kalerkantho


বাবা-মার খারাপ ব্যবহারের ভালো-মন্দ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাবা-মার খারাপ ব্যবহারের ভালো-মন্দ

জীবনে চলার পথে আমাদের সবাইকেই দুঃখের সাগর পার হতে হয়। কেই তা সহজে পারে।

আর কারও করও ক্ষেত্রে বাজে সময় যেন কাটতেই চায় না। এই লেখায় এক অন্য ধরনের দুঃখ নিয়ে আলোচনা করা হবে। অনেক বাচ্চাই বাবা-মা এর ঝগড়ার মাঝে পড়ে যান। ফলে তাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা এই ঝামেলা নিতে না পেরে ভুল পথে ধাবিত হয়। ফলে সমস্যা যেন কমার নামই নিতে চায় না। এই লেখায় এমন কতগুলি পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে বাচ্চাদের পক্ষে অনেক সুবিধা হবে বাবা-মায়ের ঝামেলা এড়িয়ে সুন্দরভাবে জীবন গড়ে তুলতে।

অনেক বাবা-মাই জোর করে বাচ্চাদের উপর তাদের মতামত চাপিয়ে দেন। এমনটা করা একেবারেই উচিৎ নয়।

বাচ্চারা একটা সময়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই বাবা-মা যদি অকারণে তাদের বাচ্চার উপর চাপ তৈরি করেন তাহলে ফল হবে উলটো। সেই সঙ্গে বাচ্চাদেরও একটা বিষয় বুঝতে হবে যে জীবনে অনেক অসুবিধা আসবে, তাই বলে কী তারা সারা জীবন সেই দুঃখের সময়কে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। এই অভ্যাস কিন্তু ছাড়তে হবে। ভুলে গেলে চলবে না দুঃখজনক অতীত কিন্তু বর্তমানকেও নষ্ট করে দেয়। তাই বাবা-মাকে দোষ দেওয়া ছেড়ে নিজেই ভাবো, কীভাবে বেড় হওয়া যায় এই খারাপ পরিস্থিতি থেকে। তাহলেই দেখবে খারাপ সময়টা পেছনে পড়ে থাকবে, আর তুমি ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। চলো তোমাদের জন্য থাকল এমন কিছু পরামর্শ, যা বাবা-মার ঝামেলা থেকে বেরিয়ে আসতে তোমাদের সাহায্য় করবে।

১) ভালো কিছু খুঁজে বের করোঃ তোমাদের কি জানা আছে বাবা-মার খারাপ ব্যবহারের  মধ্যেও অনেক ভালো কিছু আছে? একথা সব সময় মনে রাখবে যে যত দুঃখের মধ্যে দিয়ে যাবে, তত তোমার মানসিক জোর বাড়বে। ফলে আগামীদিনে জীবনের চলরা পথ অনেকটাই মসৃণ হয়ে যাবে। তাই বাবা-মাকে দোষ দেওয়া ছেড়ে দাও। বরং তাদের ধন্যবাদ জানাও যে তাদের ঝামেলার মধ্যে বড় হতে হতে তোমরা প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠেছো।  
২) বাবা-মাও কিন্তু মানুষঃ এটা তোমাদের মনে রাখতে হবে যে তোমাদের বাবা-মাও কিন্তু মানুষ এবং তারা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন তোমাদের ভালোভাবে বড় করার জন্য। তাই যখনই বাবা-মাকে খারাপ ব্যবহার করতে দেখবে, তখন ভাববে, তারাও হয়তো ছোট বেলায় খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছেন, তাই হয়তো তারা এমন স্বভাবের হয়ে গেছেন। যখনই দেখবে এই সরল সত্যিটা তোমরা বুঝে গেছো, তখন আর বাবা-মার প্রতি রাগ জন্মাবে না।

৩) নিজের দিকে তাকাওঃ বাবা-মার খারাপ ব্যাবহারের থেকে বাঁচতে আরও একটা সহজ রাস্তা আছে। প্রতি মুহূর্তে নিজের দিতে তাকাও। বোঝার চেষ্টা কর কীভাবে তাদের ব্যাবহার তোমাকে খারাপ করে দিচ্ছে। তুমি কি সবসময়ই এমন বিদ্রোহী? সব সময়ই কি মনে হয় আর কিছু করার নেই? তাহলে আজ থেকেই নিজেকে সামলাতে শুরু করো। আর ভাবো কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় এই ঝামেলা থেকে। খারাপ মনকে ভালো করার একটাই উপায় আছে। তা হলো নিজেকে ব্যস্ত রাখা। নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে শুরু কর। কখনই নেশায় জড়িয়ে জীবন নষ্ট করে দেবে না।  

৪) মনের কথা বলে ফেলঃ বাজে চিন্তা যত মনের মধ্যে থাকবে, তত ভেতরটা বিষিয়ে যাবে। তাই মনের কথা উজার করে বলে ফেল। কোনো খারাপ কথা বা চিন্তা নিজের মধ্যে রাখবে না। এমনটা করলে দেখবে মানসিক শান্তি আসবে। তাই এবার থেকে মন খারাপ হলে এমন কারোর কাছে যাও, যাকে তুমি বিশ্বাস করতে পারো। আর তাকে বলে ফেল সব মনের কথা। দেখবে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।


মন্তব্য