kalerkantho


ইফতারে রাখতে পারেন অ্যাভাকাডো

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৭ ১০:৫৭



ইফতারে রাখতে পারেন অ্যাভাকাডো

থেকে থেকে বৃষ্টি হলেও গরম কিন্তু খুব একটা কমেনি। দিনের দৈর্ঘ্যও এখন প্রায় সর্বোচ্চ।

তাই দীর্ঘ সংযমের পর ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া উচিত। তাই রমজানজুড়ে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ। আজ থাকছে বিদেশি ফল অ্যাভাকাডো। ভালো ফলের দোকান কিংবা সুপারশপে এই ফল পাওয়া যায়—
 

সুপারফুড : ভিটামিন আর পুষ্টিগুণের কারণে রকমারি ফলের মধ্যে অ্যাভাকাডো সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। পেয়ারার মতো সবুজ হলেও এই ফল আকারে নাশপাতির মতো। ফুড ক্যালরি পাল্লায় এর স্থান ওপরের দিকে। মনোস্যাটুরেটেড ফ্যাটি এসিড রয়েছে এতে। কাজেই কম চিনিযুক্ত ফল। শক্তির এই উেস মিলবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস ও জিংকের মতো জরুরি খনিজ আছে। ভিটামিন ‘সি’, ‘বি-৬’, ‘বি-১২’, ‘এ’, ‘ডি’, ‘কে’, ‘ই’, থিয়ামিন, রিবোফ্লাভিন আর নিয়াসিনের প্রাচুর্য এই ফলে রয়েছে। একটি অ্যাভাকাডো থেকে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৪০ শতাংশ ভক্ষণযোগ্য ফাইবার পাওয়া সম্ভব।

হজম : অ্যাভাকাডো প্রথমে অন্ত্রকে মসৃণ করে। এরপর হজমে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। খাওয়া যায় এবং অখাদ্য—উভয় ধরনের ফাইবার রয়েছে এতে। এগুলো হজমের পর মল বাড়াতেও সহায়তা করে। পাশাপাশি এই ফল পাকস্থলী ও হজমপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে যেকোনো পুষ্টি উপাদানকে পরিপূর্ণভাবে শুষে নিতে দেহকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়। অবশেষে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া নিরাময়ে কাজ করে।

দাঁত : মুখের বাজে গন্ধ তাড়াতে বেশ উপকারী অ্যাভাকাডো। আসলে হজমে ব্যাঘাত ঘটলেই বাজে গন্ধের সৃষ্টি হয়। মুখে দুর্গন্ধের এ রোগের নাম ‘হ্যারিটোসিস’। অ্যাভাকাডোর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্লেভোনয়েডের কারণে মুখের বাজে ব্যাকটেরিয়া বিদায় নেয়। মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়।

ত্বক ও চুল : স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে অ্যাভাকাডো এক দারুণ পথ্য। শুষ্ক ও ফাটা ত্বকেও উপকার মিলবে। চুলের যত্নেও অনন্য। এ কারণে অনেকে ত্বক ও চুলে মাস্ক হিসেবে অ্যাভাকাডোই বেছে নেয়। এই ফলে আছে প্রচুর অর্গানিক উপাদান। এসব উপাদান অকালে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

লিভার : এখানেও জাদু দেখায় অ্যাভাকাডোর অর্গানিক উপাদান। ক্ষতিগ্রস্ত লিভারের যত্ন নেয়। সাধারণত হেপাটাইটিস সি-এর কারণে লিভার আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশ কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে আপনার লিভারকে অনায়াসে সুরক্ষা দেবে অ্যাভাকাডো।

চোখ : লুটেইন আর জিয়াজানথিনের মতো ক্যারোটেনয়েড রয়েছে অ্যাভাকাডোতে। এগুলো চোখের দেখভাল করে। বয়সের কারণে চোখে নানা রোগ দেখা দেয়। ছানি পড়া থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তি কমে আসার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করে এই ফল।

ভিটামিন ‘কে’ : এই ভিটামিনের অভাব খুব সাধারণভাবেই দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু জন্মের সময় এই ভিটামিনের অভাবে ঘটতে পারে রক্তপাত বা ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং (ভিকেডিবি)। অ্যাভাকাডো কিন্তু এই বাজে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘কে’।

অর্গানিক ফ্যাক্টস অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

 


মন্তব্য