kalerkantho


ঢাকা শহরে সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগের ১০ উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:২১



ঢাকা শহরে সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগের ১০ উপায়

ঢাকা এখন আর কোনো ঘুমন্ত শহর নয়। বাংলাদেশের এই রাজধানী শহরটি এখন দ্রুত বেড়ে চলা একটি মহানগরী। এতে এখন সব ধরনের মানুষের জন্যই বিস্তৃত সব কার্যক্রম রয়েছে। খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা।
৪০০ বছর আগে যাত্রা শুরু করা ঢাকা মহানগরী এখনো বিকশিত হয়ে চলেছে। এবং নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল মহানগরীগুলোর একটি হিসেবে সামনে এগিয়ে চলছে।
ঢাকার পুরোনো এবং নতুন অংশ মিলিয়ে এমন কিছু স্থান ও তৎপরতা আছে যেসবের মাধ্যমে যে কোনো নির্বাহী তাদের সাপ্তাহিক ছুটি পরমানন্দে উপভোগ করতে পারেন।
১. জাতীয় স্মৃতি সৌধ পরিদর্শন- এটি হলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের সাহস ও ত্যাগের প্রতীক। এই স্মৃতিস্তম্ভটি ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারে অবস্থিত।
আপনি একবার ওই স্থানে পৌঁছানোর পর নির্মলতা এবং প্রশান্তির অনুভূতি আপনার মনকে ছেয়ে যাবে। এতে আমাদের দেশের লোকেরা যে আত্মত্যাগ করেছেন তা আপনাকে একজন সত্যিকার বাংলাদেশি হওয়ার একটি গভীর উপলব্ধি এনে দেবে।


