kalerkantho


টিপস

পানি বিশুদ্ধকরণে মাথায় রাখা জরুরি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১১:০৮



পানি বিশুদ্ধকরণে মাথায় রাখা জরুরি

আমাদের দেশে বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত পানির অন্য নাম ‘জীবন’ দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না। পানি যদি বিশুদ্ধ না হয়, তাহলে তা অনেক ধরনের প্রাণঘাতী রোগ-বালাইয়ের কারণ হয়ে ওঠে। তাই অন্তত খাওয়ার আগে পানি বিশুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এসংক্রান্ত বিষয়গুলো একনজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে—

উৎসটা কী?
পানির উৎস সম্পর্কে জানতে হবে। ওয়াসার পানি ছাড়া বেশির ভাগ স্থানে মাটির নিচের পানিই ভরসা হয়ে ওঠে। মাটির নিচের পানি প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়। তত্ত্বগতভাবে একে বেশ পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ বলা হলেও তা পুরোপুরি সত্য নয়। গভীরের পানিতেও আর্সেনিকের মতো ভয়াবহ পদার্থ অতিমাত্রায় থাকতে পারে। আবার ওয়াসার পানিতেও বেশির ভাগ সময়ই দুর্গন্ধ আর ময়লা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ক্লোরিনের প্রভাবে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতিটা হলো, পানি যেখান থেকেই আসুক না কেন, একে বিশুদ্ধ করে নেওয়া।

 দায়িত্বটা আপনার ওপরই বর্তায়।

ফোটানো
যারা প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারে না, তাদের জন্য পানি ফোটানোর বিকল্প নেই। পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে ফোটাতে হবে। এতে জীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস হয় বটে, তবে সব রাসায়নিক উপাদান নষ্ট হয় না। ফোটানো পানিতে কখনো কখনো তলানিতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট জাতীয় উপাদানের দেখা মেলে। খনিজ উপাদানের কারণে পানি ঘোলাটে বা অপরিচ্ছন্ন দেখালে ছেঁকে নেওয়া যেতে পারে।

সফটেনার
পানের অযোগ্য পানি হলো 'হার্ড ওয়াটার'। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম থাকে। সফটেনার প্রয়োগ করা হলে ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামের স্থান দখল করে সোডিয়াম। এতে পানির স্বাদ খাবারযোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু তা নিরাপদ নয়। একান্ত বাধ্য হলে এমনটা করা যায়। আবার দুর্গত এলাকায় ওষুধ দিয়েও পানি খাবার যোগ্য করে তোলা হয়।

ডিস্টিলাইজেশন
প্রযুক্তি যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে এটিও বেশ কাজের পদ্ধতি। পানি ফোটালে বাষ্প হয়। সেই বাষ্প ধরে রাখতে হয়। ওটা আবার তরলেই ফিরে আসে। এতে করে অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া আর ক্ষতিকর পদার্থ ফোটানো পানিতেই থেকে যায়। তবে এটা অনেক ঝক্কির কাজ। অনেকটুকু পানি ফোটালে বাষ্প থেকে সামান্য পানি মেলে। আবার এটা যে শতভাগ বিশুদ্ধ তা বলা যায় না।

কারাফে ফিল্টার
এটা অনেকটা কফি পট ফিল্টারের মতো। এটা সাধারণ এক ফিল্টার। এটা পানির পাত্রের ওপর বসানো হয়। যন্ত্রটি হয়ে বিশুদ্ধ পানি বেরিয়ে আসে। এটি লিড, ক্লোরিন আর অন্য কিছু ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে পারে। তবে ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ সরাতে পারে না। এটা ব্যবহার করলে প্রতি মাসে এক বা দুই বার ভেতরের ফিল্টার বদলাতে হবে।

ফসেট ফিল্টার
এ ধরনের পদ্ধতিকে অনেক সময়ই কার্বন ফিল্টারও বলা হয়। পানি কার্বন বেডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আর কার্বন সব ময়লা টেনে নেয়। ফিল্টারগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে, যেন তা সরাসরি পানির কলের সঙ্গে লাগানো যায়। রান্নাঘরের সিংক কিংবা বেসিনের পানির লাইনের সঙ্গে এটা নিজেই বসিয়ে নিতে পারেন। এটা ক্লোরিন, লিড আর কিছু কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থ দূর করতে পারে। ক্রিপ্টোসপোরিডিয়ামের মতো কয়েকটি ব্যাকটেরিয়াকেও আটকে দেয়। আবার ক্ষতিকর নাইট্রেট আর কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিষয়ে পুরোপুরি অসহায়।

রিভার্স অসমোসিস 
এটাই পানি বিশুদ্ধীকরণের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। বাসার যেকোনো পানির লাইনের সঙ্গে লাগিয়ে নিলে আর চিন্তা নেই। এর কার্বন ফিল্টার আর মেমব্রেন একযোগে অধিকাংশ জীবাণু আর ক্ষতিকর উপাদান সরিয়ে ফেলে। ব্যাকটেরিয়া কিংবা রাসায়নিক পদার্থ পানি থেকে বের করে নিতে দারুণ কাজের। আবার অনেকে রিভার্স অসমোসিস সিস্টেমে আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির ব্যবস্থা থাকে। ওটা যেকোনো জীবাণু মেরে ফেলতে সক্ষম। পানি থেকে অধিকাংশ ফ্লুরাইডও সরিয়ে নেয়। তবে আরো কিছু রাসায়নিক পদার্থ হটাতে হয়তো আরো শক্তিশালী যন্ত্রের দরকার হবে। তবে সাপ্লাইয়ের যে পানি আসে, তাকে নিরাপদ করতে ছোটখাটো একটা মেশিনই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। এর ফিল্টার এবং মেমব্রেন নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলাতে হয়।  
আস্ক ডক্টর সিয়ার্স অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার


মন্তব্য