kalerkantho


শিশুর দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১১:৩৬



শিশুর দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে নিয়মগুলো মেনে চলুন

দুর্ঘটনায় যেন শিশুর কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য সব বাবা-মায়েরই সতর্ক থাকা উচিত। আর এজন্য শিশুর নিরাপত্তার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত সব বাবা-মায়েরই। এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলো এ লেখায়-
১. নিরাপদে ঘুমানোর জন্য শিশুকে চিৎ করে ঘুম পাড়াতে হবে। উপুড় হয়ে ঘুমাতে দেওয়া যাবে না।
২. পাড়যুক্ত ও অতিরিক্ত কাপড়ের কম্বল শিশুর মুখ ঢেকে ও শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিশু ঘুমানোর সময় যথাসম্ভব সাধারণ সামগ্রী ব্যবহার করুন।
৩. ঘুমানোর সময় শিশুর কাছে বাড়তি কোনো জামাকাপড়, টুপি ও খেলনা রাখা যাবে না। এগুলো মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
৪. শিশু যেন হঠাৎ করে সিঁড়িতে যেতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে সিঁড়িতে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা দরজা বসান।
৫. শিশুকে যদি উঁচু চেয়ারে বসাতে হয় তাহলে বেল্টসহ চেয়ার ব্যবহার করুন এবং সেখানে বসলে বেল্টে আটকে রাখুন।

এছাড়া এ চেয়ার নিরাপদ ও সমতল মেঝেতে বসান। অন্য কোনো ফার্নিচারের ওপরে বসাবেন না।
৬. শিশু নতুন হাঁটা শিখলে কিংবা বেবি ওয়াকার ব্যবহার করলে তাকে বৈদ্যুতিক তার, গরম জিনিসপত্র, সিঁড়ি ও অন্যান্য বিপদ থেকে নিরাপদ রাখুন।
৭. শিশুর ওপর পড়ে যেতে পারে এমন কোনো ফার্নিচার বা জিনিসপত্র থাকলে তা দেয়ালের সঙ্গে বা অন্য কোথাও ভালোভাবে আটকে দিন।
৮. শিশুদের প্রায়ই ছোট ছোট জিনিস মুখে দেওয়ার অভ্যাস থাকে, যা শ্বাসরোধের কারণ হতে পারে। তাই শিশুকে খুব ছোট খেলনা দেবেন না।
৯. পাঁচ বছর হওয়া পর্যন্ত শিশুর খাবারে সতর্ক থাকতে হবে যেন তা গলায় আটকে না যায়।
১০. দেশলাই ও লাইটার শিশুর হাত থেকে নিরাপদ রাখুন। এ ধরনের কোনো ডিভাইস যেন খেলনাসদৃশ্য না হয়।
১১. রান্নার চুলা, ইস্ত্রি, হেয়ার ড্রায়ার ও এ ধরনের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহারের সময় সতর্ক হোন। শিশু যেন এগুলো নিয়ে খেলা করে বিপদ ডেকে না আনে সেজন্য ব্যবহার শেষে যতটা সম্ভব লুকিয়ে রাখুন।
১২. সবধরনের ওষুধ শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। শিশু যদি কোনো ওষুধ খেয়ে ফেলে তাহলে তাকে বমি করানোর চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১৩. ব্যাটারি, ঘড়ি, রিমোট কন্ট্রোল, মোমবাতি, লেজার পয়েন্টার, টর্চ ইত্যাদি ও এগুলোর ব্যাটারি শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।
১৪. আপনার বাড়ির নিকটবর্তী চিকিৎসক ও ফার্মেসির ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন যেন জরুরি প্রয়োজনে পরামর্শ ও সেবা নেওয়া যায়।
১৫. বাড়িতে থাকা পানির ড্রাম, বড় বালতিসহ যে কোনো পানিতে যেন শিশু পড়ে না যায় সেজন্য সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে এগুলো ঢেকে বা ঘিরে রাখুন।
১৬. শিশুকে অল্প বয়সেই সাঁতার শেখান। তবে সাঁতার শেখার পরও পানি নামার সময় বড় কাউকে সতর্কভাবে সঙ্গে থাকতে হবে। পানিতে মাত্র এক মিনিটের অসতর্কতাতেই জীবনহানি ঘটাতে পারে।
১৭. শিশু যদি সাইকেল বা রোলার স্কেটার চালায় তাহলে সর্বদা হেলমেট পরা অভ্যাস করান।
১৮. রাস্তায় সাইকেল বা স্কেটার চালানোর আগে ব্রেক ও গিয়ারের কার্যক্রম এবং রাস্তার সাধারণ নিয়মকানুন শিখিয়ে দিন।
--ব্রাইট সাইড অবলম্বনে ওমর শরীফ পল্লব


মন্তব্য