kalerkantho


উচ্চ সফলরা ১৫টি বিস্ময়কর কাজ ভিন্নভাবে করেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৪৬



উচ্চ সফলরা ১৫টি বিস্ময়কর কাজ ভিন্নভাবে করেন

২০০ উচ্চ উৎপাদনশীল লোকের নেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে এই ১৫টি বিষয় বেরিয়ে এসেছে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফোবর্সের এক প্রতিবেদক।

যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাতজন শতকোটিপতি, ১৩ জন অলিম্পিয়ান, ২০ জন এ গ্রেডের শিক্ষার্থী এবং ২০০ জন উদ্যোক্তা। তাদেরকে একটি মুক্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল, 'আপনার উৎপাদনশীলতার প্রধান রহস্য কী?' তাদের সকলের উত্তর থেকে ১৫টি অনন্য ধারণা সংকলন করা হয়।

১. উৎপাদনশীল লোকরা ঘণ্টা নয় বরং মিনিটের ওপর নজর দেন
গড়পড়তা উৎপাদনশীলরা ঘণ্টা এবং হিসেব করে কাজ করেন। আর উচ্চ সফলরা জানেন প্রতিদিনে আছে ১৪৪০ মিনিট। আর সময়ের চেয়ে বেশি মূল্যবান আর কিছুই হতে পারে না। সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না।

২. তারা শুধু একটি মাত্র জিনিসের ওপর মনোযোগ দেন
উচ্চ উৎপাদনশীল লোকরা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কী তা জানেন। আর সে কাজের পেছনে প্রতিদিন সকালে এক বা দুই ঘণ্টা ব্যয় করেন।

৩. তাদের কোনো পূর্বনির্ধারিত কাজের তালিকা থাকে না
কাজের তালিকা ছুড়ে ফেলুন। এর পরিবর্তে বরং সবকিছু ক্যালেন্ডারে শিডিউল করুন। কারণ, দেখা গেছে যে, কার্যতালিকা করা হলে তার ৪১ শতাংশই আসলে কখনো আর করা হয় না। আর এই না করা কাজগুলো মানসিক অবসাদ এবং নিদ্রাহীনতা সৃষ্টি করে।

৪. তারা নিজের ভবিষ্যৎ সত্ত্বাকে বিবেচনায় রেখে কাজ করেন
আপনার ভবিষ্যৎ সত্ত্বাকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বদলে যাই। আজ হয়ত আমরা সবজি কিনলাম এই ভেবে যে পুরো সপ্তাহ আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার খাব। কিন্তু দেখা গেল কয়েকদিন পর আর করছি না। ফলে সবজিগুলো ঘরে পড়ে থেকে পচে গেছে। সুতরাং সফল লোকরা আগে ভাগেই চিন্তা করেন ভবিষ্যতে কীভাবে তাদের নিজস্ব সত্ত্বা নিজেরে সঙ্গেই প্রতারণা করতে পারে। আর সেই চিন্তার ভিত্তিতেই তারা তাদের ভবিষ্যত স্বত্ত্বাকে পরাস্ত করার জন্য একটি সমাধান খুঁজে বের করেন।

৫. রাতের খাবার তারা বাড়িতেই খান
উচ্চ সফল লোকরা জানেন তারা তাদের জীবনের কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। তা অবশ্যই তাদের কাজ। তবে অনেকের কাছেই কাজের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ব্যায়াম করা এবং প্রতিদান দেওয়া। আর প্রতিটা কাজের জন্য তারা দিনের একটা সময় বরাদ্দ রাখেন।

৬. তারা নোটবুক ব্যবহার করেন
উচ্চ উৎপাদনশীল লোকরা সব সময়ই সাথে একটি নোটবুক রাখেন। এবং গুরুত্বপূর্ণ যা কিছু ঘটে সব তাতে লিখে রাখেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে এমন কিছু অমূল্য শিক্ষা পাওয়া সম্ভব যা ব্যবসায় বিদ্যালয়েও পাওয়া যায় না।

৭. প্রতিদিন তারা মাত্র অল্প কয়েকবার ই-মেইল চেক করেন
উচ্চ উৎপাদনশীল লোকরা দিনভর ই-মেইল চেক করেন না। বরং দিনের নির্দিষ্ট একটা সময়ই শুধু তারা ই-মেইল চেক করেন। এবং খুব দ্রুত ও কার্যকারিতার সঙ্গেই তা করেন।

