তার সবকটিতেই নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। উদারহণত, আপনি যদি কোনো কম্পানিতে স্টাইলিস্ট হিসেবে যোগ দেন তাহলে লেখালেখি এবং ইভেন্ট নিয়েও কাজ করুন। এবং এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও হাত চালিয়ে দেখতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার সক্ষমতাগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং বিকল্প অপশন এবং নানা অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন। এরপর যে কোনো একটি ফিল্ডে থিতু হয়ে শুধু তাতেই নিজের দক্ষতা বাড়ান। কিন্তু প্রাথমিক বছরগুলোতে আপনি সবকিছুই জানেন এমনভাবে কাজ করবেন!”

৬. “আমি নিজেকে নিজের সত্যিকার প্রতিভা কোন ক্ষেত্রে তা উপলব্ধি করার উপদেশ দিতাম। প্রথমদিকে শুধু বেতন নিয়ে ভাববেন না। বরং আরো বড় চিত্রটা দেখুন। আপনি যা করছেন তা যদি ভালোভাবে করেন তাহলে আপনি সফল হবেনই। কর্মজীবনের প্রথম দিকে সংগ্রাম করতে পারলে সাফল্য আসবেই। ”

৭. “প্রথম দিকে সহকর্মীরা আমার ব্যাপারে কী ভাবছেন তা নিয়ে আমি সত্যিই শঙ্কিত হতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আমি যদি আমার ২১ বছর বয়সী মনটাকে বলতে পারতাম, তোমার সহকর্মীরা তোমার ব্যাপারে কী ভাবছে তাতে কিছুই আসে যায় না। তোমার নিজেকেই তোমার সক্ষমতাগুলো কী তা বুঝতে হবে। এবং ঠিক কোথায় নিজের উন্নতি ঘটাতে হবে তাও খুঁজে বের করতে হবে। ”

৮. “এটা ছিল আমার প্রথম চাকরি। এবং আমি আমার এক সহকর্মীর সঙ্গে অনলাইন চ্যাটে বসকে নিয়ে গল্প-গুজব করি। পরে ওই সহকর্মী সেই চ্যাট আমার বসকে দেখায়। এতে আমার চাকরি চলে যায়। আগে বুঝতে পারলে আমি আমার তরুণ মনকে এমনটা না করতেই উপদেশ দিতাম। সেসময় আমি সত্যিই খুব আপসেট হয়ে পড়ি। তবে এখন আমি ওই ঘটনার কথা মনে করে শুধু হাসি। ”

৯. “আমার উপদেশ হতো ডেস্কের বাইরে বের হওয়া এবং সামাজিক মেলামেশা বাড়ানো। অফিসে নানা ইভেন্ট, পার্টিতে যোগ দিলে সঠিক লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আর নতুন নতুন লোকের সঙ্গে সম্পর্ক হলে আপনি নানাভাবে অনুপ্রেরণাও পাবেন। যা আপনার কাজের ক্ষেত্রে একদিন সহায়ক হবে। সুতরাং শুধু ডেস্কেই আঠার মতো লেগে থাকবেন না এবং সব পার্টি বা ইভেন্টকে না বলবেন না। ”

১০. “আমি এখনো নিজের মনেই এই উপদশেটি দৃঢ়ভাবে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছি। অফিস সম্পর্কিত যত মানসিক চাপ আছে তা অফিসেই ফেলে যাওয়া উচিত। এবং বাড়িতে গিয়ে শুধু আনন্দ-ফূর্তিতেই থাকা উচিত। কাজকে বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া বা বাড়িতে বসে কর্মস্থল সম্পর্কে ভাবা নিজের জীবনে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়াই উচিত। ”

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


মন্তব্য