পরিদর্শনের সময়: সকাল ৭টা থেকে ৬টা।
প্রবেশ ফি: বিনামূল্যে
কীভাবে যেতে হবে: সাভার ঢাকার শিল্প এলাকাগুলোর একটি। ফলে বাসযোগেই সাভার যাওয়া যায়। তবে নিজের গাড়ি বা ট্যাক্সি থাকলে তা ব্যবহার করাই ভালো। বাসগুলো সাধারণত কোনো সময়সুচি মেনে চলে না। আর বাসে যেহেতু প্রচুর লোক গাদাগাদি চড়ে সেহেতু স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য বাস এড়িয়েই চলা উচিৎ।
২. জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশটা ঘুরে আসুন
কিংবদন্তী স্থপতি লুই আই কানের সৃষ্টি সেরা স্থাপনাগুলোর একটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। এর প্রধান ভবনটির প্রবেশ পথ শুধু সংসদ সদস্যদের জন্যই সংরক্ষিত। কিন্তু কমপ্লেক্সটি সবার জন্যই উম্মুক্ত। কমপ্লেক্সটির উত্তরে লেক রোড বরাবর একটি কৃত্রিম লেক আছে যেটি ক্রিসেন্ট লেক নামে পরিচিত।
৩. সোনারগাঁও: ঢাকার অদুরেই বাংলাদেশের পুরোনো রাজধানী শহর এটি। এই শহরটি এখনো এর ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং পুরোনো শিল্প সৌন্দর্য্য নিয়ে শক্তিশালিভাবে দাঁড়িয়ে আছে। যা বর্তমান রাজধানী শহর ঢাকা এবং এর উঁচু ভবনগুলোর প্রতি এখনো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। পুরোনো এই শহরটিকে ঘিরে রয়েছে শান্তি ও নিস্তব্দতা। এতে রয়েছে বারো ভূইয়াদের রাজা ঈশা খাঁর প্রাসাদ। যা এখন বাংলাদেশের একটি লোক সংস্কৃতি যাদুঘরে পরিণত হয়েছে। এই যাদুঘরটি জাতীয় যাদুঘর থেকে খুব বেশি ভিন্নকিছু নয়। তবে এর চারপাশটা আরো বেশি উপভোগ্য। একটি সুন্দর পুকুরে ঘেরা এই স্থানটি বন্ধুদের নিয়ে ঘোরার জন্য একটি আদর্শ জায়গা। তবে দৃষ্টিনন্দন পানাম নগরীটি পরিদর্শনের কথাও ভুলে যাবেন না যেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে গেলেই সহজে পৌঁছানে যাবে সোনারগাঁওয়ে।
৪. লালাবাগ দুর্গ: লালাবাগ দুর্গটি তৈরি হয়েছিল ১৬৭৮ সালে। এর নির্মাতা ছিলেন, মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ আজম। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৮৫৭) সময়কার এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সাক্ষ্য বহন করছে এই দুর্গ। এই দুর্গে অবস্থানকারী সিপাহীরা স্থানীয় জনগনের সহায়তায় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। বাংলাদেশ সেসময় ভারতের অংশ ছিল। এই দুর্গেই রয়েছে পরী বিবির মাজার, লালবাগ মসজিদ, নওয়াবদের দরবার কক্ষ প্রভৃতি।
কীভাবে যাবেন: আজিমপুর পেরিয়ে গেলেই পুরোনো ঢাকায় লালবাগ দুর্গের দেয়ালগুলো নজরে পড়বে।
৫. ঢাকা শহরজুড়ে রিকশায় ভ্রমণ করুন: রিকশাদের সরব উপস্থিতির কারণে ঢাকা শহরটি হয়তো আপনার কাছে অনেক সময় একটি ভয়ঙ্ক দুঃস্বপ্নের মতোই লাগতে পারে। কিন্তু এতে ভড়কে যাবেন না যেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো রিকশা। আপনি এই যানটিতে যতই অভিশাপ দেন না কেন একটা সময়ে গিয়ে সকলেই নির্মল আনন্দ এবং পুরোনো স্মৃতি চারণের জন্য এই যানটিতে চড়ে বসেন। সুতরাং গাড়িতে না চড়ে বরং রিকশায় ভ্রমণ করে একটু প্রাকৃতিক আলো-বাতাস গায়ে লাগান।
৬. পুরোনো ঢাকায় খাবার খাওয়া: পুরোনো ঢাকায় প্রবেশ করলে পেটুকদের জন্য বয়ে আসবে এক পাপিষ্ঠ সুখ। এক প্লেট সাদামাটি তেহারি থেকে শুরু করে জিভে জল এনে দেওয়া মুড়ি ভর্তাসহ এখানে স্বাস্থ্য সচেতন থেকে শুরু করে ভুরিভোজকারী সকলের জন্যই রয়েছে রনসাবিলাসের সুযোগ।
৭. হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন: খুব সকাল বেলায় এবং সন্ধ্যায় রাস্তায় বের হলেই আপনি দেখতে পাবেন যে ধানমণ্ডি, গুলশান লেক, রমনা পার্ক এলাকায় প্রচুর লোকে হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করছেন। আপনারও নিজের দেহটাতে একটু হাঁটাহাঁটি এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করা দরকার নিশ্চয়। আর এই অভ্যাসটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর ফল বয়ে আনবে। তবে কাজটি দলবদ্ধভাবে করুন। কারণ প্রথম প্রথম আপনার কাছে কাজটি বেশ একঘেঁয়ে লাগতে পারে।
৮. শহীদ মিনারে বিচরণ করুন: এই স্মৃতি স্তম্ভটির দিকে তাকিয়ে হয়তো আপনি খুব একটা আনন্দ পাবেন না। কিন্তু আপনি যখন শহীদ মিনারটি নির্মাণের পেছনের ইতিহাস জানতে পারবেন তখন আপনি বিস্মিত না হয়ে পারবেন না। আপনি ভাষা শহীদদেরকে সালাম জানাতে বাধ্য হবেন। শহীদ মিনারের পাঁচটি স্তম্ভ তৈরি হয়েছে খাঁটি মার্বেল পাথর দিয়ে। যা ১৪ ফুট উঁচু একটি বেদির উপর স্থাপিত। আর এর দুপাশের সীমানা দেয়ালগুলোতে বিখ্যাত কবিদের কবিতা খোদাই করা আছে লৌহবর্ণে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত।
৯. ঢাকা শহরের কোনো একটি স্পা-তে যান: আন্তর্জাতিক স্পা অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএ) স্পা-কে এমন একটি জায়গা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যেখানে নানা ধরনের পেশাদার সেবার মাধ্যমে দেহ-মন এবং চেতনার পুনর্জাগরণ সম্ভব। স্পা আমাদেরকে আমাদের মনের শক্তিশালি রোগ নিরাময় উপাদান বা বৈশিষ্টগুলো থেকে উপকারিতা অর্জনে সহয়তা করে। এমনকি আমরা বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও এই উপকারিতা অর্জিত হয়।
১০. নিউমার্কেটে শপিং করুন: নারী-পুরষ উভয়ের জন্যই শপিং একটি মহা রোগ নিরাময়ী উপাদান হিসেবে কাজ করে। নিউ মার্কেট ঢাকার নতুন মার্কেটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো একটি। এটি তৈরি করা হয় ১৯৫৬ সালে। এটিই ঢাকা শহরের প্রথম পরিকল্পিত মার্কেট। এটি তৈরি করেছিলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার। ১৯৫০ সালে প্রস্তুতকৃত ঢাকা শহরের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী এটি নির্মাণ করা হয়।
এই কমপ্লেক্সটি সবসময়ই আশেপাশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য আড্ডা দেওয়ার একটি জনপ্রিয় স্থান ছিল। এর মাঝখানের খোলা উদ্যানটিতে ১৯৯০ সালে আরো বেশ কিছু সংখ্যক দোকান এবং একটি মসজিদ স্থাপন করা হয়।


মন্তব্য