৮. যেকোনো মূল্যে মিটিং এড়িয়ে চলেন
অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা ছাড়া তারা কোনো মিটিং করেন না। তাদের মতে মিটিং হলো সবচেয়ে কুখ্যাত সময় নষ্টকারী। মিটিং শুরু হয় দেরিতে এবং এতে থাকেনও ভুল লোকরা। তাদের মতে সুযোগ পেলেই মিটিং এড়িয়ে চলা উচিত। আর যত কম সম্ভব তত কম মিটিং করা উচিত। এ ছাড়া নিজে কোনো মিটিং করলে তা স্বল্প সময়ে শেষ করারই পরামর্শ দেন উচ্চ সফলরা।

৯. তারা নিজেদের কাজের বাইরের প্রায় সবকিছুর প্রতিই 'না' বলেন
শতকোটিপতি ওয়ারেন বাফেট বলেন, "সফল লোক এবং খুব সফল লোকদের মধ্যে পার্থক্য হলো খুব সফলরা নিজেদের কাজের বাইরের প্রায় সবকিছুর প্রতিই 'না' বলেন। মনে রাখবেন, প্রতিদিন আপনার কাছে মাত্র ১,৪৪০টি মিনিট আছে। আর সহজেই ওই মিনিটগুলো হাতছাড়া করবেন না। ''

১০. তারা ৮০/২০ নিয়ম অনুসরণ করেন
প্যারেটো তত্ত্ব অনুযায়ী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৮০% ফলাফল আসে ২০% তৎপরতা থেকে। উচ্চ উৎপাদনশীল লোকরা জানেন কোন তৎপরতাগুলো থেকে সেরা ফল আছে। আর সেগুলোর ওপরই তারা মনোযোগ দেন এবং বাকি সব অগ্রাহ্য করেন।

১১. তার প্রায় সবকিছুরই প্রতিনিধিত্ব করেন
উচ্চ উৎপাদনশীলরা জিজ্ঞেস করেন না, 'আমি কীভাবে এই কাজটি করব?' এর পরিবর্তে তারা বরং জিজ্ঞেস করেন, 'এই কাজটি কীভাবে করা সম্ভব?' তারা সব সময়ই একটি নৈর্ব্যক্তিক অবস্থান বজায় রাখেন। তারা সবকিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে চান না বা ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনার অভ্যাসও নেই তাদের।

১২. সপ্তাহের দিনগুলোকে তারা বিশেষত্ব দেন
উচ্চ সফল লোকরা প্রায়ই প্রধান প্রধান বিষয়গুলোতে ফোকাস করার জন্য সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন থিম দেন। যেমন এক বিলিয়নিয়র বলেন, গত কয়েক দশক ধরে আমি সোমবারটি ব্যবহার করছি মিটিংয়ের জন্য। আর আমার শুক্রবার বিকেলগুলো ব্যবহৃত হয় অর্থায়ন এবং প্রশাসনিক কাজে।

১৩. কোনো জিনিস তারা মাত্র একবারই স্পর্শ করেন
কোনো একটি ই-মেইল একবার দেখার পর দ্বিতীয়বার আর সেটি খোলেন না। একবারেই সেটি পড়া এবং উত্তর দেওয়ার কাজ সারেন তারা। এভাবে যেকোনো জিনিস নিয়েই তারা একবারের বেশি দুইবার মাথা ঘামান না। ফলে তারা অযাচিত মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকেন।

১৪. তারা একটি সঙ্গতিপূর্ণ সকালবেলার রুটিন চর্চা করেন
উচ্চ সফলরা প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর নানা তৎপরতার একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন। তার সকালে তাদের দেহটি পানি দিয়ে সযত্নে লালন করেন। স্বাস্থ্যকর নাশতা করেন এবং হালকা ব্যায়াম করেন। তারা তাদের মনের যত্ন নেন মেডিটেশন বা প্রার্থনার মাধ্যমে, অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ে এবং পত্রিকা বা জার্নাল পড়ে।

১৫. কর্মশক্তিই সব
আপনি হয়তো দিনের মিনিটের সংখ্যা বাড়াতে পারবেন না। কিন্তু আপনি চাইলে আপনার কর্মশক্তি বাড়াতে পারেন। যার ফলে আপনার অভিনিবেশ, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়বে। উচ্চ সফলরা কোনো বেলায় খাবার না খেয়ে, না ঘুমিয়ে থাকেন না। বা বিরতি গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন না। বরং তারা খাবারকে জ্বালানি, ঘুমকে শক্তি পুণঃসঞ্চয়ের উপায় হিসেব বিবেচনা করেন। আর কাজের ফাঁকে বিরতি গ্রহণকে কর্মোদ্যম বাড়ানোর উপায় মনে করেন।
সূত্র : ফোবর্স


মন্তব্য